রবিবার, ০২ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০০:২৯

ধীরগতির সংস্কার কাজেও মেঘনার ভাঙন কমেছে

শহররক্ষা বাঁধ নিয়ে আশাবাদী চাঁদপুর শহরবাসী

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট।।
শহররক্ষা বাঁধ নিয়ে আশাবাদী চাঁদপুর শহরবাসী

চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের সংস্কারকাজে ধীরগতি, সময়মতো শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা

৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন, তবুও নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে আসায় আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা

চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের সংস্কারকাজ ধীরগতিতে চলায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কাজের অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে চলমান সংস্কারকাজের ফলে ইতোমধ্যে মেঘনা নদীর ভাঙন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসায় ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তারা।

প্রমত্তা মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে চাঁদপুর শহরকে রক্ষায় ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে শহররক্ষা বাঁধের সংস্কার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় মাদরাসা রোড লঞ্চঘাট থেকে পুরাণবাজার রণগোয়াল পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ২২ কিলোমিটার এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ ও বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে নদীতে ফেলা হচ্ছে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক।

চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮১৫ কোটি টাকা। ১৯টি প্যাকেজে কাজ করছে ৯টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রকল্পের তিন বছর অতিক্রম হলেও কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শহররক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার অংশের অন্তত এক হাজার মিটার এলাকা মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনের শিকার হয়। এতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় শতাধিক বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। অনেক পরিবার হারায় তাদের বসতভিটা ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের এলাকায় নদীভাঙন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগে বর্ষা এলেই নদীপাড়ের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাতেন। বর্তমানে সংস্কার কাজ চলমান থাকায় ভাঙন কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে। তিনি গুণগত মান নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার দাবি জানান।

স্থানীয় জেলে হুমায়ুন বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে তারা নদীপাড়ে বসবাস করছেন এবং জীবনে অসংখ্যবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। বহুদিনের প্রত্যাশিত স্থায়ী বাঁধ এখন বাস্তবায়নের পথে। তিনি শুধু পুরাণবাজার নয়, পুরো ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরজুড়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নদীপাড়ের ব্যবসায়ীরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে তীব্র স্রোতের কারণে মালবাহী ট্রলার, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ হলে নৌপথ আরও নিরাপদ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, নদীপাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত ও টেকসইভাবে সংস্কার করা না হলে পুরাণবাজারসহ আশপাশের ব্যবসায়িক এলাকা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। বর্তমানে বাঁধের দুর্বল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহন, নৌযান থেকে মালামাল ওঠানো-নামানো এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থায়ী ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি। নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা গেলে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী পুরাণবাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম জানান, সংস্কার কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের কারণে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। কাজের গতি আরও বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন থেকে চাঁদপুর শহর, নদীপাড়ের জনপদ এবং পুরাণবাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা পাবে।

সূত্র : জাগো নিউজ

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়