প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৪
পাঠক ফোরামের কবিতা

আকিব শিকদার গুরু, একটু অলোক দাও...
তোমার পদধ্বনিতে ঘুমভাঙানিয়া সুর, তোমার চিন্তিত নিশ্বাস
যেন দুঃখ-তাড়ানিয়া গান, তোমার মশাল
জগতের যাবতীয় অন্ধকার দূরীভূত করে গেছে চিরকাল।আজ দুর্দান্ত দুর্দিনের ধোয়াটে অন্ধ গুহায়
গুরু, একটু আলোক দাও... তোমার অনল
থেকে যেন বঞ্চিত না হয় আমার মশাল।শেষ সাধ
বড়ো সাধ ছিলো একবার জীবনে শুধু একবার
আমার স্বজনদের লাগি আমার স্বদেশের লাগি
উজ্জ্বল কিছু একটা যাবো করে। দিবা-নিশি বহুবার
ভেবে ভেবে ঘুমের মাঝে শ্বাসরুদ্ধ উঠেছি জাগি
দুঃস্বপ্ন দেখার মতো। তারপর মনে হলো
আমার জীবন গেছে চলে, হলো না কিছুই করা
আমার স্বজন আমার স্বদেশ আমারে বেসেছে ভালো
প্রতিদানে তার দেইনি কিছুই পায়নি কিছুই বসুন্ধরা।যখন ফুরাবে এ পথচলা মৃত্যুর শেষে
শ্মশান কাঁদিয়ে জাফরানী চিতা নিভে যাবে
আমার দেহের ধূসর ছাই তোমরা উড়িয়ে দিও ঘাসে
মৃত্তিকা উর্বর হবে আমার স্বদেশ আমার পৃথিবী কিছু পাবে।আবু ইউসুফ এটাই চিরন্তন
ভুলে যায় চাঁদ ভুলে যায় কিরণ, ভুলে যায় শেষ রাত অবশেষে ভুলে থাকা হয় না, ফিরে আসে নতুন রূপে।
নিশ্চুপ থাকি আমি
আমি ঘুরে আসি কথা না বলে
তবুও কথা শুরু হয়ে যায় নতুনভাবে।তবু তুমি ফিরে আসো বারবার,
আমার হৃদয়ের আয়নায়
কতদিন পার হয়েছে
যুগ পার হয়ে দুই যুগের পথে হাঁটছি
তবু তোমার ছায়া আমাকে মাড়িয়ে যেতে হয়
এটাই চিরন্তন।মো. তানজিদ কোতয়াল অদৃশ্য ভালোবাসা
কতদিন দেখি তোমায়, পথ চলতে চলতে,
চোখে চোখ পড়ে যায়, হৃদয় ওঠে দুলতে।
কথা বলা হয়নি আজও, জানি না কী নাম,
তবুও তোমায় ভেবেই কাটে সকাল-বিকাল।এক অজানা মায়ায়, বেঁধেছ আমায়,
প্রতিদিন দেখি তোমায়, এক নতুন আশায়।
তোমার হাসিতে যেনো ফোটে হাজার ফুল,
তোমার চাহনিতে কাটে সব ভুল।যদি জানতে পারতে, কত ভালোবাসি তোমায়,
লুকিয়ে রেখেছি এই মন, শুধু তোমারই আশায়।
একবার যদি তুমি, ফিরে তাকাতে আমার পানে,
বুঝতে পারতে কত প্রেম জমে আছে এই প্রাণে।কথা না বলেও, যদি বোঝাতে পারতাম,
আমার এই নীরব ভালোবাসা, শুধু তোমারই নাম।
আশা করি এই কবিতা, তোমার মনে দেবে দোলা,
আর তুমিও খুঁজবে আমায়, এই নীরবতার খেলা।এম আর এম শোভন তামাশা
মানুষের অভিনয়ের দুখে
ইজ্জত হারালো তামাশা,
দুনিয়ার এই রঙ্গ মঞ্চে—
সবাই অভিনেতা শ্রোতা কই।মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে মুখ,
চলছে নিপুণ অভিনয়ের খেলা,
মিথ্যা হাসিতে ঢেকে রেখে দুখ,
কাটছে মানুষের দিন ও বেলা।সত্যের আলোয় পড়ে গেছে ছায়া,
বুকের ভেতর জমেছে পাষাণ,
স্বার্থের টানে শুধু অভিনয় কায়া,
মানবতা আজ নিঃশ্বাসে ম্লান।আমরা সবাই যে কুশীলব এখানে,
রঙমঞ্চে নিত্য সাজাই সাজ,
হাসি-কান্নার এই ফাঁকা অডিটোরিয়ামে,
তামাশাই যেন আমাদের সেরা কাজ!সংসার যেন এক পুতুলখেলা,
নাটক শেষে পড়ে যায় পর্দা,
সব তামাশার অবসান হলে—
হাতে থেকে যায় কেবল শূন্যতা!এম. এম. শরফুদ্দিন পুরুষ
আমি বাকরুদ্ধ, আমি হতভাগ, আমি অবাক
আমার জবানিতে আসে না কথা, আমি নির্বাক।
ওরে হায়েনার দল, কলঙ্কিত নরপিশাচ
কোটি প্রাণ তোদের ধ্বংসে করবে উল্লাস।
