শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৪৯

বিশ্বখ্যাত সাতারু আ: মালেকের মৃত্যু দিবস, নীরবেই চলে গেলো দিনটি

স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্বখ্যাত সাতারু আ: মালেকের মৃত্যু দিবস, নীরবেই চলে গেলো দিনটি

চাঁদপুররঃ ১৭ ফেরুয়ারি,১৯৮৩ সালের এদিনে না ফেরার দেশে চলে যান দেশের গবির্ত সন্তান, চাঁদপুরের গৌরব ও বিলেতে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া প্রখ্যাত সাতারু আ: মালেক ।নীরবেই চলে গেলো দিবসটি। এতদোপলক্ষে, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোন কমর্সূচী ছিলো না। সেদিন তাঁর মৃত্যুতে চাঁদপুর শহরময় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।তাঁর জন্ম ১৯৩৮ সালে । মাত্র ৪৬ বছর বয়সে তিনি ১৯৮৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ রিদরোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে বসবাসকালীন মারা যান । তিনি ছিলেন চিরকুমার। মৃত্যুর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি তার লাশ চাঁদপুরে আনা হলে শহরময় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয় ।

চাঁদপুর সদরের উপকন্ঠে নিজ পিত্রালয়ে তরপুরচন্ডি গ্রামে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয় । ওই সময়ে ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ছিলেন মহকুমা প্রশাসক আক্তার হোসেন খান । দাফন করার সময় তিনিসহ সকল ক্রীড়াবিদ ও শতশত লোক উপস্থিত ছিলেন। চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী গ্রামের মরহুম আবদুল জলিল মিয়ার বড় সন্তান আবদুল মালেক।

আজ দুপুরে নিজ বাড়ির গাছের সুশীতল ছায়ায় পুকুর ঘাটে তাঁর ঘটনাবহুল স্মৃতি রোমন্থন করতে যেয়ে তারঁই ছোট ভাই প্রখ্যাত সাঁতারু একে এম বাদশা মিয়া অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান, মালেক চাঁদপুরে স্কুল ও কলেজের এইচ এসসি পড়ালেখার পাশাপাশি ছিলো খুব ভালো এথলেট।তুখোর ফুটবল খেলোয়ার। সে ছিলো অলরাউন্ডার। চাঁদপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে উচ্চ শিক্ষালাভের জন্য ঢা বি তে বিকম অনার্স ও এমকম পড়ে শেষ করেন। ঢা বি-তে তিনি দু’বার ব্লু (blue)লাভ করেন পর পর ১৯৫৯ ও ১৯৬০ সালে।সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে তিনি ৩ বার ক্রীড়া সম্পাদক হন। ১৯৫৭ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁদারে স্বর্পদক লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে জাপানের টকিওতে এশিয় অলিম্পিক সাঁতারে অংশ নেন্ । ১৯৫৯ সালে ঢাকা জাতীয় সুইমিং পুলে ৬০ মাইল সাঁতার কেটে তিনি জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি করেন।

১৯৬২ সালে সাঁতার ফেডারেশন কর্তৃক আয়োজিত ঢাকা –চাঁদপুর দূরপাল্লার সাঁতার প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি ইটালীতে বিশ্ব দূরপাল্লা ৩৩ মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতায় তিনি বিশ্বের মধ্যে ৪র্থ এবং এশিয়া মহাদেশের মধ্যে ১ম স্থান অধিকার করেন।১৯৬৪ সালে চাঁদপুর শহরে লেকে তিনি ৩৫ মাইল সাঁতার কাটেন। ১৯৬৫ সালেও ইংলিশ চ্যানেল এসোসিয়েশন কর্ৃক আয়োজিত নারায়নগঞ্জ-চাঁদপুর দূর পাল্লার সাঁতারে তিনি ১ম স্থান অধিকার করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি ৩ ঘন্টা ৪২ মিনিটে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন- যা ছিলো ওই বছরের প্রতিযোগিতায় সবচাইতে কম সময়ের । ১৯৬৫ সালে তিনি লন্ডনে বসবাস করতে থাকেন। সেখানে তিনি সি এ পাশ করেন। সেখানে সাঁতারের কোচ হিসেবে লন্ডনের দোবারকেন্টে নিয়োজিত হন। তাঁরা জানান, মালেক লন্ডনেই বসবাস করছিলেন মৃত্যু পযর্ন্ত ।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্বের সময়ে প্রচন্ড ইচ্ছা থাকা সত্বেও তিনি দেশে ফিরতে পারেন নাই। কিন্তু মহান স্বাধীনতা যুদ্বকালিন সময়ে তিনি লন্ডনে অন্যান্য স্বাধীনতাকামি বাংগালীদের সাথে একযোগে স্বাধীনতার সপক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করেছেন, মুক্তিযুদ্বের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন- যা পরবতির্তে সরকারের কাছে জমা দেন। বতর্মান সরকার বিদেশে যাঁরা মুক্তিযুদ্বের জন্য অনেক ত্যাগ তিতীক্ষা করেছেন তাঁদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্বান্ত নিয়েছেন। আ মালেকও এ সম্মানটা পাওয়ার অধিকারি দাবী করেন মালেকের ভাইদ্বয়- সাতারু বাদশা ও ডা আ: রশিদ। তাঁরা এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ব বিষয়ক মন্ত্রীর কৃপা দৃষ্টি আকষর্ন করেছেন। তাঁরা জানান, সাঁতার প্রতিযোগিতায় মালেকের বহু রেকর্ড রয়েছে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। কিন্তু এই ক্রীড়াবিদের খোঁজ এখন আর কেউ রাখেন না। জেলা শহরের নিকটেই এই সাঁতারুর পৈত্রিক বাড়ী ও সমাধি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমানে ক্রীড়াঙ্গন দেশে অনেক দূর এগিয়েছে। উন্নত ও সমৃদ্ধ হয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন।

