প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ০০:৫২
কুরআন শিক্ষার দেশখ্যাত প্রতিষ্ঠান মমিন বাড়ি মাদ্রাসা

চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলায় এমন একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেটি কুরআন শিক্ষার জন্যে দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছে। এটি হচ্ছে বালিয়া ইউনিয়নের কুমুরুয়া গ্রামের মমিনবাড়ি মাদ্রাসা। শত বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত ক্বারী, কিংবদন্তিতুল্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ইব্রাহীম খান (রহ.)। স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সে সহীহ-শুদ্ধভাবে কোরআন শিক্ষা ছাড়াও প্রতি রমজান মাসে এই মাদ্রাসায় বিভিন্ন বয়সী লোকজন কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করছেন।
এই মাদ্রাসার ক্বেরাত বিভাগের পাঠদানের পদ্ধতির দেশ-বিদেশে সুনাম-সুখ্যাতি রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ক্বেরাত বিভাগের পাঠ সম্পন্ন করে দেশের বহু মাদ্রাসার ক্বেরাত বিভাগ পরিচালনা করছেন শত শত শিক্ষক। বর্তমানে শুধুমাত্র ক্বেরাত বিভাগই নয়, হিফজুল কুরআন ও নুরানী বিভাগ রয়েছে। যার ফলে স্থানীয় বহু শিশু খুবই মনোরম পরিবেশে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
এ বছর এই মাদ্রাসায় সাধারণ শিক্ষিতসহ বিভিন্ন বয়সী লোকজন রমজান মাসজুড়ে কুরআন শিক্ষা নিচ্ছেন। ২৫ রমজান দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কুরআন শিক্ষার কার্যক্রম সমাপ্তি হবে। আর এই দোয়া অনুষ্ঠানে বহু ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাদ্রাসা মসজিদে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও এলাকার বহু মানুষ নামাজ আদায় করেন। চাঁদপুর সদর দক্ষিণ অঞ্চলের লোকদের জন্যে এই মাদ্রাসা একটি ধর্মীয় কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
মাদ্রাসার পাশের চাপিলা গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ খান বলেন, এই মাদ্রাসার কারণে আশপাশের কয়েক গ্রামের মসজিদে প্রশিক্ষিত ইমাম এবং মক্তবগুলোতে শিক্ষক পাওয়াটা সহজ হয়ে গেছে। এর ফলে নামাজ আদায় ও কুরআন শিক্ষায় সুফল পাচ্ছে এলাকাবাসী। আর এই ধারাবাহিকতা যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি।
একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা হয় মাদ্রাসার পাঠদান সম্পর্কে। তাঁরা জানান, মাদ্রাসায় আবাসিক ও অনাবাসিক ব্যবস্থায় পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অত্যন্ত দক্ষ হাফেজদের তত্ত্বাবধানে হিফজ বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। এ বছর মাদ্রাসার হিফজ সম্পন্ন করা হাফেজ মুহাম্মদ জুবায়ের হোসেন, আবু সাঈদ, মো. শামছুদ্দিন ও আশরাফ আলী মাদ্রাসা মসজিদে খতমে তারাবি পড়িয়েছেন।
মাদ্রাসার বর্তমান মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মো. আশরাফ আলী খান বলেন, এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে সহীহ-শুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষার কার্যক্রম চলমান। পূর্ব পুরুষদের সেই ধারাবাহিকতা তিনিও অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন এই মাদ্রাসায় এসে আবাসিক এবং লজিং থেকে কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করছেন। আর এই ব্যবস্থাপনায় বহু বছর স্থানীয় কয়েক গ্রামের লোকজন সহযোগিতা করে আসছেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসায় ক্বেরাত বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগ অত্যন্ত সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে। হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত বেশ ক'বছর মাদ্রাসা মসজিদে খতমে তারাবি পড়াচ্ছেন। এছাড়া যুগ যুগ ধরে এখানে কোনো প্রকার বিনিময় ছাড়া হাফেজগণ তারাবি পড়াচ্ছেন। তিনি সকলের কাছে মাদ্রাসার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।








