বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১৫:২২

বিশ্বকাপে আমার গভীর অনুরাগের কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাজিল

...... আজাদ সুমন

কবির হোসেন মিজি।।
বিশ্বকাপে আমার গভীর অনুরাগের কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাজিল

শিক্ষা, সংগীত ও সংস্কৃতির এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব আজাদ সুমন চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেছেন,

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই এক অন্যরকম আবেগের নাম। চার বছর পরপর যখন বিশ্বের সেরা দলগুলো এক মঞ্চে মিলিত হয়, তখন যেন পুরো পৃথিবী একটি বিশাল স্টেডিয়ামে পরিণত হয়। মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ায় ফুটবলের গল্প, পতাকার রঙে রঙিন হয়ে ওঠে শহর-বন্দর-গ্রাম। আনন্দ, প্রত্যাশা আর উত্তেজনার এই মহোৎসবই বিশ্বকাপ ফুটবল।

তিনি বলেন, শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ। আর সেই অনুরাগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রাজিল। হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামা ব্রাজিল দলকে দেখলেই মনে হয় যেন ফুটবল কোনো খেলা নয়, এটি এক শিল্প। বল পায়ে তাদের ছন্দময় গতি, নিখুঁত পাস আর মনোমুগ্ধকর আক্রমণ যেন সবুজ মাঠে এক জীবন্ত কবিতার জন্ম দেয়।

ব্রাজিলের ফুটবল ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে অসংখ্য কিংবদন্তির হাত ধরে। পেলের জাদুকরি স্পর্শ, রোনালদোর দুরন্ত গতি, রোনালদিনহোর হাসিমাখা শিল্পসত্তা কিংবা নেইমারের সৃজনশীলতা—সব মিলিয়ে ব্রাজিল যেন ফুটবলের এক অনন্ত মহাকাব্য। তাদের খেলা দেখলে মনে হয়, জয়লাভই একমাত্র লক্ষ্য নয়, সৌন্দর্যের মধ্য দিয়েও মানুষের হৃদয় জয় করা যায়।

আজাদ সুমন বলেন, বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে আমি নতুন স্বপ্ন বুনি ব্রাজিলকে ঘিরে। তাদের প্রতিটি গোল আমার হৃদয়ে আনন্দের ঢেউ তোলে, আর পরাজয় এনে দেয় বিষাদের ছায়া। তবুও ভালোবাসা কখনো কমে না। কারণ প্রকৃত সমর্থন শুধু বিজয়ের মুহূর্তে নয়, কঠিন সময়েও পাশে থাকার নাম। বিশ্বকাপ ফুটবল পৃথিবীর কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন। আর সেই স্পন্দনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার প্রিয় দল ব্রাজিলের নাম। সময়ের স্রোত বয়ে যাবে, নতুন নতুন তারকার জন্ম হবে, বিশ্বকাপের আসর বদলাবে; কিন্তু ব্রাজিলের প্রতি আমার ভালোবাসা চিরকাল অমলিন থাকবে। ফুটবলের সবুজ মাঠে হলুদ জার্সির সেই স্বপ্নময় অভিযাত্রা আমার হৃদয়ে চিরদিনের জন্যে এক অনন্ত আনন্দের প্রতীক হয়ে থাকবে।

নারায়ণগঞ্জের সংস্কৃতি অঙ্গনে পরিচিত এক নাম আজাদ সুমন। তিনি পেশাগত জীবনে একজন শিক্ষক এবং একই সঙ্গে সংগীত ও অভিনয় জগতের একজন সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে তিনি হাজী মিছির আলী ডিগ্রি কলেজ, নারায়ণগঞ্জ-এর হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর নিষ্ঠা, দক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা তাঁকে একজন জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শিক্ষকতার পাশাপাশি আজাদ সুমন দীর্ঘদিন ধরে সংগীতচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি একজন সুরকার, মিউজিশিয়ান, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে বিভিন্ন মৌলিক গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর সুর ও সংগীত পরিচালনায় নির্মিত গানগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয় শিল্পেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ। অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তাঁর বহুমাত্রিক প্রতিভা তাঁকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক অনন্য সেতুবন্ধনে পরিণত করেছে।

আজাদ সুমন বিশ্বাস করেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি একটি জাতির উন্নয়নের দু প্রধান ভিত্তি। তাই তিনি জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন সফল শিক্ষক, সুরকার, সংগীত পরিচালক, কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা হিসেবে আজাদ সুমনের পথচলা আগামী দিনেও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়