শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪৯

বড় জা কে হত্যা করে ছোট জা'র ডাকাতির নাটক

শাহরাস্তিতে গৃহবধূ রিগান হত্যার রহস্য উন্মোচন

আদালতে খুনি ছোট জা'র স্বীকারোক্তি

মো. মঈনুল ইসলাম কাজল
শাহরাস্তিতে গৃহবধূ রিগান হত্যার রহস্য উন্মোচন
খুনি ছোট জা কাজী সুমাইয়া।

বড় জাকে হত্যা করে ছোট জা’র ডাকাতির নাটক

শাহরাস্তিতে গৃহবধূ রিগান হত্যার রহস্য উন্মোচন

আদালতে খুনি ছোট জা’র স্বীকারোক্তি

মো. মঈনুল ইসলাম কাজল।। শাহরাস্তিতে গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা (২৩) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬4 ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রতিহিংসার জেরে বড় জা রিগান আক্তার মিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা তিনি জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে ডাকাতির নাটক সাজানো হয়েছিলো বলে দাবি পুলিশের।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যায় শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুরে চাঁদপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদের নিকট আসামি কাজী সুমাইয়া মিনা ১৬৪ ধারায়

স্বীকারোক্তিমূলক জবাবন্দি দেন। পরে তাকে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতে রিগান আক্তার মিমকে নিজ কক্ষ থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার দেবরবধূ তথা জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনাকে। ঘটনার পর সুমাইয়া পুলিশকে জানান, মুখ বাঁধা দু ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাকে ও তার শিশুকে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল দাবি করে। পরে তারা পাশের কক্ষে গিয়ে তার বড় জা রিগান আক্তার মিমকে হত্যা করে। তার এই বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি প্রথমে ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে বিভিন্ন অসঙ্গতি সামনে আসে। এ ঘটনায় বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) রাতে নিহত রিগান আক্তার মিমের বাবা বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে ঘটনাস্থলের আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং বিভিন্ন তথ্য-упат্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশের সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে আহত গৃহবধূ কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬4 ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, আসামি কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা প্রতিহিংসার জেরে তার আপন বড় জা রিগান আক্তার মিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে তিনি ডাকাতির গল্প সাজিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নিহত রিগান আক্তার মিম মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। তিনি আড়াই বছর বয়সী কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজের জননী। ঘটনার সময় তার স্বামী রনি চাকরিসূত্রে ঢাকায় ছিলেন। বাড়িতে দুই গৃহবধূ, দাদা শ্বশুর নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু অবস্থান করছিলো। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ অন্যান্য আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ মিডিয়া, চাঁদপুর থেকে রিগান হত্যার রহস্য উন্মোচন বিষয়ে যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে প্রেরণ করা হয়, তা হচ্ছে : বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) রাত অনুমান ১টা ৩৫ মিনিট হতে সাড়ে ৩টার মধ্যবর্তী সময়ে গৃহবধূ রিগান আক্তার মীম (২৪), পিতা-মো. কবির হোসেন, স্বামী-সাইফুল ইসলাম রনি, gram- বাত্তলা (বেপারী বাড়ি), ওয়ার্ড নং-০৯, শাহরাস্তি পৌরসভা, থানা-শাহরাস্তি, জেলা-চাঁদপুর-এর চাঞ্চল্যকর হ্যান্ডাকান্ড সংঘটিত হয়। এ হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রাপ্তির পর চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ শাহরাস্তি থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ক্রাইমসিন সংরক্ষণসহ হত্যার রহস্য উদঘাটনে তথ্য সংগ্রহে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ভিকটিম রিগান আক্তার মীমের লাশের সুরতহাল শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে সহকারী পুলিশ সুপার (কчуয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী, ওসি শাহরাস্তি থানা এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ শাহরাস্তি থানার অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম গঠন করা হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে উক্ত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহভাজন কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা(২৩), পিতা-কাজী মঞ্জুর, মাতা-ফরিদা ইয়াছমিন, স্বামী-ইফতেহার আলম রিফাত, সাং-বাত্তলা (বেপারী বাড়ি), ওয়ার্ড নং- ০৯, শাহরাস্তি পৌরসভা, থানা-শাহরাস্তি, জেলা-চাঁদপুরকে নিবিড়ভাবে দীর্ঘ তিন ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা(২৩) পারিবারিক কলহের জের ধরে ভিকটিম রিগান আক্তার মীম (২৪) কে গলা চেপে ধরে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছে মর্মে প্রাথমিকভাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বীকার করে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভিকটিম রিগান আক্তার মীম (২৪)-এর পিতা মো. কবির হোসেন (৫৫), পিতা-মৃত সামছল হক, মাতা-মৃত আম্বরের নেছা, সাং-ঘুঘুরচপ (পাটোয়ারী বাড়ী), ৬ নং ওয়ার্ড, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন, থানা- শাহরাস্তি, জেলা- চাঁদপুর-এর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শাহরাস্তি মডেল থানার মামলা নং-২৫, তারিখ- ১৫ জুলাই, ২০২৬, ধারা-৩০২ পেনাল কোড রুজু করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ধৃত কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা(২৩)কে রুজুকৃত মামলায় গ্রেফতার করত বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি হত্যাকাণ্ড সংক্রান্তে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়