প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১২
দীর্ঘদিন সংস্কার নেই
ছেংগারচর পৌরসভার সড়কগুলোতে চরম জনদুর্ভোগ

|আরো খবর
ছেংগারচর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা
মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কজুড়ে বড় বড় খানাখন্দ ও গর্ত তৈরি হওয়ায় দৈনন্দিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছেংগারচর বাজার-দশানী বেড়িবাঁধ, বালুরচর-কলাকান্দা ইউনিয়ন, ঢালীকান্দি-সুগন্ধি বেড়িবাঁধ এবং ছেংগারচর বাজার-শ্রীরায়েরচরসহ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ বেশ ক'টি পাকা সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির উৎপাতে অতিষ্ঠ পথচারীরা।
সড়কের করুণ অবস্থার কারণে নিয়মিত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত থাকেন তারা।
অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীন নির্মাণাধীন ছেংগারচর বাজার-শ্রীরায়েরচর সড়কটির কাজ গত সরকারের আমলে শুরু হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টএর পর ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যান। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কগুলো চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
এক অটোরিকশা চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, ফলে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।"
এ বিষয়ে ছেংগারচর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মান্নানুল ইসলাম বলেন, "সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা সত্যি নাজুক এবং দীর্ঘদিন ধরে মেরামত হয়নি। আমরা ইতোমধ্যে সড়কগুলো মেরামতের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।"
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, "ছেংগারচর প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও প্রয়োজনীয় অর্থ ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। তবে জনস্বার্থে এসব সড়ক দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। কয়েকটি সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ সম্পন্ন করা হবে।"
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








