প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ২২:৩৮
কমলগঞ্জে পরকীয়ার বলি ২ সন্তানের জননী, স্বামী সহ প্রেমিকা আটক

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মদনমোহনপুর চা বাগানে স্বামী ও তার পরকীয়া প্রেমিকার নির্যাতনের বলি হয়ে ২ সন্তানের জননী সরস্বতী নামে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। ঘটনায় নিহতের লাশ উদ্ধার সহ নিহতের স্বামী বিশ্বজিত ও তার পরকীয়া প্রেমিকা মুন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আটক করেছে থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মদনমোহনপুর চা বাগানের গাঙ্গ লাইনের শ্রমিক পাড়া এলাকার চা শ্রমিক মৃত হরিদাসের ছেলে বিশ্বজিত দাস পারিবারিকভাবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একই উপজেলার ধলই চা বাগানের গগন রবি দাসের মেয়ে সরস্বতী রবিদাস (২৬)কে প্রায় ৬ বছর পূর্বে বিয়ে করে। তাদের ৬ বছরের সংসারে জীবনে ২ বছরের এক ছেলে ও ৬ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহত সরস্বতীর মা কমলা রবিদাস, বড়ো বোন সুনিতা দাস ও চাচাতো ভাই শিমুল দাস জানান, তাদের সংসার জীবন ভালোভাবেই চলার এক পর্যায়ে বিশ্বজিত দাস মাধবপুর চা বাগানের গোপাল বুনার্জীর স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী মুন্নী বুনার্জীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে গত মে ২০২৫ মাসে পরকীয়া প্রেমিকা মুন্নী বুনার্জীকে সামাজিকভাবে বিবাহ না করে বিশ্বজিতের মদনমোহনপুর চা বাগানস্থ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে একই বাড়িতে বিশ্বজিত, তার ১ম স্ত্রী ও তাদের সন্তান সহ পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে বসবাস করতে থাকে। বসবাসকালীন সময়ে বিশ্বজিত ও তার প্রেমিকা মুন্নি বুনার্জী বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে সরস্বতীকে নির্যাতন করতো।
সরস্বতীর মা কমলা দাস আরো বলেন, ২৭ আগস্ট ২০২৫ (বুধবার) রাতে বিশ্বজিত ও তার প্রেমিকা মুন্নি বুনার্জী নির্যাতন করে মুমূর্ষু অবস্থায় সরস্বতীকে তার বাবার বাড়ি ধলই চা বাগানে নিয়ে আসে। এ সময় বিশ্বজিত বলেন, তার মেয়েকে নিয়ে আর সংসার করবে না। সরস্বতীর মা কমলা মেয়ের জামাই বিশ্বজিতকে বুঝিয়ে রাতে তার বাড়িতে রেখে দেন। এদিকে ২৮ আগস্ট সকালে বিশ্বজিত একাই মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসার জন্যে সরস্বতীকে নিয়ে কমলগঞ্জ সদর হাসপাতালে গেলে সেখানে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্যে রেফার করেন। বিশ্বজিত সরস্বতীকে চিকিৎসার জন্যে অন্য কোনো হাসপাতালে না নিয়ে মদনমোহনপুর চা বাগানের গাঙ্গ লাইনের শ্রমিক পাড়া এলাকার তার বাড়িতে নিয়ে যায়। বিকেল সাড়ে ৩টায় সরস্বতী মারা যান।
ঘটনার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ওসি শামীম আকনজি সহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেন। এই সময় জিঞ্জাসাবাদের জন্যে মৃতের স্বামী ও প্রেমিকাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
মাধবপুর ইউপি সদস্য মোতাহের আলী ও ইউপি সদস্যা মালতি রাণী বুনার্জী বলেন, সরস্বতী ও বিশ্বজিতের বিবাহ সামাজিকভাবেই হয়েছে। পরে আর কোনো বিয়ের খবর পাইনি। তবে বিশ্বজিতের চরিত্র ভালো না।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে মৌলভীবাজারস্থ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ২ জনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। মামলা হলে তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।