অসহায় নারীর ক্রন্দনের ধ্বনি যখন
উন্মুক্ত বাতাসে, হতাশায় স্তদ্ধ জাতি তখন।
প্রতিবাদের আগুন জ্বলিবে লক্ষ-কোটি প্রাণে
নিধনের বিধান কার্যকর চাই শিশু ধর্ষণে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশ-বিদেশের খবরে
পরবর্তী ঘটনায় থাকে না তা নজরে।
প্রতিবাদ থাকবে না শুধু খবর কিংবা আবেগে
শিশু ধর্ষণ মুক্ত হবে পুরুষ জাতির বিবেকে।
পুরুষ পিতা, পুরুষ স্বামী পুরুষ প্রাণের ভাই
পুরুষই নারীর অভিভাবক সেই জাতি চাই।সামিরা মেহনাজ নুসরাত চাওয়া-পাওয়া
চেয়েছি তোমার সাথে হারতে,
চাইনি তোমাকে হারাতে;
চাইনি কখনো কাউকে কাঁদাতে,
তবুও যে হয়েছে কাঁদতে।
চেয়েছি ছায়া হয়ে থাকতে,
চাইনি নিরাকার ছায়া রূপে দৃশ্যমান হতে;
চেয়েছি কষ্টের স্মৃতি ভুলিয়ে রাখতে,
চাইনি স্মৃতি হয়ে মনের কোণে পড়ে রইতে;
চেয়েছি সারাক্ষণ শুধু খেয়াল রাখতে,
চাইনি, অন্যমনস্ক হয়ে থাকতে।
চেয়েছি সারাক্ষণ শুধু হাসাতে,
চাইনি আড়ালে থেকে ভালোবাসতে;
চেয়েছি তোমার ঠোঁটের কোণের ঐ হাসিতে মিশতে,
চাইনি খানিক কষ্ট হয়ে ঝরে পড়তে;
চেয়েছি তোমার রঙধনুর একটি রঙ হতে,
চাইনি সেই রঙধনু কে ঝাপসা করে দেওয়া জল
চোখে এনে দিতে।মনির হোসেন খান মধ্যবিত্ত
প্রতিমাসে একশ আইটেম দরকার
কম হলে চলে না ভাই
এরই নাম সংসার।মাস শেষে টানাটানি
প্রতিবেশীর জানাজানি
কেউ করে কানাকানি,এমন করে চলছে যেমন মধ্যবিত্তের সংসার এমন।
এই শুনছো মুদি নেই
স্ন্যাক্সও নেই—
নেই তরকারি
আরো কতো কি যে নেই
খুব দরকারি।এমন করেই দিন কাঁটে ভাই
এরই নাম মধ্যবিত্ত,
ঘেরা টোপে বন্ধি মোদের
এই না জীবন বৃত্ত।মাস শেষে চাল থাকে না
ডাল থাকে না
মোটে থাকে না কানাকড়ি,
তাই তো মোদের জীবন
নিয়ে চলছে আহাজারি।বৃত্তের মাঝে বন্ধি জীবন
বৃত্তের মাঝেই শেষ
কাকে করবো দোষী মোরা
কাকে দেবো ধন্যবাদ অশেষ।সাবিকুন্নাহার চৌধুরী মাটির অন্তর্লিপি
মাটিরও কি স্মৃতি থাকে—
থাকে কি কোনো গোপন খাতা,
যেখানে লেখা থাকে
পদচিহ্নের পূর্বপুরুষ,
বৃষ্টির কাছে রেখে যাওয়া
কৃষকের নীরব প্রার্থনা?এক মুঠো ধুলোয় দেখি
অসংখ্য ঋতুর বিবর্ণ স্বাক্ষর;
কোথাও শস্যের গন্ধ,
কোথাও শুকিয়ে যাওয়া অশ্রু,
কোথাও অনামা মানুষের
ঘামে ভেজা ইতিহাস।আমরা শুধু ফসল দেখি—
দেখি না মাটির নিচে
কত অন্ধকার পেরিয়ে
একটি শস্যদানা
আলোর দিকে মুখ তোলে।আমরা শুধু প্রাসাদ দেখি,
দেখি না তার ভিত্তির নিচে
কত হাতের রেখা
ইটের সঙ্গে মিশে আছে;
কত নামহীন শ্রম
দাঁড়িয়ে আছে আমাদের উচ্চতার পেছনে।সময় কত সহজেই
মুছে ফেলে মানুষের নাম—
শিলালিপি ক্ষয়ে যায়,
প্রতিমার মুখে জমে ধুলো;
তবু মাটি ভুলে না—
সে নীরবে ধারণ করে
যাদের কথা ইতিহাস
লিখতে ভুলে গেছে।শেকড়েরা তাই
অন্ধকারকে ভয় পায় না;
তারা জানে—
আলোর সমস্ত অহংকারের নিচে
একটি গভীর অন্ধকারই
নিঃশব্দে ধরে রাখে পৃথিবী।আমরাও একদিন
ফিরে যাব সেই মাটির কাছে—
নামহীন, পরিচয়হীন,
সমস্ত অর্জনের ভার নামিয়ে।তখন হয়তো মাটি
কোনো প্রশ্ন করবে না;
শুধু তার অন্তর্লিখন খুলে
নিঃশব্দে বলে দেবে—“তুমি কতটা উঁচুতে উঠেছিলে,
সে হিসাব আমার কাছে নেই;
বল তো,
যে মাটির ওপর দাঁড়িয়ে
জীবনভর আকাশ খুঁজেছিলে—
তার জন্য
তুমি কী রেখে গেলে?”








