শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৯

ধনাগোদা নদীর ২০ কিলোমিটার জুড়ে ৬ শতাধিক মাছ শিকারের অবৈধ ফাঁদ

অনলাইন ডেস্ক
ধনাগোদা নদীর ২০ কিলোমিটার জুড়ে ৬ শতাধিক মাছ শিকারের অবৈধ ফাঁদ

মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার মধ্যবর্তী ধনাগোদা নদীর প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় বাঁশের বেড়া ও জাগ ফেলে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। এতে ডিমওয়ালা দেশি মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নির্বিচারে নিধন হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও নৌ-যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ধনাগোদা নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর দু পাড় ও মাঝ বরাবর আড়াআড়িভাবে বাঁশের বিশাল বেড়া বসিয়ে তাতে মশারির মতো সূক্ষ্ম জাল টাঙানো হয়েছে। পানির উপরিভাগ থেকে নদীর তলদেশ পর্যন্ত টানা এই জালে আটকা পড়ছে পুঁটি, টেংরা, বেলে, রুই, কাতলা, আইড়সহ সব ধরনের দেশি মাছ। এসব জালে ডিমওয়ালা মা-মাছ পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলার কালীপুর বাজারসংলগ্ন মেঘনা ও ধনাগোদা নদীতে সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের আব্দুল হালিম মেম্বার, রতন মিয়া এবং পার্শ্ববর্তী গজারিয়া উপজেলার আ. ছামাদ মিঝি, নন্দলালপুর এলাকার দুখু মিয়া, আনোয়ার হোসেন, আ. হালিম, বাচ্চু মেম্বার, জিসান, জাহাঙ্গীরসহ ২৫-৩০ জন মিলে নিজেদের এলাকায় নদীতে এসব বেড়া বসিয়ে মাছ ধরছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা বছরের পর বছর এভাবে মাছ ধরে আসছে। তাদের দাবি, এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হলে নদীর দেশি মাছ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।

মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দু উপজেলার প্রায় ৩০টি পয়েন্টে নদীতে বাঁশের বেড়া বসানো হয়েছে। মতলব উত্তরের কালীপুর, কালীরবাজার, দুর্গাপুর, বাংলাবাজার, আমুয়াকান্দা, লক্ষ্মীপুর, নন্দলালপুর, ঠেটালিয়া, আমিরাবাদ, বিনন্দপুর, এনায়েতনগরসহ বহু এলাকায় এভাবে জাগ দেয়া রয়েছে। মতলব দক্ষিণের চরমুকুন্দী, কাজির বাজার, উদ্দমদী, সাহাপুর, উত্তর বাইশপুর, নায়েরগাঁও, বাইশপুরসহ নানা জায়গায় ২৫-৩০টির বেশি করে বেড়া বসানো হয়েছে।

এর মধ্যে কালীপুরে ৪৫টি, সিপাই কান্দিতে ৩০টি, আমিরাবাদে ৫০টি, নন্দলালপুরে ২৫টি, কালীরবাজারে ৩০টি, নায়েরগাঁওয়ে ৪৫টি, বাইশপুরে ৩০টিসহ সবমিলে বেড়ার সংখ্যা ৬০০-এরও বেশি।

একই সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি বেড়া থেকে বছরে ২ মেট্রিক টন করে মাছ নিধন হয়। সে হিসাবে বছরে ১,২০০ মেট্রিক টনেরও বেশি দেশি মাছ ধ্বংস হচ্ছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ২০-৩০ কোটি টাকা।

বাঁশের বেড়া ও জাগের কারণে শ্রীরায়ের চর ব্রিজ থেকে কালীরবাজার পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার জুড়ে তীব্র কচুরিপানা জমে গেছে। এতোটাই জমাট যে, নৌকা চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। মতলব খেয়াঘাটে নৌযান পারাপার করতে মাঝি-যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রফিক নামে একজন মাঝি বলেন, নৌকা ঠেলে নিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় ১০ মিনিটের পথ পার হতে ১ ঘণ্টা লেগে যায়।

স্থানীয়রা মনে করছেন, পুরো নদীর পানিপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ডিমওয়ালা মাছ নির্মমভাবে নিধন হচ্ছে, নদীজুড়ে কচুরিপানা জমে নৌ-চলাচল বিপর্যস্ত, পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান ছাড়া ধনাগোদা নদীকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম নবী খোকন বলেন, এভাবে মাছ নিধন চলতে থাকলে দেশি মাছ একসময় বিলুপ্ত হবে। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় এগুলো বন্ধ করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, ১৯৫০ সালের মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নদীতে বেড়া বা বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ। গত জুলাই-আগস্টে আমরা কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করেছি। ইলিশ রক্ষা অভিযানের কারণে কিছুদিন বিরতি ছিলো। এখন কয়েক দিনের মধ্যেই আবার বড়ো ধরনের অভিযান চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, চলতি বছরজুড়েই নদী থেকে অবৈধ বেড়া ও জাল অপসারণে আমরা নিয়মিত অভিযান করেছি। নতুন করে আবারও বড়ো আকারের উচ্ছেদ অভিযান হাতে নেয়া হচ্ছে। সূত্র : চ্যানেল ২৪।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়