বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫  |  
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:০৫

চন্দ্রনাথ পাহাড়ে একদিন

সৌরভ সালেকীন
চন্দ্রনাথ পাহাড়ে একদিন

ভ্রমণ করতে কার না ভালো লাগে! ছোটবেলা থেকেই ভ্রমণের নেশা মাথায় চড়ে বসে। কতবার যে কত জায়গায় যাব বলে ঠিক করেছিলাম তার হিসেব নেই৷ কিন্তু প্রকৃত অর্থে যখন ঘোরার সুযোগ হয়েছিল তখন গিয়েছিলাম সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে।

আমাদের এখান থেকে সীতাকুণ্ড পৌঁছতে প্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। দীর্ঘ ভ্রমণ হওয়া সত্ত্বেও যাত্রা থেকেই দারুণ সব দৃশ্য উপভোগের সুযোগ হয়। সীতাকুণ্ডের উদ্দেশ্যে আমাদের যাত্রা শুরু হয় ভোর সাড়ে চারটায়। যাত্রার ঘণ্টা দু-এক পরেই গাড়ির গতির সাথে তাল মিলিয়ে উদিত হয় সূর্যমামা। একদিকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে আমাদের গাড়ি ক্রমাগত এগোয় আর অন্যদিকে তাপ আর আলোর মাত্র বাড়িয়ে প্রখোর হয় সূর্য! শীতের সময় হওয়ায় প্রায় আটটা অবধি সূর্যকে অবলোকন করতে পেরেছি। সূর্যের রক্তিম আভা আর আলোর ক্ষীণ তেজ মনের মধ্যে এক অন্যরকম ভালো লাগা এনে দিয়েছিল। মানুষ গোধূলির সূর্য নিয়ে কাব্য রচনা করে অথচ সকালের সূর্যও যে কোন অংশে কম নয় তা বোঝার জন্য সূর্যোদয় দেখা অত্যাবশ্যক।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চলার পর, আমাদের গাড়ি চন্দ্রনাথ পাহাড়ের মূল গেইটে এসে থামে। গাড়ির রাস্তা এখানেই শেষ। এরপর আর গাড়ি যাওয়া সম্ভব না। এখান থেকে হেঁটেই প্রত্যেককে পাহাড়ে উঠতে হবে। আমরা সবাই গাড়ি থেকে নেমে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সবাই প্রয়োজন মতো পানি আর অন্যান্য জিনিস নিয়ে নিচ্ছিল। খালি হাতে পাহাড়ে ওঠা বিপদজনক, সুতরাং হাঁটার সুবিধার্থে প্রত্যেকে পোড়া বাঁশের লাঠি কিনে নিই। প্রতিটা লাঠির দাম পড়ে চল্লিশ টাকা। তবে বিক্রেতা বলেছেন পাহাড় ঘুরে এসে যদি অক্ষত অবস্থায় লাঠি দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে অর্ধেক টাকা ফেরত দিয়ে দিবে। পরবর্তীতে এর সত্যতাও পাই।

লাঠি ক্রয় করে শুরু হয় আমাদের পাহাড়ে চড়ার পালা। নিচ থেকে দেখে পাহাড়ে ওঠা যতটা সহজ মনে হয় আসলে পাহাড়ে ওঠা ততটা সহজ নয়।

এ বিষয়ের চাক্ষুষ প্রমাণ উপস্থাপন করেন আমাদের দলের ফারুক ভাই। মাত্র ত্রিশ মিনিট হেঁটেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি। অতঃপর সাফ জানিয়ে দেন তিনি আর উঠতে পারবেন না। ফারুক ভাইয়ের বয়স ত্রিশের আশেপাশে। এতো কম বয়সে এতো ক্লান্ত হওয়াটা যুক্তিযুক্ত নয়। দলের অন্যান্য মজার যে সদস্যরা ছিলেন তাঁরা ফারুক ভাইকে টাকার ক্ষতি আর বিভিন্ন অনুপ্রেরণা মূলক কথা বলে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন৷ তাদের চেষ্টা বৃথা যায়নি৷ অবশেষে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ফারুক ভাই পাহাড়ে ওঠার দৃঢ় সংকল্প করেন, এবং পরবর্তীতে তা পূরণও করেন।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের প্রবেশপথে আমরা হিন্দুদের বেশ কিছু ধর্মীয় স্থাপনা ও অধীবাসীদের জীবনচিত্র দেখতে পাই। আরেকটু এগিয়েই চোখে পড়ে ছোট একটি ঝর্ণা। এখান থেকে পাহাড়ে ওঠার দুটো পথ দুই দিকে চলে যায়। ডান দিকের পথ সিঁড়ি দিয়ে তৈরি আর বাম দিকের পথ সম্পূর্ণ পাহাড়ি। সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার চেয়ে পাহাড়ি পথে উপরে ওঠা সহজ বলে সকলেই বাম দিকের পথ ধরেই এগোয়। আমরাও তাই করি।

পর্বতারোহণে আমার সবচেয়ে উপভোগ্য দৃশ্য ছিল পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে দিগন্তের দিকে তাকানো! সেখান থেকে নিচের গ্রামীণ পরিবেশ ছিল দেখার মতো! হাত বাড়িয়ে ধরার চেষ্টা করলেই যেন সম্পূর্ণটা হাতের মুঠোয় চলে আসেবে।

পাহাড়ে ওঠা যতটা কঠিন ছিল, পাহাড় থেকে নামাটও তার থেকে কম সহজ ছিল না। তবে ধৈর্যের সাথে পা ফেলে আমরা সকলেই নিরাপদে সমতলে পৌঁছে যাই।

যাই হোক, প্রায় চার পাঁচ ঘণ্টা ব্যয় করে পর্বতারোহণের যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তা চিরস্মরণীয়। সুযোগ হলে ভবিষ্যতেও নতুন কোনো পাহাড়ের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়বো দ্রুতই...।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়