প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ০১:০২
ইচ্ছাশক্তিই যার প্রেরণা
শাহরাস্তির সিএনজি চালক আলাউদ্দিনের অনন্য দৃষ্টান্ত

শাহরাস্তি উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিএনজি চালক মো. আলাউদ্দিন। নিজের সীমিত সামর্থ্য কে শক্তিতে রূপ দিয়ে গত সাত বছর ধরে তিনি অসহায়, দরিদ্র, এতিম ও পবিত্র কোরআনের হাফেজ দের বিনামূল্যে যাতায়াত এর সুযোগ দিয়ে আসছেন।
|আরো খবর
২০১৯ সাল থেকে দোয়াভাঙ্গা, নিজমেহের ও সূচিপাড়া রুটে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন আলাউদ্দিন। তার সিএনজির চারপাশে লাগানো স্টিকারেই ফুটে উঠেছে মানবতার বার্তা—'অসহায়, এতিম ও হাফেজদের জন্য ভাড়া ফ্রি'। যাত্রাপথে এমন কাউকে পেলে তিনি কখনোই ভাড়া নেন না।
দু সন্তানের জনক আলাউদ্দিন জানান, ২০১৭ সালে তার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম সিএনজি অটোরিকশাটি চুরি হয়ে গেলে তিনি ভেঙ্গে পড়েন। তখন তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন—পুনরায় সিএনজি পেলে মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। পরবর্তীতে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০১৯ সালে নতুন সিএনজি ক্রয় করে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন শুরু করেন।
এ পর্যন্ত তিনি ২০০ জনেরও বেশি অসহায়, এতিম ও হাফেজকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত এর সুযোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, প্রতিদিনের আয়ের ৫ শতাংশ আলাদা করে রেখে দেন জনহিতকর কাজে ব্যয়ের জন্যে। তার সিএনজিতে রাখা একটি দান বাক্স এ নিজে দান করার পাশাপাশি যাত্রীরাও স্বেচ্ছায় সহায়তা করেন।
সম্প্রতি নিজমেহের মোল্লাবাড়ি খানকাহ মসজিদের সিলিং নির্মাণে ৪২ হাজার টাকা র প্রয়োজন হলে তিনি নিজে ১৫ হাজার টাকা দেন এবং বাকি অর্থ সংগ্রহ করে কাজটি সম্পন্ন করেন। এছাড়া উপজেলার পাঞ্জেগানা মসজিদের মাইক ও মেশিন চুরি হয়ে গেলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৮ হাজার টাকা দিয়ে নতুন মাইক ও যন্ত্রপাতি কিনে দেন।
আলাউদ্দিন বলেন, “যাত্রীদের দেখেই অনেক সময় বুঝতে পারি তাদের অবস্থা। প্রয়োজনে জিজ্ঞাসা করি। কেউ অসহায় হলে বা হাফেজ হলে তাদের কাছ থেকে ভাড়া নেই না। এটাই আমার শান্তি।”
মানবসেবার পাশাপাশি তিনি রাস্তাঘাটের ছোটখাটো সমস্যা ও নিজ উদ্যোগে সমাধান করেন। কোথাও গর্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখলে নিজেই মেরামতের চেষ্টা করেন, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমে।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মাইনুল ইসলাম কাজল বলেন, “আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নিঃস্বার্থভাবে জনহিতকর কাজ করে যাচ্ছে। তার এই উদ্যোগ সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।”
সমাজের অনেক সচ্ছল মানুষের মাঝেও যেখানে মানবিক উদ্যোগের ঘাটতি দেখা যায়, সেখানে একজন সাধারণ সিএনজি চালকের এমন দৃষ্টান্ত সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। স্থানীয়দের প্রত্যাশা—আলাউদ্দিনের এই মানবিক কার্যক্রম সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ুক।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