বিশ্বের দরবারে ক্রীড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিচিতিও বেড়েছে। যাঁদের ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমরা পরিচিত, তাঁদের মধ্যে অন্যতম সাঁতারু মরহুম আবদুল মালেক। যিনি বাংলাদেশের গৌরব ও আমাদের চাঁদপুরের কৃতিসন্তান ও গর্ব তাঁর মৃত্যুর পরে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে এই কৃতি সাঁতারুর নামে মালেক ক্রীড়া ভবন থাকলেও অনেকেই তা জানেননা। বিভিন্ন কারনে নামটিও মুছে যাচ্ছে , তা ঢাকা পড়ে আছে।কারন এখানে এখন শিশু একাডেমীর অফিস অবস্থিত। তিনি ছিলেন চিরকুমার । ছোট পরিসরে ১৯৮৬ সালের ৩ জানুয়ারি চাঁদপুর ফাউন্ডেশন কতৃক সওগাত সম্পাদক নাসিরউদ্দীন, শিল্পী হাশেম খান, বুয়েটের ভিসি শাহরাস্তির সন্তান ড. আ. মতিন পাটোয়ারি ও প্রখ্যাত শিল্পী মনিরুল ইসলাম সহ তাঁকেও সংবধর্না (মরনোত্তর) দেয়া হয় সরকারি মহিলা কলেজে। এরপরে এতো বছরও তাঁকে আর স্মরন করা হয়নি।

তিনি বিস্মৃতিতেই আছেন চাঁদপুরের মানুষের কাছে । নতুন প্রজন্মের কাছে জেলার কৃতি এ ক্ষনজন্মা লোকটির কৃতিত্ব তুলে ধরার জন্য কোন আয়োজন থাকে না। চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা বর্তমানে সরকারি অর্থায়নে ও পৃষ্ঠপোষকতায় ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে বহু আয়োজন করে। এসব আয়োজনে সাঁতারু আঃ মালেকদের মত ব্যাক্তিদের জীবন গাঁধা তুলে ধরলে নতুন প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হবে এমনটাই জানান জেলার প্রবীণ ক্রীড়াবিদ ও সাঁতারুগন। প্রতি বছরই দিনটি আসে নীরবে, চলেও যায় নীরবে। ১৭ ফেব্রয়ারি,২০২২ তাঁর মৃত্যু দিবস উপলক্ষে পারিবারিকভাবে আয়োজন করা হয় বিশেষ দোয়া মাহফিল ও দু:স্থদের জন্য খাবার বিতরন। জেলা ক্রীড়া সংস্থা তাঁর মৃত্যু দিবসে কখনো কোন স্মরন সভা বা কর্মসূচির আয়োজন করেন না বলে দু:খের সাথে জানান মরহুম মালেকের ভাইদ্বয়- প্রখ্যাত সাঁতারু বাদশা মিয়া ও ডা: আ রশিদ, প্রখ্যাত সাঁতারু রোকনুজ্জামান ভুইয়া ও মুক্তিযোদ্ধা মো:সানাউল্লাহ খান, উদীয়মান সাঁতারুগন ও গ্রামবাসীরা -যারা তাঁকে নিয়ে অহংকার করেন। তাঁর স্মরনে ও সম্মানার্থে শহরে কোন সড়কও নেই । চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামটি সাঁতারু মালেকের নামে নামকরন করার আহবান জানান তাঁর পরিবারবর্গ ও চাঁদপুরবাসি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়