প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৯
সব দিয়ে শেষে নিঃস্ব: শ্রীনগরে সন্তানদের অবহেলায় মানবেতর জীবন

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মধ্য বাঘড়া গ্রামের এক সময়ের স্বচ্ছল পরিবার আজ পরিণত হয়েছে এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবিতে। যেখানে ছিল সুখ-সমৃদ্ধি, সেখানে এখন নেমে এসেছে নীরব হাহাকার ও অনিশ্চয়তার ছায়া।
|আরো খবর
একজন পরিশ্রমী কৃষক নিজের শ্রম ও ত্যাগ দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন সংসারের ভিত্তি। সীমিত আয়ের মধ্যেও পরিবারে ছিল সুখ-শান্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশ, যা সময়ের সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়েছিল।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি গ্রহণ করেন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত—নিজের সঞ্চয় ও ধার করা অর্থ দিয়ে পাঠান বিদেশে। সেই সিদ্ধান্তই এনে দেয় অর্থনৈতিক উন্নতি এবং বদলে যায় পুরো পরিবারের ভাগ্য।
প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে নির্মিত হয় পাকা দালান, গড়ে ওঠে শহরে বহুতল ভবন, এবং নিশ্চিত হয় একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ। অতিরিক্ত আয়ের অর্থ সঞ্চিত হতে থাকে ভবিষ্যতের জন্য।
কিন্তু হঠাৎই সেই সমৃদ্ধির গল্পে নেমে আসে অন্ধকার অধ্যায়। পরিবারের কর্তার মৃত্যুর পর ভেঙে পড়ে পুরো কাঠামো, শুরু হয় একাকীত্বের যন্ত্রণা।
প্রথমে কিছুটা খোঁজখবর থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সন্তানদের আচরণে আসে পরিবর্তন। ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় দায়িত্ববোধ, কমে যায় যোগাযোগ, এবং তৈরি হয় দূরত্ব।
বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন এক অনিশ্চিত জীবন নিয়ে। নেই নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা, নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা—প্রতিদিন চলছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
জীবনের সব কিছু সন্তানদের জন্য উৎসর্গ করার পর আজ তিনি দাঁড়িয়ে আছেন এক নির্মম বাস্তবতার সামনে, যেখানে প্রশ্ন একটাই—দায়িত্বহীনতা কি এখন নতুন সামাজিক বাস্তবতা?
স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি পরিবারের ঘটনা নয়, বরং একটি সামাজিক অবক্ষয় এর স্পষ্ট উদাহরণ, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নতির আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে মানবিক মূল্যবোধ।
এই ঘটনা আমাদের সামনে তুলে ধরে এক কঠিন প্রশ্ন—আমরা কি আমাদের পারিবারিক দায়িত্ব ভুলে যাচ্ছি?
ডিসিকে /এমজেডএইচ








