প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৯
সংস্কারবিহীন সেতু মরণ ফাঁদে পরিণত

সেচ খালের ওপর ৩৫ বছর পূর্বে নির্মিত হয় ছোট একটি সেতু, কিন্তু জনগুরুত্বসম্পন্ন। নির্মাণের পর অদ্যাবধি সংস্কার না হওয়ায় তা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। জনগণের দাবি, সরকার যেমন আসে আর যায়, তেমনি কর্মকর্তারাও আসে আর যায়, কিন্তু এটি নতুনভাবে বা মেরামত করে চলাচল উপযোগী করে তোলার দয়িত্ব কারো নেই। ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের আষ্টা-মহামায়া বাজার সেতুর কাহিনী এটি।
|আরো খবর
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৩৫ বছর আগে আষ্টা খালের ওপর নির্মিত ১৫ থেকে ২৫ ফুটের এই সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দু পাশের রেলিং ভেঙে অনেক আগেই খালে পড়ে গেছে। সেতুটির নিচে ফাটল ধরেছে, পলেস্তারা খসে গিয়ে বিপজ্জনকভাবে রড বেরিয়ে আছে, যা দিয়ে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, যানবাহন ও আশপাশের উপজেলার পূর্বাঞ্চলের বেশ ক'টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন এই জরাজীর্ণ সেতুটি মরণ ফাঁদ জেনেও চলাচলের অন্য কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম, তাফাজ্জল হোসেন বেপারীসহ আরও অনেকে বলেন, উপজেলার গুপ্টি এলাকা থেকে আষ্টা বাজার হয়ে উপজেলা সদরে আসার জন্যে এই সেতু ছাড়া অন্য কোনো সংযোগ সড়ক নেই। তাই ঝুঁকি জেনেও তারা বাধ্য হয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করছেন। এখানে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। ঈদের পূর্বে একটি গরুবাহী গাড়ি সেতুর ওপর উঠতে গিয়ে খালে পড়ে গেছে।
আষ্টা মহামায়া পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রায়হান, ইয়াসিনসহ আরও কয়েকজন বলেন, প্রতিদিন ভয় নিয়ে আমরা এই সেতুটি দিয়ে পারাপার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। দ্রুত এখানে নতুন সেতু নির্মাণ না করলে এলাকাবাসীর কোনো স্বস্তি নেই।
আষ্টা বাজার ব্যবসায়ী সোহেল হোসেন বলেন, এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে ৩৫ বছর আগে। সেতুটি করার ১০ বছর পরই প্রথমে পলেস্তারা খসে পড়ে। এখন রড বের হয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে কর্মকর্তারা এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গেলেও নতুন সেতু নির্মাণের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
আষ্টা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মো. মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অফিস জানিয়েছে, নতুন প্রকল্পে সেতুটি অন্তর্ভুক্ত হবে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, বিষয়টি আমারও দৃষ্টিগোচর হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি দ্রুত নির্মাণের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








