শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ২১:০৬

অনিয়মিত থেকেও ভুয়া কাগজপত্রে চাকরি করছেন এক শিক্ষক

কাগজপত্র যাছাইয়ে অসঙ্গতি পেলে নেয়া হবে ব্যবস্থা : ইউএনও

অনলাইন ডেস্ক
অনিয়মিত থেকেও ভুয়া কাগজপত্রে চাকরি করছেন এক শিক্ষক

চাঁদপুরে একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত না থেকেও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নিয়মিত হিসেবে কর্মরত আছেন এক শিক্ষক। আবার সেই কাগজপত্রের বলেই তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানের। এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মচারীরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের অসঙ্গতি পেলে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

শাহরাস্তি উপজেলায় অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খিলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর বাংলা প্রভাষক পদে নিয়োগ পান আখতারুজ্জামান নামে এক শিক্ষক। তিনি ছিলেন বাংলা বিষয়ের প্রভাষক। ৪ বছর পর কলেজে চাকুরিরত

অবস্থায় তিনি ২০১৮ সালে যোগদান করেন ব্র্যাক নামক এনজিওতে। সেখানে তিনি সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ২ বছর ৬ মাস। তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে ব্র্যাক মাইক্রো ফিন্যান্স, ঢালুয়া, লাঙ্গলকোট, কুমিল্লা শাখার ব্যবস্থাপক (প্রগতি) মো. আমিরুল ইসলাম দিয়েছেন একটি প্রত্যয়নপত্র । স্যালারি শিটের মাধ্যমে প্রতি মাসে বেতনও ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছেন তিনি।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, কলেজটি এমপিভুক্ত হওয়ার খবর পেয়ে ২০২০ সালে পুনরায় ফিরে আসেন পূর্বের প্রতিষ্ঠান খিলাবাজার স্কুল এন্ড কলেজে। কলেজে যোগদান করলেও অনিয়মিত হয়ে যান দুটি বছর। তখন প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন মিয়ার যোগসাজশে কলেজের যোগদান থেকে শুরু করে বিরতিহীনভাবে ভুয়া প্রফেশনাল সার্টিফিকেট সংযুক্তির মাধ্যমে অনিয়মিত থেকে বনে যান নিয়মিত শিক্ষক মো. আখতারুজ্জামান। ফলে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত হন ২০২৩ সালের জুলাই মাসে। বর্তমানে সেই পদবী ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে। এক প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশারফ মিয়া বিরতিহীনভাবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন এবং এ সার্টিফিকেট সম্বন্ধে জানেন না বলে জানান। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, প্রভাষক আক্তারুজ্জামানের চাকুরি স্থায়ীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট প্রফেশনাল সার্টিফিকেট ফাইলপত্রে কীভাবে এলো?

শিক্ষক আখতারুজ্জামানের এমন কর্মকাণ্ডে বিস্মিত সতীর্থরা। তবে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের প্রভাষক এমরান হোসেন ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ইমরান হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন কলেজে অনুপস্থিত ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে মমতাজ বেগম ও জাহিদুল হাসান নামে খণ্ডকালীন দুজন শিক্ষক নিয়োগ দেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা প্রতি মাসের বেতন স্বাক্ষর দিয়ে উত্তোলন করেছেন।

অভিযোগ আছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়ার পর শিক্ষক আখতারুজ্জামান প্রতিষ্ঠানে শুরু করেন স্বেচ্ছাচারিতা। এক প্রশ্নের জবাবে কলেজে অনুপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো বেতন-ভাতা নেননি। মূলত স্কুল এন্ড কলেজটি এমপিওভুক্ত হয় ২০২২ সালের জুলাই মাসের ৬ তারিখ। তখন থেকে শিক্ষক আখতারুজ্জামান নিচ্ছেন সরকারি সুবিধা। অথচ শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি বিধিমালা-২০০৬ ধারা ২ ও ৩-এ উল্লেখ আছে, কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে পূর্ণকালীন উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান/চাকরিতে কর্মরত থাকা বা নিয়মিত উপস্থিত না দেখানো এমপিওভুক্তির শর্তাবলির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ধারা-৪-এ উল্লেখ আছে, এমপিওভুক্তি নেয়ার আগে সকল তথ্য সত্যনিষ্ঠভাবে সরবরাহ করতে হবে। মিথ্যা তথ্য বা চাকরির ইতিহাস গোপন করলে এমপিওভুক্তি বাতিলযোগ্য।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল্লাহ বলেন, এমপিওভুক্ত কলেজগুলো জেলা শিক্ষা অফিসের আওতাভুক্ত হলেও শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হয় কুমিল্লা আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে। তবে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিষয়টি তাদের অবহিত করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছেন। কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে অসঙ্গতি পেলে নেয়া হবে ব্যবস্থা।

উল্লেখ্য, কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দু শতাধিক। শিক্ষকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন ৪০ জন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়