প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১৮:২৬
হাজীগঞ্জে প্রসূতির মৃত্যুতে চিকিৎসকসহ ৭জনের নামে মামলা।। হাসপাতালে তালা

হাজীগঞ্জের পূর্ব বাজারে শাহমিরান হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে চিকিৎসক, মালিক ও অপারেশন সংশ্লিষ্ট মিলিয়ে ৭জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে হাসপাতালটিতে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। মামলার বাদী নিহতের মা ফাতেমা বেগম। নিহতের ময়না তদন্ত শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ঘটনাটি শুক্রবার (১৯ জুন ২০২৬) বিকেলে ঘটেছে।
নিহত লামিয়া আক্তার তুবা (২১) হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া বেপারী বাড়ির ওমান প্রবাসী পারভেজের স্ত্রী।
নিহতের মা ফাতেমা বেগম থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমার মেয়ের প্রসব ব্যথা শুরু হলে হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজার শাহমিরান হাসপাতালে সুস্থ অবস্থায় ভর্তি করাই। অভিযুক্ত ৫নং বিবাদীর যোগসাজশে অন্য বিবাদীরা ও হাসপাতালের নার্সরা আমার মেয়ে লামিয়া আক্তারকে সিজার রুমে নিয়ে যায়। সেখানে অজ্ঞান করে সিজার করলে মেয়ের বাচ্চা প্রসব হয়। এর বেশ সময় পার হওয়ার পরও মেয়ের জ্ঞান ফিরে নি। এক পর্যায়ে কর্মরত ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলার কারণে আমার মেয়ে সিজার রুমে মারা যায়। কিন্তু তার পেটের সন্তান সুস্থ অবস্থায় আছে। মেয়ে মারা যাওয়ার পর বিবাদীদেরকে আমার মেয়ের মৃত্যু সংক্রান্তে জিজ্ঞাসা করলে বিবাদী এবং অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আমাদের সাথে অশোভন আচরণ করে ও গোপনে একে একে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।
মামলার বিবাদীরা হলেন ডা. ওয়াসীক ফয়সাল (৫০), ডা. আবুল কালাম আজাদ (৫৭), মোশারফ হোসেন পাটওয়ারী (৬০), ডা. সাইফুল ইসলাম (৫০), মো. মাসুদ (৪৫), ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন (৪০), মো. আলম (৪০)সহ নার্স ও আরো অজ্ঞাতনামা ক'জন।এ বিষয়ে শাহমিরান হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, রোগীর এটা প্রথম কেস। সুস্থ রোগীকে ডেলিভারীর পরে ওয়ার্ডে দেয়া হয়েছে। আড়াই ঘন্টা পরে রোগী বাচ্চাকে দুধ দিয়েছে। তারপরে হঠাৎ করে কী হয়েছে ঠিক আমরা বুঝতে পারি না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রোগীর হার্টের সমস্যা হতে পারে। তবে এটাও আমরা নিশ্চিত নই।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মান্নান জানান, শাহ মিরান হাসপাতালে মারা যাওয়া নারীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে নিহতের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।








