প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ১৩:৩৫
পৈত্রিক ভিটা বঞ্চিত রুজিনা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে

রুজিনা আক্তার, বয়স ২৫। ঢাকায় মায়ের সাথে থেকে কোনোক্রমে নিজের জীবিকা নির্বাহ করেন। গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের হর্ণি দুর্গাপুর গ্রামে। তার দাদার নামে সম্পত্তি রয়েছে ২ একর, আবার পিতার ক্রয় সূত্রে রয়েছে ৩৭শতক সম্পত্তি। কিন্তু কোনো কিছুতেই তার অধিকার নেই। এতোদিন সকলে আশা দিলেও এখন চাচা ও জেঠা কেউই এক ফোঁটা সম্পত্তি দিতে রাজি নন। পিতার মৃত্যুর পর তার একমাত্র ওয়ারিশ হিসেবে সম্পত্তির দাবি করলে উল্টো হুমকি-ধমকি খেতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে। বাপ-দাদার এতো সহায় সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও পৈত্রিক ভিটার অধিকার পাওয়ার জন্যে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।
রুজিনা আক্তার জানান, আমার পিতা মরহুম আলী আহম্মদের একমাত্র মেয়ে আমি। পিতার অসুস্থতার কারণে ছোট বেলা থেকেই কষ্টে মানুষ হয়েছি। যতোদিন পিতা ছিলেন ততোদিন চাচা-জেঠারা কোনো কিছুই বলেন নি। বাবা মারা যাওয়ার পর তারা এখন আমাকে কেউই চিনেন না। আমার দাদা আব্দুল মজিবের নামে দু একর সম্পত্তি (হর্নি মৌজার ১৫১নং খতিয়ানে)।
আমাদের হর্ণি দুর্গাপুর গ্রামে এবং বাবার নিজের (হর্নি মৌজার ২৪৫ ও ২৪৬নং খতিয়ানে) নামে কেনা ৩৭ শতক জমি থাকলেও বর্তমানে একফোঁটা সম্পত্তির ভাগীদার নই আমি। যখনই আমি আমার ন্যায্য অধিকার বুঝে পেতে চেয়েছি, তখনই বলেছে আমার বাবা তার সকল সম্পত্তি বিক্রি করে গেছেন। কিন্তু কোনো দলিল দেখাতে পারেননি। দাদার ওয়ারিশের কোনো কাগজ দেখাতে না পারলেও আমার বাবার ক্রয়কৃত ৩৭ শতক জমির মধ্যে ৩৩ শতক জমির হাতে লেখা একটি অছিয়তনামা দেখান, যা আদৌ বৈধ নয়। এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে আমাকে মারধরের হুমকি দেন তারা। ফলে বাধ্য হয়ে আমি জেঠা রাজ্জাক হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। মূলত তার কারণেই আমি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তিনি আমর পিতার সকল সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইসমাইল হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, রুজিনা তার ন্যায্য পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত আব্দুর রাজ্জাক গংয়ের কারণে। তার পিতার একমাত্র ওয়ারিশ হিসেবে আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রুজিনাকে তার ওয়ারিশের সম্পত্তি বুঝিয়ে দিক।
এ ব্যাপারে আব্দুর রাজ্জাক ও তার স্ত্রী পারুল বেগম জানান, আলী আহম্মদ মৃত্যুর পূর্বে তাদেরকে ৩৩শতক জমি অছিয়ত করে দিয়েছেন। জমি অছিয়ত করলেও তারা তা কিনে নিয়েছেন। এছাড়া আব্দুল মজিদের ২ একর জমির ওয়ারিশ রুজিনা পাবেন কিনা তার ব্যাপারে তারা কোনো সদুত্তর দেননি।








