প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬
চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি
----জয়নাল আবেদিন জনু

জয়নাল আবেদিন জনু চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব। চাঁদপুর জেলার ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। একজন কৃতী ফুটবলার হিসেবে সুপরিচিত এই ব্যক্তিত্ব চাঁদপুর পৌরসভার কমিশনার হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন; খেলোয়াড়রাই তাঁকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি শুধু একজন খেলোয়াড়ই ছিলেন না, একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠকও বটে। নতুন বাজার ক্রীড়া চক্রসহ বিভিন্ন ক্লাবের সাথে তিনি দীর্ঘকাল সম্পৃক্ত ছিলেন। জেলা ক্রীড়া সংস্থার তিন মেয়াদে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ফুটবল উপ-কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এছাড়া তিনি খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সেক্রেটারি হিসেবেও কাজ করেছেন। বহু বছর পর এই দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক এখন চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন, যার আহ্বায়ক হলেন খোদ জেলা প্রশাসক। ১০ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এই বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়। বর্তমানে এই কমিটির পথচলার বয়স এখনো তিন মাস পূর্ণ হয়নি ।
স্বল্প সময়ের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ক্রীড়াকণ্ঠের পক্ষে এএইচএম আহসান উল্লাহ। সাক্ষাৎকারটি নিচে প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো :
ক্রীড়াকণ্ঠ : এই স্বল্প সময়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে পথচলার অভিজ্ঞতা কেমন? ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন এবং সমস্যা ও সমাধানে আপনার পরিকল্পনা কী?
জয়নাল আবেদিন জনু : ক্রীড়া সংস্থার মূল কাজ হলো ক্লাবগুলোকে উজ্জীবিত রাখা এবং বছরব্যাপী খেলাধুলা সচল রাখা। আমি দায়িত্বে আসার পর দেখেছি ক্রীড়াঙ্গনে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। অবশ্য দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণেই এমনটা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা দ্রুতই এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাব।
ক্রীড়াকণ্ঠ : দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন?
জয়নাল আবেদিন জনু : আমরা শুরুতেই ক্লাবগুলোকে সচল করার চেষ্টা করছি। ক্লাবগুলোর সাথে পর্যায়ক্রমে বৈঠক চলছে। আমার কমিটির আহ্বায়ক জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে সমন্বয় করে আমরা আমাদের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি।
ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও সাঁতারসহ অন্যান্য খেলাধুলার বর্তমান অবস্থাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
জয়নাল আবেদিন জনু : বর্তমান অবস্থা যা-ই থাকুক, আমরা চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে আবার জাগিয়ে তুলবো। চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক মহোদয় একজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ এবং সাবেক কৃতী খেলোয়াড়। তিনি যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে তাঁর সম্মান রক্ষা করার চেষ্টা করবো। তিনি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্লাবে এবং খেলার মাঠে গিয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছেন, যা তাঁর ক্রীড়ানুরাগের পরিচয় দেয়।
ক্রীড়াকণ্ঠ : জেলার খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
জয়নাল আবেদিন জনু : জাতীয় মানের খেলোয়াড় তৈরি করতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ করতে হবে। আমাদের পরিকল্পনা হলোÑআন্তঃপ্রাইমারি, আন্তঃস্কুল এবং আন্তঃকলেজ পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা। সেখান থেকে মেধাবী খেলোয়াড় বাছাই করে আগামী ডিসেম্বরে ফুটবল ও ক্রিকেটের বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। এই ক্যাম্পে ঢাকা থেকে দক্ষ কোচ এনে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
ক্রীড়াকণ্ঠ : জেলা স্টেডিয়াম ও আউটার স্টেডিয়ামের অরুণ নন্দী সুইমিংপুলসহ অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কারে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে?
জয়নাল আবেদিন জনু : স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ চলছে এবং ইনডোর স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অরুণ নন্দী সুইমিংপুল সচল করার জন্যে নতুন পানির পাম্প বসানোর কাজও প্রায় সম্পন্ন। আশা করছি আগামী দুই মাসের মধ্যে সুইমিংপুলটি পুরোপুরি চালু করা যাবে।
ক্রীড়াকণ্ঠ : গ্রামাঞ্চল ও উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে ক্রীড়া সংস্থার ভাবনা কী?
