প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ২২:০৫
ধনাগোদার ভাঙ্গন-হুমকিতে স্কুল ও কলেজ ভবন
আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা নদীর তীরে অবস্থিত ধনাগোদা তালতলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদ ও ঈদগাহের বাউন্ডারি দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয়ের মূল ভবন, ধনাগোদা বাজার, ফসলি জমি, বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
|আরো খবর
রোববার (২১ জুন ২০২৬) সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরঘেঁষা মসজিদ ও ঈদগাহের সীমানা দেয়ালের বিভিন্ন অংশে বড়ো ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। নদীর স্রোতের কারণে তীরের মাটি সরে গিয়ে দেয়ালের নিচের অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, পুরো বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাসপিয়া ও নাজমুল বলেন, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এসে নদীর পাড়ের অবস্থা দেখে ভয় লাগে। ভাঙ্গন যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে বিদ্যালয় ভবনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড়ো ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, আমরা পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দি উপজেলা থেকে নৌকায় করে ধনাগোদা নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসি। নদীর পাড় ভাঙ্গতে দেখে খুবই আতঙ্কে আছি। আমাদের বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্যে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।এদিকে নদীভাঙ্গনের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগ্রহণ না করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফারুকুল ইসলাম বলেন, নদীর প্রবল স্রোতের কারণে মসজিদ ও ঈদগাহের দেয়াল কয়েক জায়গায় ফেটে গেছে এবং ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ঈদগাহের পরেই আমাদের বিদ্যালয়ের মূল ভবন অবস্থিত। এভাবে ভাঙ্গন চলতে থাকলে যে কোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছুদিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এসে এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। আমরা চাই, জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণ করে ভাঙ্গন রোধ করা হোক।
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, ধনাগোদা নদীর ভাঙ্গনপ্রবণ এলাকাগুলো আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। তালতলী এলাকার পরিস্থিতিও আমাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থাগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ধনাগোদা নদীর ভাঙ্গনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। জনগণের জানমাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।








