প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৯:৫৬
কচুয়ায় সম্পত্তিগত বিরোধে আহত ১

|আরো খবর
কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের দহুলিয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের সম্পত্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় একজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে দহুলিয়া শাজুলিয়া দরবার শরীফের পাশের বাড়ির মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শফিউল্লাহ হামলার শিকার হন।
আহত শফিউল্লাহ জানান, ওইদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে চা পান করতে গেলে তার চাচাতো ভাই কামাল হোসেন বাবুল ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ওই গ্রামের মৃত শাহ আলমের কন্যা সুমাইয়া আক্তারসহ অপর দুই বোন তাদের পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে অর্জিত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার দাবি করেছেন। শফিউল্লাহর পুত্রবধূ ও মৃত শাহ আলমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে অর্জিত প্রায় ৯৪.৯১ শতক জমি তার চাচা কামাল হোসেন বাবুল জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। এ ঘটনায় সুমাইয়া আক্তার চাঁদপুরের বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সিআর ৪০৫/২০২৫। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে বিষয়টি জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে আপস-মীমাংসার জন্যে পাঠানো হয়।
লিগ্যাল এইডের উদ্যোগে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। লিগ্যাল এইডের পক্ষ থেকে কামাল হোসেন বাবুলকে শাহ আলমের সন্তানদের সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও, কামাল হোসেন বাবুলের অসহযোগিতা ও অনিচ্ছার কারণে সম্পত্তির বিষয়টির মীমাংসা হয়নি।
সম্পত্তির বিষয়টি সমাধান হয়নি মর্মে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার আবদুল আলিম ৮ জুলাই বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন পেশ করেন।
সুমাইয়া অভিযোগ করেন, তাদের পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এখনো তাদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। কামাল হোসেন বাবুল এলাকার কিছু লোকের সহযোগিতায় প্রভাব খাটিয়ে অসহায় পিতৃহারা তিন কন্যাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন বলে তারা দাবি করেন।
সুমাইয়া ও তার দুই বোন তাদের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ফিরে পেতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযুক্ত কামাল হোসেন বাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার ভাই শাহ আলমের নিকট টাকা পাই। কিন্তু শাহ আলমের তিন কন্যা ওই অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। মারধরের বিষয়টির সঙ্গে আমি জড়িত নই।
এ ঘটনায় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সুমাইয়া ও তার বোনেরা বিষয়টির আইনগত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।








