প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২১
স্বামীর সম্পত্তিতে সন্তানদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চান বিধবা রহিমা বেগম

স্বামীর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তিতে নিজের সন্তানদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা বিধবা রহিমা বেগম।
শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রহিমা বেগম জানান, ২০০৫ সালে শ্রীমঙ্গল শহরের সুইনগড় এলাকার বাসিন্দা হাজী ইয়াকুব আলী খানের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ইয়াকুব আলী খানের আরও দু স্ত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রীর তিন ছেলে ও দু মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর দু মেয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে শ্রীমঙ্গল শহরের সুরভীপাড়া আবাসিক এলাকায় চার শতক জমির ওপর নির্মিত একটি বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ২০১৪ সালের মে মাসে স্বামীর মৃত্যু হলে তিনি দু ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে প্রথম স্ত্রীর ছেলে মনজুর আলী খানকে তার পরিবারের জন্যে মাসিক ৫ হাজার টাকা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৩ সাল থেকে সেই অর্থ প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে গত রমজান মাসে মনজুর আলী খান মারা যান।
রহিমা বেগমের দাবি, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, স্বামীর প্রথম পক্ষের বড় ছেলে জুনাব আলী খান ও ছোট ছেলে সাহদৎ আলী খান তার সন্তানদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি হলফনামার মাধ্যমে ওয়ারিশনামা প্রস্তুত করেছেন।
তিনি আরও জানান, গত ৩১ মে সকালে তার বড় ছেলে রাশেদ আলী খান এ বিষয়ে কথা বলতে সৎ ভাইদের বাসায় গেলে তারা তাকে ভাই হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করা হয় এবং সম্পত্তি দাবি করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, একই দিন সন্ধ্যায় শহরে যাওয়ার পথে জুনাব আলী খান, সাহদৎ আলী খান, তাদের ভাতিজা ইমন ও জীবন তার ছেলেকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এ ঘটনায় তিনি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া সম্পত্তির বৈধ অধিকার সংক্রান্ত আরও দুটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
রহিমা বেগম বলেন, বিয়ের নিবন্ধিত কাবিননামা না থাকার সুযোগ নিয়ে প্রথম পক্ষের সন্তানরা তার সন্তানদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তবে বিভিন্ন সরকারি নথি, যেমন—শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ, টিকাদান কার্ড, পৌরসভার নাগরিক সনদসহ একাধিক কাগজপত্রে হাজী ইয়াকুব আলী খানের স্ত্রী হিসেবে তার নাম রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০০৫ সালে তার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম পক্ষের ছেলেরা প্রায় ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। এ ঘটনায় তার স্বামী তিন ছেলেকে ত্যাজ্য করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রহিমা বেগম বলেন, “আমি একজন প্রতিবন্ধী নারী। অনেক কষ্ট করে সন্তানদের নিয়ে জীবনযাপন করছি। স্বামীর সম্পত্তির প্রতি আমার কোনো লোভ নেই। তবে আমার এতিম সন্তানদের পিতার সম্পত্তিতে আইনসম্মত অধিকার রয়েছে। আমি শুধু সেই ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হাজী ইয়াকুব আলী খানের প্রথম পক্ষের ছোট ছেলে সাহদৎ আলী খান প্রথমে রহিমা বেগমকে তাঁর বাবার স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, “রহিমা বেগম যদি সত্যিই আমার বাবার স্ত্রী হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।”
উল্লেখ্য, রহিমা বেগমের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের রায় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।








