রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৫

চাঁদপুর-৫ আসনে জামায়াতের ওপর ভর করে লড়ছেন এলডিপির প্রার্থী

পাপ্পু মাহমুদ
চাঁদপুর-৫ আসনে জামায়াতের ওপর ভর করে লড়ছেন এলডিপির প্রার্থী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃতাধীন ১১ দলীয় জোট চাঁদপুর-৫ আসনটি এলডিপির পক্ষে ছেড়ে দিয়েছে । এলডিপির জেলা ও উপজেলায় কমিটি না থাকলেও চাঁদপুর-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির। তিনি এবারের নির্বাচনে ছাতা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন। ১১ দলীয় জোট এলডিপিকে ছেড়ে দেওয়ায় জামায়াতের কোনো প্রার্থী নেই আসনটিতে। জোটের কারণে এ আসনটি জামায়াত ছেড়ে দিলেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের জোর আপত্তি ছিলো। জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়েও হয়েছে অনেক নাটকীয়তা।

জেলার হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নিয়ে চাঁদপুর-৫ আসন গঠিত। দুটি উপজেলা ও দুটি পৌরসভার কোনোটিতেই এলডিপির কমিটি বা নেতাকর্মী নেই বললেই চলে। নিজ দলের নেতাকর্মীবিহীন এলডিপির প্রার্থী ভর করেছেন জামায়াতে ইসলামীর উপর। জামায়াত নেতাকর্মীদের নিয়েই চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।

১১ দলীয় জোট হলেও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি ( এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ছাড়া অন্য কোনো দলের তেমন অস্তিত্ব নেই হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিতে। তবে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. নেয়ামুল বশির জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। সম্প্রতি তিনি সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়ে করে এমনটাই জানান। এছাড়াও তিনি নির্বাচিত হলে কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, কেন্দ্রীয় নির্দেশ মেনে জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও তৃণমূলে রয়েছে অসন্তোষ। নির্বাচনের আর ক'দিন বাকি থাকলেও সাধারণ নেতাকর্মীর মন জয় করতে পারেননি ড. নেয়ামুল বশির। জামায়াত এলডিপির পক্ষে কাজ করলেও আন্তরিকতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। অনেকটাই গাছাড়া ভাব।

হাজীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির বি এম কলিমউল্লাহ জানান, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের প্রার্থীকে জয়ী করে আনবো ইনশাল্লাহ। আমাদের মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই, মতবিরোধ নেই। অন্যদিকে শক্ত অবস্থানে আছেন ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক। তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। নির্বাচনের অভিজ্ঞতায়ও বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। তাছাড়া তৃণমূলে রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন লাভ করে দলের সকল গ্রুপকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হন তিনি। বিএনপির নেতাকর্মীরা জয়ের ব্যাপারে বেশ উজ্জীবিত।

হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এম এ রহিম পাটোয়ারী জানান, বিএনপি এ আসনটিতে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে--এতে কোনো সন্দেহ নেই। ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির জনগণের পাশে আছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৮শ' ৭১ জন ভোটার। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ততম সময় পার করছেন প্রার্থীরা। আসনটিতে আরো ক'জন প্রার্থী থাকলেও বিএনপি ও এলডিপির সাথে হবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা । বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপি হলেও মূল লড়াইটা জামায়াতে ইসলামীর সাথেই। ঐক্যবদ্ধ বিএনপির সাথে কতোটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে জামায়াত নির্ভর এলডিপি--সেটাতেই এখন সাধারণ ভোটারদের মনোযোগ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়