প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১০:০৬
ছোট্ট হাসানের প্রথম রোজার দিন

আজ ছোট্ট হাসানের জীবনে খুব আনন্দের দিন। আজ সে প্রথমবার রোজা রাখবে। রাতে ঘুমানোর আগে থেকেই সে খুব উত্তেজিত ছিল। বারবার মাকে জিজ্ঞেস করছিল,
“মা, আমি পারব তো সারাদিন না খেয়ে থাকতে?”
মা মুচকি হেসে বললেন,
“পারবে ইনশাআল্লাহ। মন শক্ত রাখলেই সব হয়।”
ভোরবেলা মা যখন ডেকে তুললেন, তখন হাসানের চোখ ঠিকমতো খুলতেই চাইছিল না। তবুও সে দ্রুত উঠে বসলো। মা তাকে গরম ভাত, ডিম আর দুধ দিলেন। বাবা পাশে বসে বললেন,
“আজ তুমি বড়দের মতো রোজা রাখবে।”
খেয়ে সবাই একসাথে দোয়া করল। তারপর হাসান আবার একটু ঘুমিয়ে পড়ল।
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে সে স্কুলের কাজ করতে বসল। তার খিদে লাগছিল, কিন্তু সে কাউকে কিছু বলল না। পাশে ছোট বোন চকলেট খাচ্ছিল। হাসান একটু তাকিয়ে থাকল, তারপর নিজেই নিজেকে বলল,
“আমি রোজা রাখছি। আমি পারব।”
দুপুরে খুব গরম পড়ল। খেলতে যেতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু শরীর একটু দুর্বল লাগছিল। তাই সে ঘরে বসে রঙ পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকল। সে একটা সুন্দর মসজিদের ছবি আঁকল। ছবির পাশে লিখল
“রোজা ভালো মানুষ বানায়।”
বিকেলে মা বললেন,
“হাসান, একটু বাজার থেকে ধনে পাতা এনে দেবে?”
হাসান সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেল। পথে সে দেখল এক গরিব চাচা রাস্তার পাশে বসে আছেন। হাসান তার দিকে তাকিয়ে মায়ের কথা মনে করলÑ
“রোজায় সবাইকে সাহায্য করতে হয়।”
বাড়ি ফিরে সে মাকে সব বলল। মা ইফতারের জন্য একটি খাবারের প্যাকেট বানিয়ে হাসানের হাতে দিলেন। হাসান খুব খুশি হয়ে সেই চাচার কাছে দিয়ে এল। চাচা তার মাথায় হাত রেখে দোয়া করলেন। হাসানের মনটা খুব ভালো হয়ে গেল।
বাড়ি ফিরে এসে সে আর একটু কুরআন পড়ল। তারপর বারান্দায় বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। সে ভাবল,
“আজ আমি শুধু না খেয়ে থাকিনি, আমি ভালো কাজও করেছি।”
আস্তে আস্তে সন্ধ্যা নামল। মা রান্নাঘরে ইফতারের সব কিছু সাজাতে লাগলেন। টেবিলে ছিল খেজুর, শরবত, পেঁয়াজু আর ফল। হাসান ঘড়ির দিকে বারবার তাকাচ্ছিল।
হঠাৎ মসজিদ থেকে মাগরিবের আজান ভেসে এল।
হাসানের মুখে তখন এক বিশাল হাসি। সে খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙল। পানি খেয়ে সে বলল,
“মা, আমার মনে হচ্ছে আজ আমি খুব সাহসী হয়েছি।”
বাবা তার কাঁধে হাত রেখে বললেন,
“হ্যাঁ, আজ তুমি সত্যি বড় হয়েছো।”
খাওয়া শেষে হাসান মায়ের পাশে বসে বলল,
“আগামীকালও আমি রোজা রাখব।”
মা হাসলেন।
হাসান মনে মনে ঠিক করল
রোজা মানে শুধু না খাওয়া নয়,
রোজা মানে ভালো কথা বলা,
ভালো কাজ করা
আর সবার প্রতি দয়া দেখানো।






