রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ২১:৪২

ভাষা সৈনিক ডা. এমএ গফুরের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট।।
ভাষা সৈনিক ডা. এমএ গফুরের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী

চাঁদপুরের কিংবদন্তীতুল্য নিভৃতচারী সমাজসেবক, সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, চাঁদপুর ডায়াবেটিক ও মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, ১৯৫২ সালের ভাষা সৈনিক আলহাজ্ব ডা. এমএ গফুরের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬)। তিনি ২০১৯ সালের ২৩ আগস্ট ভোর ৪টার সময় ঢাকা শমরিতা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। এ উপলক্ষে রোববার বাদ জোহর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের এবাদতখানায় মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

ডা. এমএ গফুরের পরিচিতি

চাঁদপুরবাসীর নিকট সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব ডা. এমএ গফুর। নিঃস্বার্থ এই সমাজসেবক পেশায় ছিলেন একজন চিকিৎসক। একাধারে তিনি ছিলেন সমাজসেবক, সমাজকর্মী ও দক্ষ সংগঠক। একজন প্রতিথযশা চিকিৎসক ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে তিনি চাঁদপুর জেলায় স্বাস্থ্যখাত ও সামাজিক খাতে উন্নয়নের জন্যে বিভিন্ন জনহিতকর প্রতিষ্ঠান, সংগঠন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে চাঁদপুরে বহু সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। এসব জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সাথে জীবনের দীর্ঘ সময় জড়িত থেকে মানব সেবা করে দেশ ও বিদেশে প্রচুর প্রশংসা অর্জন করেছেন তিনি। তিনি ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নের সময় ভাষা আন্দোলনে ভাষা সংগ্রামী হিসেবে এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর পৈত্রিক বাড়ি পাক হানাদার বাহিনী আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলো।

চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের জন্যে তিনি ০.৩৮২৫ একর ভূ-সম্পত্তি দান করে গেছেন। যার উপরে বর্তমানে চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল ভবন অবস্থিত।

সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত : আলহাজ্ব ডা. এমএ গফুর চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার চর কোড়ালিয়া গ্রামে ১৯৩৩ সালের ২৮ অক্টোবর সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম পিয়ার আলী সরকার ও মাতার নাম মরহুমা সৈয়দুন্নেছা। তিনি চাঁদপুর শহরের গনি হাই স্কুল থেকে ১৯৪৮ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৫০ সালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএসসি ও ১৯৫৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। একজন মেধাবী চিকিৎসক হিসেবে ১৯৬৫ সালে লন্ডন ও এডিনবার্গে স্নাতকোত্তর চিকিৎসাবিদ্যা ও রেডিওলজিতে অধ্যয়ন করেন। তাঁর স্ত্রী মরহুমা অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। তারপর ১৯৬৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ডা. এমএ গফুর ১ কন্যা ও ২ পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। কন্যা মিসেস মাহফুজা হক অর্থনীতিতে এমএ (ঢাবি)। জ্যেষ্ঠ পুত্র অধ্যাপক ডা. শাকিল গফুর, এমবিবিএস, ডিটিসিডি, এমডি (কার্ডিওলজি) রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। কনিষ্ঠ পুত্র অধ্যাপক ড. শায়ের গফুর, পিএইচডি, এফআইএবি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বিভাগীয় প্রধান ও ডীন হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ডা. এমএ গফুরের সংক্ষিপ্ত সাংগঠনিক পরিচিতি : প্রতিষ্ঠাতা, দাতা ও আজীবন সদস্য : চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতি; অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক (১৯৮৭-২০১৫) : চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতি; অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক (১৯৮২-২০১০) : মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, চাঁদপুর; পরিচালনা পর্ষদ সদস্য (তিন বার) : বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস); প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ও সভাপতি (১৯৭৬-৭৭) : চাঁদপুর রোটারী ক্লাব; প্রতিষ্ঠাতা : রোটারী দাতব্য চিকিৎসালয়; প্রাক্তন সভাপতি : চৌধুরী জামে মসজিদ, চাঁদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), চাঁদপুর, জাতীয় যক্ষা নিরোধ কমিটি (নাটাব), চাঁদপুর, আমরা ধূমপান না করি (আধূনিক), চাঁদপুর ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি; প্রতিষ্ঠাতা সদস্য : বিএভিএস, চাঁদপুর; সাবেক চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, চাঁদপুর; সাবেক উপদেষ্টা : জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি, চাঁদপুর; প্রাক্তন পরিচালনা কমিটির সদস্য : চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ ও চাঁদপুর ল’ কলেজ; প্রতিষ্ঠাতা সদস্য : পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজ ও চাঁদপুর ফাউন্ডেশন; প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি : চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি; প্রতিষ্ঠাতা : বাইতুল গাফ্ফার জামে মসজিদ, হাইমচর; প্রতিষ্ঠাতা : সৈয়দুন্নেছা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, হাইমচর; প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্ত্বাধিকারী : পিয়ারস মেমোরিয়াল হাসপাতাল; পরিচালক : চাঁদপুর এক্স-রে ক্লিনিক।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়