প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ২৩:০১
শাহতলীতে শিক্ষাবিদ এটি আহমেদ হোসাইন রুশদীর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী কামিল মাদরাসা, শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাওলানা এটি আহমেদ হোসাইন রুশদীর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোরআন খতম, কবর জিয়ারত, স্মরণ সভা, মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
|আরো খবর
শনিবার (২০ জুন ২০২৬) সকালে শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ মিলনায়তনে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। তিনি বলেন, প্রতিবছর মরহুম রুশদী সাহেবের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও এলাকাবাসী কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে তাঁকে স্মরণ করে থাকে। আজকে মরহুমের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে যথাযোগ্য মর্যাদায়। তিনি জীবদ্দশায় প্রচারবিমুখ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। নারী শিক্ষায় রুশদী সাহেবের অবদান অনস্বীকার্য। আমার দাদা মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী শাহতলী কামিল মাদরাসাকে কামিল স্তর করেছেন। তাঁর অবদানের কারণেই আজ শাহতলীতে একটি কামিল মাদরাসা হয়েছে। রুশদী সাহেব নিজেই ইতিহাস। তিনি নিজের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নামকরণ করেননি। তিনি এ অঞ্চলসহ দেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। তিনি অনেক মানুষকে চাকুরি দিয়েছেন। এ মহান ব্যক্তির নাতি হিসেবে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে অনেক জমি দান করেছেন। দিয়েছেন উদারতার পরিচয়। আমাদের বাড়িতে নারী শিক্ষার উন্নয়নে করেছেন উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছেন। শুরু করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল। এতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে এবং শিক্ষার্থী ঝরেপড়া রোধ হচ্ছে। চাঁদপুরের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। তিনি শিক্ষার উন্নয়নেও কাজ করছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩০৩-এর নারী এমপি আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হীরা কিছুদিন উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উবিতে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানগুলো কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। যুগ যুগ ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে। সবার আগে শিক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের মোবাইলের প্রতি আসক্তি কমাতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ ও মানবিক মানুষ হতে হবে।
জিলানী চিশতী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জহিরুল ইসলাম খান মুরাদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন শাহতলী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোহসিন উদ্দিন, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নূরুজ্জামান, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (অব.) মো. আবুল কালাম আজাদ, ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. তহমিনা আক্তার, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দিদার হোসেন মিজি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাহতলী কামিল মাদরাসার প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা আখতার হোসাইন, জিলানী চিশতী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা ছোহাইল আহমাদ চিশতী, সহকারী অধ্যাপক নুরুন নাহার বেগম মুক্তা, জিলানী চিশতী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান, ফারজানা আক্তার, মো. হানিফ মিয়া, সিনিয়র প্রভাষক মো. মানিক মিয়া, প্রভাষক মো. শাহাদাৎ হোসেন, মো. মাহবুবুর রহমান, ফরিদা ইয়াছমিন, মোসা. মনোয়ারা খাতুন, সুমা রানী, শাহতলী কামিল মাদারাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা এমদাদ উল্লাহ, মোহাম্মদুল্লাহ, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মিজানুর রহমান, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফাহিমা জাহান, রাবেয়া বেগম, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মো. লুৎফুর রহমান প্রমুখ।কর্মসূচির শুরুতে সকাল সাড়ে ৯টায় শাহতলী কলেজ মসজিদে পবিত্র কোরআন খতম করা হয়। কোরআন খতম শেষে মরহুমের কবর জিয়ারত করেন অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়। দোয়া, মিলাদ ও মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহতলী কামিল মাদারাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। সভাপতির বক্তব্য রাখেন জিলানী চিশতী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুল হাসান।








