প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ২১:০১
ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের তেলেসমাতি
গ্রাহককে ৩০ হাজারের পরিবর্তে দিলো ২০ হাজার টাকার রসিদ

ফরিদগঞ্জে হুকিং করে দু হাজার ইটে কয়েক ঘণ্টা পানি দিয়েছেন এক ব্যক্তি। বিষয়টি টের পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তাকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। ওই ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বিপরীতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তি ও তার প্রতিবন্ধী চাচার বিদ্যুৎ মিটার খুলে নিয়ে আসে এবং জরিমানা স্বরূপ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দাবি করে। বিগত মাহে রমজানের সময়ের ওই ঘটনার পর ফরিদ মিজি বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তদবির করে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার জরিমানা সর্বশেষ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনেন। সেই অনুযায়ী তিনি গত সোমবার (১১ মে ২০২৬) দিনভর প্রচেষ্টা চালিয়ে ৩০ হাজার ৪৭৬ টাকা সায়েম নামে এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে নগদ জমা দেন। রসিদ নিয়ে তিনি বাড়ি এসে দেখেন, তাকে ৩০ হাজার ৪৭৬ টাকার পরিবর্তে ২০ হাজার ৮৪৬ টাকার রসিদ দিয়েছে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ।
|আরো খবর
মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এভাবে পল্লী বিদ্যুতের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চির্কা গ্রামের সাধারণ ব্যবসায়ী ফরিদ মিজি বলেন, "বিদ্যুৎ লাইনে হুকিং করে আমি ভুল করেছি। আমি নিজে তা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছি। আমাকে ক্ষমা না করে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ আমার এবং আমার প্রতিবন্ধী চাচা শাহআলম মিজির বিদ্যুৎ মিটার খুলে নিয়ে যায় এবং ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে জমা দিতে বলে।"
মাহে রমজানের সময়ের এই ঘটনায় তিনি বারবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অনুরোধ করে জরিমানা ১ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ধাপে ধাপে ৬২ হাজার, ৫২ হাজার, ৪৬ হাজার এবং সর্বশেষ ৩০ হাজার ৪৭৬ টাকায় নামিয়ে আনেন। ১১ মে তিনি পুরো জরিমানার টাকা জমা দেন। পরে বাড়ি গিয়ে দেখেন, তাকে মাত্র ২০ হাজার টাকার রসিদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও ১২ মে দুপুর পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হয়নি। তাই তিনি বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্যে ফরিদ মিজি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তাকে আরও ৮ হাজার টাকার একটি পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দেন বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম সাইফুল আলম বলেন, আমি কাগজপত্র না দেখে কিছু বলতে পারবো না।








