মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ২২:১৪

সুসজ্জিত গাড়িতে ফিরেছেন বাড়ি

মতলবে প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাসের রাজকীয় বিদায়

মাহবুব আলম লাভলু ও কামরুল হাসান রাব্বি।।
মতলবে প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাসের রাজকীয় বিদায়

মতলব উত্তর উপজেলায় ৩৯ বছর চাকরি জীবনের শেষদিনে এক প্রধান শিক্ষককে রাজকীয় বিদায় দিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। সুসজ্জিত প্রাইভেট কারে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাসকে এভাবে বিদায় জানাতে দেখা যায়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) ছিলো সুখরঞ্জন বিশ্বাসের চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘ ৩৮ বছর ৮ মাস ২০ দিনের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন মতলব উত্তর উপজেলার ১২৪নং নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাস। কর্মজীবনের শেষদিনে তাঁকে দেয়া হলো এক ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় বিদায়। ফুলে সজ্জিত প্রাইভেট কারে করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী তাঁকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। এমন সম্মানজনক বিদায়ের দৃশ্য স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাসকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বক্তব্যে তাদের প্রিয় শিক্ষকের কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিদায়ী বক্তব্যে সুখরঞ্জন বিশ্বাসও শিক্ষকতা জীবনের সুখ-দুঃখের নানা স্মৃতি স্মরণ করেন এবং সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত একটি প্রাইভেটকারে প্রধান শিক্ষক সুখরঞ্জন বিশ্বাসকে বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়। পথজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী হাত নেড়ে এবং ফুল ছিটিয়ে তাঁকে বিদায় জানান। বিদায়ের সেই আবেগঘন মুহূর্তে অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু।

সহকর্মীরা বলেন, সুখরঞ্জন বিশ্বাস শুধু একজন দক্ষ প্রধান শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও আদর্শ মানুষ। তাঁর সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা এবং শিক্ষার প্রতি নিবেদন আগামী প্রজন্মের জন্যে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

ব্যক্তিগত জীবনে সুখরঞ্জন বিশ্বাস স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। বড় ছেলে ব্যাংকার, মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছোট ছেলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়