প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৭
মৃত্যুর পর জানতে পারে মিজান বৃত্তি পেয়েছে

মারা যাওয়ার পরের দিন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ায় জানা যায় মিজান বৃত্তি পেয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার লামচর ইউনিয়নের পানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান (১১) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পরদিন প্রাথমিক বৃত্তি লাভ করেছেন।
|আরো খবর
কিন্তু এ আনন্দ মিজানুর রহমানের বাবা, মা, শিক্ষক এবং সহপাঠীদের মাঝে আনন্দের বদলে শোক আরো বেশি ঘনীভূত হয়েছে । পুরো আনন্দটাই যেন বিষাদে পরিণত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান জানান, ২০২৫ সালের সরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় পানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১২জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ৬জন ট্যালেন্টপুলে ও ৬জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে শতভাগ সফলতা লাভ করে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান (রোল নম্বর ৪০৬১৭৬৬) সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে। এ ফলাফল দেখে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে কান্নার রোল দেখা দেয়।
বৃত্তি পাওয়ার খবরটি দেয়ার জন্যে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান, সহকারী শিক্ষক জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক মিজানুর রহমানের বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে যান। এ সময় মিজানের বাবা মো. রাছেল ও মা আকলিমা আক্তার আঁখি শিক্ষকদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ।
মিজানুর রহমানের বাবা উপজেলার লামচর ইউনিয়নের আলি মিয়া পাটোয়ারী বাড়ির মো. রাছেল মিয়া জানান, গত ক'দিন থেকে ছেলেটির জ্বর দেখা দেয় এবং দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত ঝরলে আমরা রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানকার একজন চিকিৎসক জানান, মিজানের প্রস্রাবে ইনফেকশন এবং রক্তস্বল্পতা রয়েছে। পরে আমরা আবারও তাকে রামগঞ্জ ওয়াপদা সড়কের অ্যাপোলো হসপিটালের ডাক্তার রাছেলের নিকট নেয়ার পরও তিনি কোনো সমস্যার কথা জানাতে পারেনি। ১১জুলাই শনিবার আমার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় নেয়ার পথে সকাল ১১টায় গৌরিপুর নামক স্থানে তার মৃত্যুর হয়।
পানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান জানান, মিজানুর রহমানের এমন মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্ভাবনাময় এই মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে আমাদের বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইমরান হোসেন জানান, ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি অবগত করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আতিকুর রহমান মৃত মিজানের পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।







