প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১২
ফরিদগঞ্জে কৃষিবান্ধব এমপির প্রত্যাশা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুসারে এই উপজেলায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৩১জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৬০৩জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ২৭জন।
এই নির্বাচনে মোট ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এঁরা হলেন : বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদ (প্রতীক ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান (প্রতীক চিংড়ি), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজী (প্রতীক দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আল্লামা মকবুল হোসাইন (প্রতীক হাতপাখা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী (প্রতীক লাঙ্গল), গণফোরামের প্রার্থী মো. মুনীর চৌধুরী (প্রতীক উদীয়মান সূর্য), ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী আব্দুল মালেক বুলবুল (প্রতীক মোমবাতি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন (প্রতীক ঘুড়ি) ।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচপ্রকল্প চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকাভুক্ত ফরিদগঞ্জ। ফলে এখানে ব্যাপক হারে ধানের আবাদের সাথে সাথে মৎস্য চাষ হয়। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণের সাথে সাথে মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে সারাদেশে ৫ম অবস্থায় রয়েছে ফরিদগঞ্জ। কিন্তু এক সময়ের বন্যামুক্ত এলাকাটি এখন ফি বছর জলাবদ্ধতায় ভুগছে। এছাড়া বর্ষায় কৃষি জমি থেকে ড্রেজিং করে বালি উত্তোলন ও শুষ্ক মৌসুমে কৃষি জমির মাটি দেদার নিয়ে যায় ইটভাটাগুলো। এককালের ভয়াল ডাকাতিয়া নদী দখলে ও দূষণে মৃত প্রায়। সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরে দীর্ঘ তিনযুগ পর খাল খনন শুরু হলেও সেটি প্রত্যাশার কাছেও নেই। এছাড়া সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। ফলে এখানকার মানুষের হতাশা বাড়ছে।
আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত এমপির কাছে কী প্রত্যাশা এমন প্রশ্নের জবাবে নানা চাওয়ার ভিড়ে এসব বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। কৃষকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন কৃষক সংগ্রাম কমিটি চাঁদপুরের অন্যতম সদস্য, নারী নেত্রী রহিমা আক্তার কলি বলেন, এমপিরা মূলত আইন প্রণেতা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সেই দৃষ্টিতে আমি চাইবো ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই আসনে যিনি এমপি নির্বাচিত হবেন, তিনি সিআইপির হারানো গৌরব উদ্ধারে ব্যবস্থা নেবেন। কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থে কাজ করলে বাঁচবে কৃষক, মাছ চাষী, সবজি চাষী এবং অর্থনীতিতে যার প্রভাব পড়বে।
পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক আলমীগর হোসেন বলেন, আমার এলাকাসহ পুরো উপজেলায়
মাটিখেকোরা জমির টপ সয়েল কেটে নিচ্ছে প্রতিবছর। এতে জমিগুলো উর্বরতা ও নাব্যতা হারাচ্ছে। এসব মুক্ত ফরিদগঞ্জ চাই আমরা।
প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলায় নেই টেকনিক্যাল কলেজ। অথচ জেলার সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে এই উপজেলার বাসিন্দাদের কাছ থেকে। প্রবাসে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে শিমুল নামে নতুন এক ভোটার বলেন, আমরা প্রশিক্ষিত হয়ে বিদেশে যেতে চাই।
বৃহৎ এই উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক। ভাঙ্গাচুরা সড়কের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে। পশ্চিম আলোনিয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আমানত হোসেন বলেন, আমাদের দরকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন। যিনি এমপি হবেন, তাঁর কাছে এটাই প্রথম চাওয়া।
জেলে পরিবারের সদস্য বিমল দাস বলেন, ডাকাতিয়া নদীটি খনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসলে এই উপজেলার অন্তত ১০ হাজার জেলে পরিবার আবারো জাল নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে নামতে পারবে।







