প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৪
পরীক্ষার্থী দুজন, পাস করে নি কেউ
কলেজ বন্ধ রেখে গায়েব অধ্যক্ষ!

মতলব দক্ষিণ উপজেলার ড. সামছুল হক মডেল কলেজ এবারের এইচএসসি পরীক্ষায়ও ফলাফলের চরম বিপর্যয় ধরে রেখেছে। এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মানবিক বিভাগে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করতে পারেননি কেউই। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ৭৬ শতাংশ পাসের হার অর্জন করে মতলব উত্তর ও দক্ষিণ—দুই উপজেলার মধ্যে সেরা ফলাফল করেছে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ড. সামছুল হক মডেল কলেজে পাসের হার শূন্য শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালের পরীক্ষায় এই কলেজ থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হন। এছাড়া ২০২৫ সালে চারজন অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন মাত্র একজন।
উপজেলার উপাদি উত্তর ইউনিয়নের বহরী গ্রামে ২০০৩ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৫ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। দুবছর পড়াশোনা করেও একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা ও ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. সামছুল হক মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বলেন, "আমি বর্তমানে কলেজে নেই, এর মধ্যেই মালিক কলেজটি বন্ধ করে দিয়েছেন।"
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, এ বছর মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৮টি কলেজ থেকে মোট ৯১৯ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩২৫ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী। গড়ে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, আলিম পর্যায়ে উপজেলার ৭টি মাদ্রাসা থেকে ১৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন। আলিমে পাসের হার ৩১ দশমিক ৬১ শতাংশ।
উপজেলার সাধারণ কলেজগুলোর পাসের হার শিক্ষা বোর্ডের গড় হারের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ পিছিয়ে থাকলেও ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল। প্রথমবারের মতো পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন পাস করেছেন, যার মধ্যে ১১ জনই পেয়েছেন ‘এ’ গ্রেড।
শিক্ষানুরাগীরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল ও ইন্টারনেট আসক্তি, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং কোচিংনির্ভর শিক্ষার প্রবণতাই এই ফল বিপর্যয়ের মূল কারণ।
ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কামরুজ্জামান জানান, ড. সামছুল হক মডেল কলেজের ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি তালিকা দেখে জেনেছেন। এ বিষয়ে খুব দ্রুত শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