জয়নাল আবেদিন জনু : তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তুলে আনতে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি প্রাইমারি ও হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি-১’ সম্পন্ন হয়েছে। সামনে ‘নতুন কুঁড়ি-২’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ’ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে গ্রাম পর্যায়ে।
ক্রীড়াকণ্ঠ : কিশোর ও তরুণদের মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ভূমিকা কতটুকু?
জয়নাল আবেদিন জনু : সামাজিক অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত মাঠ প্রয়োজন, যা আমাদের শহরে অপ্রতুল। শহরের বিভিন্ন স্থানে সরকারি খাস বা পরিত্যক্ত জমি রয়েছে, সেগুলো খেলার মাঠ হিসেবে প্রস্তুত করা যেতে পারে। যেমনÑচাঁদপুর শহরের ইচলী এলাকায় পাটওয়ারী কোল্ড স্টোরেজের বিপরীতে একটি বিশাল সরকারি খাস জমি খালি পড়ে আছে, সেখানে সুন্দর একটি মাঠ এবং পৌর কবরস্থান করা সম্ভব।
ক্রীড়াকণ্ঠ : নারী ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে এবং মহিলা ক্রীড়া সংস্থা নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
জয়নাল আবেদিন জনু : ‘প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপে’ মেয়েদের ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া মাননীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শ অনুযায়ী খুব শীঘ্রই মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠন করা হবে।
ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনের প্রধান সমস্যাগুলো কী কী? এর সমাধান কীভাবে সম্ভব?
জয়নাল আবেদিন জনু : প্রধান সমস্যা হলো দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক ও পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাব। এছাড়া স্পন্সরশিপের সংকটও রয়েছে। ক্লাবগুলো আর্থিক দিক থেকে সচ্ছল নয়। আমাদের ২০টি ক্লাবকে সচল ও শক্তিশালী করতে নতুন ক্রীড়া সংগঠকদের এগিয়ে আসতে হবে।
ক্রীড়াকণ্ঠ : স্থানীয় ক্লাবগুলোকে শক্তিশালী করতে এবং বেসরকারি সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
জয়নাল আবেদিন জনু : ক্লাবগুলোকে কার্যকর করা স্থানীয় সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের কাজ। এক্ষেত্রে স্থানীয় বিত্তশালীদের উদারভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
ক্রীড়াকণ্ঠ : আগামী পাঁচ বছরে চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে কোথায় দেখতে চান?
জয়নাল আবেদিন জনু : এটি আমার কর্মই বলে দিবে।
ক্রীড়াকণ্ঠ : জেলার সাবেক কৃতী খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছেন?
জয়নাল আবেদিন জনু : কৃতী খেলোয়াড়দের তাঁদের পারদর্শিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন উপ-কমিটিতে (যেমন: ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্স) সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
ক্রীড়াকণ্ঠ : দর্শকদের মাঠমুখী করতে বা বড় কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা আছে কি?
জয়নাল আবেদিন জনু : বছরব্যাপী খেলাধুলা সচল রাখলে দর্শক এমনিতেই মাঠে ফিরবে। বৃষ্টির মৌসুম শেষ হলে ১৫টি জেলার অংশগ্রহণে জাতীয় মানের ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়াকণ্ঠ : বর্তমান তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?
জয়নাল আবেদিন জনু : মাদক ও মোবাইল আসক্তিকে ‘না’ বলতে হবে। অভিভাবকদের অনুরোধ করবো, সন্তানদের প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টার জন্য হলেও খেলার মাঠে নিয়ে যান। এতে তাদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
ক্রীড়াকণ্ঠ : সরকারের কাছে এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
জয়নাল আবেদিন জনু : সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে খেলাধুলার প্রসার শুরু করেছে। এখন জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদেরও পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসতে হবে। ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন উপ-কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তির চেয়ে ক্রীড়ামোদিদের গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
ক্রীড়াকণ্ঠ : পরিশেষে চাঁদপুরবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার স্বপ্ন সম্পর্কে কিছু বলুন।
জয়নাল আবেদিন জনু : চাঁদপুরবাসীর কাছে আমার আবেদনÑআপনারা ক্রীড়াঙ্গনকে পৃষ্ঠপোষকতা করুন এবং সমাজকে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে সন্তানদের মাঠমুখী করুন।








