মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০০:২৯

নির্যাতিত তুখোড় ছাত্রদল নেতার খোঁজ রাখেনি কেউ !

যে কোনোভাবে হোক প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে চান তাঁর কষ্টের কথা এবং পেতে চান উপযুক্ত চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক
যে কোনোভাবে হোক প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে চান তাঁর কষ্টের কথা এবং পেতে চান উপযুক্ত চিকিৎসা
ছবি :নজরুল ইসলাম ফারুক

নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলনে চাঁদপুরের অন্যতম নির্যাতিত ছাত্রনেতা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের পক্ষে ভিপি প্রার্থিতার আবেদনকারী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক কোষাধ্যক্ষ, ৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলনে চাঁদপুর শহরে পুলিশের গুলিতে শহীদ রাজুর অন্যতম সহযোগী নজরুল ইসলাম ফারুকের খোঁজ রাখেনি কেউ।

রাজনৈতিক মামলায় আটক হয়ে পুলিশের নির্যাতনের কারণে শ্রবণপ্রতিবন্ধী হয়ে যান এক সময়ের এই তুখোড় ছাত্রনেতা। রাজনীতির পাশাপাশি একটা সময় জাতীয় দৈনিক দিনকাল-এর চাঁদপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা নজরুল ইসলাম ফারুকের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের বড় শাহতলী মজুমদার বাড়ি।

হাজীগঞ্জ বাজারের এক সময়ের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বর্তমানে নীরবে নিভৃতে হাজীগঞ্জের টোরাগড় গ্রামে শ্বশুরের বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দিনযাপন করছেন। তাঁর স্ত্রী একজন নারী উদ্যোক্তা হয়েও সরকারি কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে ব্যবসা বাড়ালেও সুখের দিন ফিরছে না ফারুকের।

নজরুল ইসলাম ফারুক বিএ (ফার্স্ট ক্লাস), এম এ পাস। হাজীগঞ্জ বাজারে নাবিলা ফ্যাশন কর্নার ও লিপি গার্মেন্টস-এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। শ্রবণপ্রতিবন্ধী হবার কারণে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

ছাত্রজীবন থেকে নির্যাতনের শিকার

ছাত্রজীবনে রাজনীতি শুরু করেন ছাত্রদলে যোগদান করে। এই রাজনীতি করতে গিয়ে মামলা-হামলা আর পুলিশি নির্যাতনের কারণে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়ে গেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নজরুল ইসলাম ফারুক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জেলা শাখা মনোনীত চাঁসক ভিপি প্রার্থী (১৯৮৯ খ্রি.) ছিলেন।

চাঁদপুর পূর্বাঞ্চলীয় ছাত্র কল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে টানা তিনবার সভাপতি পদে, শাহতলী স্বজন সমাজকল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পদে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে, চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের কোষাধ্যক্ষ ও দপ্তর সম্পাদক (১৯৮৭-২০০২ খ্রি.) পদে দায়িত্ব পালন করেন।

চাঁদপুরস্থ কম্পন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাহিত্য ও প্রচার সম্পাদক পদে ছিলেন দীর্ঘদিন। এ ছাড়া তিনি জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক পদে থেকে সামাজিক বহু কাজ করেছেন। সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন অ্যাডভোকেট আইয়ুব আলী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত।

ফারুকের বেদনাভরা স্মৃতিচারণ

শ্রবণ প্রতিবন্ধী ফারুকের সাথে কথা হলে স্ত্রী ও কন্যার সহযোগিতায় তিনি বলেন, "৯০-এ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে চাঁদপুর শহরে চিত্রলেখার মোড়ে আমরা মিছিল বের করি। সেই মিছিলে পুলিশ গুলি করে। এতে মিছিলে আমার পাশে থাকা রাজু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শহীদ হন।

বিএনপির বর্তমান জেলা নেতা, তৎকালীন ছাত্রদলের শীর্ষ নেতা শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছকে শহরের ছায়াবাণী মোড়ে সন্ত্রাসীরা কোপানোর আগ পর্যন্ত আমি তার সাথে রিকশাতে ছিলাম। তাঁর ওপরে হামলার সময় আমি দৌড়ে প্রাণে রক্ষা পাই।

সর্বশেষ একটি মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় আমার নামে ওয়ারেন্ট ছিলো, যা আমি জানতাম না। সেই মামলায় আমাকে ১/১১-এর সময় হাজীগঞ্জের শ্বশুরের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। থানাতে নিয়ে ব্যাপক মারধর করার কারণে আমি শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হই, যে কারণে আমার শ্রবণশক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।

সেই আটকে আমি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। কারাগারে আমার সাথে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি, সাবেক মেয়র শফিকুর রহমান ভূঁইয়া ভাইসহ কচুয়ার অনেক নেতা ছিলেন।

শফিকুর রহমান ভূঁইয়া আমাকে বাইরে থেকে ঔষধপত্র এনে দিতেন, এমনকি উনার জন্যে বাড়ি থেকে আনা খাবার আমাকে খাওয়াতেন। দলের জন্যে এতো কিছু করার পরেও এখন সময়ের কারণে আমার বা আমার পরিবারের কেউ কোনো খোঁজ রাখেনি বলে কেঁদে ফেলেন তিনি।"

স্ত্রীর ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সহায়তার আকুতি

তিনি আরো বলেন, "আমার স্ত্রী হাজীগঞ্জ বাজারের একজন নারী উদ্যোক্তা। ব্যবসা বাড়ানোর জন্যে আমার স্ত্রী বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে মোটা অংকের সুদে ঋণ নিয়ে এখন সব ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সে কম সুদে ঋণ পেলে ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমি বিশ্বাস করি।"

পরিবার ও সন্তানদের শিক্ষাগত সাফল্য

উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত জীবনে নজরুল ইসলাম ফারুক ৩ মেয়ে ১ ছেলের জনক। বড়ো মেয়ে এমএ অধ্যয়নরত। ছোট দু মেয়ে জমজ নাবিলা-মেঘলা হাজীগঞ্জ মডেল কলেজ থেকে জিপিএ-ফাইভ পেয়ে চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়ছে। সবার ছোট ছেলে মেহেদী ইসলাম বায়েজীদ কোরআনে হাফেজ

চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আকুতি

নজরুল ইসলাম ফারুক তাঁর জীবনের নির্যাতনময় কালো অধ্যায়ের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে যে কোনোভাবে হোক তুলে ধরতে চান—এটা তাঁর বিশেষ আকুতি।

দলে কোনো বড়ো পদ-পদবী পাওয়ার জন্যে নয়, দলের জন্যে তাঁর আত্মত্যাগের ন্যূনতম মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় দেশে/বিদেশে যদি উপযুক্ত চিকিৎসার সুযোগ তিনি পান, তাহলে তিনি তাঁর শ্রবণশক্তি ফিরে পেয়ে কর্মক্ষম হতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন।

এছাড়া তাঁর স্ত্রী নারী উদ্যোক্তা হিসেবে যদি স্বল্প সুদে ঋণ পান, তাহলে তাঁর পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসবে এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ সহজ হবে।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়