শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২৭

জাহাজের সেই পাখি

এন জে রাবেয়া
জাহাজের সেই পাখি

এন জে রাবেয়া জাহাজের সেই পাখি

চলে আসছে এক সোনালি বিকেল

যেখানে রোদ মিশে গেছে বিদায়ের কুয়াশায়,

আর মাদ্রাসার প্রতিটি জানালা নিঃশব্দে বলছে

“ফিরে এসো, প্রিয় শিক্ষক...”

তিন মাসের স্বল্প সময়

কিন্তু সেই সময়ের ভাঁজে ভাঁজে জমে আছে

হাজারো হাসি, অসংখ্য চোখের জলে লেখা অনুচ্চারিত ভালোবাসা।

আমি বুঝেছি, শ্রেণিকক্ষ কেবল পাঠের নয়,

এটা হৃদয়েরও এক বিশ্ববিদ্যালয়।

ছাত্রীরা যখন চোখে জল নিয়ে বলেছিল

“মিস, আপনি কি সত্যিই চলে যাচ্ছেন?”

তখন মনে হলো, এই সম্পর্কের কোনো চুক্তি নেই,

আছে শুধু মায়া আর নিঃস্বার্থ স্নেহের অনন্ত বাঁধন।

শিক্ষকদের হাতের সেই বিদায় উপহার

একটি বই, কিন্তু আমার কাছে তা যেন এক দোয়ার পত্র।

তাদের দৃষ্টিতে যে শ্রদ্ধা, সেই আলোয় আমি নিজেকে দেখেছি নতুন করে

যেন শব্দের ভেতর জেগে উঠেছে এক অদেখা কবিতা।

আমি হচ্ছি জাহাজের সেই পাখি,

যে যত দূরেই উড়ে যাক না কেন,

শেষমেশ ফিরে আসে নিজের নোঙরে।

এই মাদ্রাসার প্রতিটি মানুষ থেকে পাওয়া

ভালোবাসা,স্নেহ,সম্মান আমার শিক্ষকতা জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আমি যে কাদেরিয়া চিশতিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার পথ ধরে এসেছিলাম,

আজ সেই পথ দিয়েই ফিরে যাচ্ছি

কিন্তু আমার হৃদয়ের এক টুকরো অংশ রয়ে গেছে ঠিক ওই ক্লাসরুমে,

যেখানে প্রতিটি বোর্ডে এখনো আঁকা থাকে আমার অক্ষরের ছায়া।

বিদায় মানে কি সত্যিই শেষ?

না, হয়তো এটা আরেক সূচনা

যেখানে ভালোবাসা থাকবে প্রার্থনার মতো,

আর প্রতিটি শিক্ষার্থী হয়ে থাকবে আমার অব্যক্ত কবিতা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়