মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ১৯:০০

শিশু তাইফা এ জনমে আর হাঁটতে পারবে না

কামরুজ্জামান টুটুল।
শিশু তাইফা এ জনমে আর হাঁটতে পারবে না
মতলব এক্সপ্রেসের চাকাতে পিষ্ট তাইফার এক পা কাটা, আরেক পা ব্যন্ডেজ করা। পাশে ফুটফুটে তাইফা। ছবি : সংগৃহীত।

এ জনমে আর হাঁটতে পারবে না দু বছরের শিশু কন্যা তাইফা। বেপরোয়া গতির গাড়ির আনাড়ি আর অদক্ষ চালকের কারণে পুরো একটি বাস চলে গেছে ছোট্ট তুলতুলে তাইফার দু পায়ের ওপর দিয়ে। এতে করে তাইফার একটি পা দুর্ঘটনার দিনে কেটে ফেলা হয়েছে, আরেকটি পা রক্ষার চেষ্টা চলছে চিকিৎসকদের। এ ঘটনায় তাইফার পরিবার স্তব্ধ হয়ে গেছে। তাইফা রয়েছে কোমায়। এ ঘটনার ঘাতক

ঢাকা-বাবুরহাট রুটে চলাচলকারী মতলব এক্সপ্রেসের বাস, যার নং- ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৫৬১৪। ঘটনাটি সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) ভর দুপুরে খোদ চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাট বাজার এলাকার। তাইফার বাবা প্রবাসী হওয়ার কারণে তাইফার চাচা ইমামে রাব্বানী চাঁদপুর সদর মডেল থানায় এ বিষয়ে এজাহার দায়ের করেছেন।

এতে বিবাদী করা হয়েছে মতলব এক্সপ্রেসের সেই ঘাতক বাসের চালক, হেলপার ও সুপাইভাইজারকে।

আসামিরা হলেন বাসের চালক দাউদকান্দি থানার শিরারচর গ্রামের রফিক প্রদানের ছেলে কবির হোসেন (৪৫), একই বাসের হেলপার মতলব উত্তর উপজেলার ছেঙ্গারচর গ্রামের শরীফের ছেলে মো. আরিফ (২৮) ও উক্ত পরিবহনের সুপারভাইজার।

দু বছরের ছোট্ট শিশু কন্যা তাইফার বাবা রনি হাওলাদার প্রবাসী। তার বাবার বাড়ি হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউনিয়নের গোগরা রশিদ হাওলাদার বাড়ি। এজহার সূত্রে জানা যায়, তাইফা তার মা লিজা আক্তারের সাথে সোমবার দুপুর ১১ টার দিকে জৈনপুর পরিবহনের একটি বাসযোগে ঢাকা থেকে বাবুরহাটে সড়কের পাশে এসে নামে। এ সময় পাশ দিয়ে বেপরোয়া গতিতে অতিক্রম করা ঢাকাগামী মতলব পরিবহনের মেট্রো-ব-১১-৫৬১৪ নাম্বারের বাসটি শিশু তাইফাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। মায়ের সাথে থাকা ছোট্ট তাইফার করুণ অবস্থা দেখে সাথে সাথে শত শত লোকজন তাইফাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখান থেকে রাতেই তাইফাকে ঢাকা রেফার করা হয়। ঢাকার শ্যামলীতে মেডিক ফেয়ার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাইফার একটি পা কেটে ফেলেন এবং আরেকটি পা রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে ৯০ ভাগ আশা ছেড়ে দিয়ে কথা বলছেন চিকিৎসকরা।

এজাহারের বাদী ইমামে রাব্বানী আরো জানান, দুর্ঘটনার পরে শত শত মানুষ তা স্বচক্ষে দেখে। তাইফার ব্যাপারে উপস্থিত সবাই বলেছে, এ ঘটনার জন্যে মতলব এক্সপ্রেসের সেই বাসটিই একমাত্র দায়ী। আমার ভাজিতির অবস্থা খুবই খারাপ। যে বাচ্চা মায়ের কোলে ঘুমায়, সেই বাচ্চার পা কেটে ফেলা হয়েছে, সে তো মেয়ে মানুষ, কী করবো বলেই কান্না শুরু করে দেন ইমামে রাব্বানী।

তাইফার বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো নুরুল আলম জানান, মামলা প্রক্রিয়াধীন, পরবর্তী পদক্ষেপে আমরা কাজ করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়