মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১৮

চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফরিদগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড থেকে চতুরা ব্রিজ পর্যন্ত

দু কিলোমিটার অংশ মরণ ফাঁদে পরিণত

প্রবীর চক্রবর্তী
দু  কিলোমিটার অংশ মরণ ফাঁদে পরিণত
ছবির ক্যাপশন: চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন বড়ালী ও কাছিয়াড়া গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে সড়কের ফুটপাত দখল করে পড়ে থাকা গাছের গুঁড়ি, পাশ দিয়ে চলছে যানবাহন।

চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে চতুরা ব্রিজ পর্যন্ত মরণ ফাঁদে পরিণত সড়ক

চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে চতুরা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দু কিলোমিটার সড়ক এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ঝরছে তাজা প্রাণ, পঙ্গুত্ববরণ করছেন আহতরা। থমকে যাচ্ছে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের জীবন-জীবিকা। এ সড়কে গত এক মাসে প্রায় ২০টি দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

সরজমিনে দেখা যায়, কাঠ ও স’মিল ব্যবসায়ীদের গাছের গুঁড়ি দিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে ফুটপাত। ব্যক্তি মালিকানার শত শত গাছ ও লতাপাতায় সৃষ্ট ঝোঁপঝাড়ের কারণে এক পাশ থেকে আসা যানবাহন অন্যপাশে স্পষ্ট দেখা যায় না। এছাড়া সড়কের একপাশ ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুদিক থেকে আসা গাড়িগুলোকে একপাশ দিয়ে পারাপার হতে হয়। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা দুর্ঘটনা রোধে ফুটপাতে অবৈধ দখল ও ঝোপঝাড় উচ্ছেদ এবং ভাঙাচুরা সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সড়কের পাশে গাছের গুঁড়ি থাকার কারণে অপরাধীরা রাতে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়কে ছিনতাই/ডাকাতির সুযোগ নিতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন সড়কে চলাচলকারীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা রুমা বেগম বলেন, গত মাসে এ সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমার এক স্বজন মারা গেছে। সড়কটির একপাশে ভাঙাচুরা হওয়ায় দুদিক থেকে আসা সিএনজি এবং মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আহছান দেওয়ান বলেন, এ সড়কে দুর্ঘটনায় বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) বিকেলে আমার আদরের সন্তান মেহরাজ মাহমুদ জুম্মানকে হারিয়েছি। এ বছর সে দাখিল পরীক্ষা দিয়েছিলো, পরীক্ষার রেজাল্টও জানতে পারেনি আমার ছেলে-- এ কথা বলে হাউমাউ করে কাঁদছেন তিনি।

মামুন হোসেন ও আব্দুল ওহাব মিয়া বলেন, ফুটপাত দিয়ে আমরা চলাচল করতে পারি না। সড়কের পাশে গাছের গুঁড়ি দিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে। প্রশাসন যেন দেখেও না দেখার ভান করে রয়েছে।

ফরিদগঞ্জ হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মো. কামাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন এ সড়কে দু-একটি দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কের পাশে ঝোপঝাড়ের কারণে একপাশ থেকে আসা গাড়িগুলো অন্য পাশ থেকে দেখা যায় না। তাই মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এ সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত এক মাসে প্রায় ২০টি দুর্ঘটনা হয়েছে এ সড়কে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৫ জন সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। ক'জনকে আমরা মৃত পেয়েছি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, তারা জনস্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়