শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:১৭

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : নাগরিক ভাবনা-১

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে স্থবিরতা কেটে যাবে, সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে

---হাজী আবুল কালাম জমাদার

মিজানুর রহমান
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে স্থবিরতা কেটে যাবে, সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে

ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রেখে চলেছেন আলহাজ্ব মো. আবুল কালাম জমাদার। চাঁদপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর এবং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে মেঘনার পশ্চিমপাড়ে নিজ এলাকাতে ক্রীড়াসামগ্রী, শীতবস্ত্র বিতরণসহ দুঃস্থ অসহায় মানুষকে সাহায্য করা, এলাকার নদী ভাংতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ অনেক সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন নিজ অর্থায়নে এবং ব্যক্তি উদ্যোগে। এছাড়া শুভাকাঙ্ক্ষী ও ব্যবসায়ী বন্ধু মহলের সহযোগিতা নিয়েও এলাকায় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী

সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন অদ্যাবধি। যে কোনো মানুষের বিপদে এগিয়ে আসছেন তিনি। ক্রীড়া ও শিক্ষানুরাগী হাজী মো. আবুল কালাম জমাদার আশির দশক থেকে বিএনপি ঘরানার রাজনীতি করছেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদে ছিলেন। তিনি একাধারে চাঁদপুর সদর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য, থানা বিএনপির সদস্য, জেলা বিএনপির সদস্য, জেলা বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল চাঁদপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা সমিতির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, দক্ষিণ চাঁদপুর জনকল্যাণ সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, ঢাকা ট্রেড সেন্টার স্পোর্টস্ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির বর্তমান সভাপতি এবং ফারুক স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী, সদর উপজেলার ১০নং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রামদাসদী গ্রামের বাসিন্দা।

হাজী মো. আবুল কালাম জমাদার আসছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এলাকায় আলোচিত। তিনি মন থেকে চাচ্ছেন নির্বাচন করবেন না, কিন্তু ইউনিয়নবাসীর বেশ আলোচনায় রয়েছেন তিনি। আবুল কালাম জমাদার জনপ্রতিনিধি না হয়েও এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড চলমান রেখেছেন।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ধারাবাহিক আয়োজন 'স্থানীয় সরকার নির্বাচন : নাগরিক ভাবনা'তে দেয়া তাঁর সাক্ষাৎকারটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার রাজনৈতিক, সামাজিক ও কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি বলুন।

হাজী আবুল কালাম জমাদার : আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচির প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করি। কারণ, আমার কাছে মনে হয়েছে ১৯ দফা কোনো রাজনৈতিক ঘোষণাপত্র ছিলো না। এটি ছিলো একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রের স্বপ্ন। আমি তখন ঢাকা কাপ্তান বাজারে ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করতাম। এখনো সেই ব্যবসার সাথে জড়িত। ওই সময় একজন একনিষ্ঠ সমর্থক এবং পরবর্তীতে চাঁদপুর ও কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভিন্ন পদ-পদবীতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছি।বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত একত্রিশ দফার রাজনীতি করে যাচ্ছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : অতীতের স্থানীয় সরকার নির্বাচন (উপজেলা পরিষদ/পৌরসভা/ ইউনিয়ন পরিষদ) নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

হাজী আবুল কালাম জমাদার : সংসদ সদস্য নির্বাচনে প্রফেসর এম আব্দুল্লাহ, এসএ সুলতান টিটু ও বর্তমানে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেবের নির্বাচন এলাকায় দায়িত্ব নিয়ে করেছি। এছাড়া উপজেলা নির্বাচনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ মাস্টার এবং দেওয়ান সফিকুজ্জামানের নির্বাচন করেছি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাবেক সাখুয়া ও বর্তমান লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে হাবু জমাদার এবং হাফেজ বেপারীর চারটা নির্বাচন করেছি। মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সাথে আমার একটা নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। যার নির্বাচনই করেছি সেসব প্রার্থী কামিয়াব হয়েছেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় বা দলীয়ভাবে কোনটি আপনার পছন্দ?

হাজী আবুল কালাম জমাদার : নির্বাচন নির্দলীয় হলেও যারা প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন তারা তো দলীয়। দলীয় ভালো লোক, গ্রহণযোগ্য লোক প্রার্থী হলে সমাজের উপকার হবে। ইউনিয়নের সুনাম প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছাবে ওনার কর্মকাণ্ডে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এ নির্বাচনে কেমন প্রার্থী বা কাকে আপনি দেখতে চান? প্রার্থীর গুণাবলি উল্লেখ করতে পারেন বা উপজেলা পরিষদ/ পৌরসভা/ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য কোন্ কোন্ প্রার্থী সম্পর্কে আপনি জানেন তাদের নাম উল্লেখ করতে পারেন কিংবা কেবল আপনার প্রত্যাশিত প্রার্থীর নাম উল্লেখ করতে পারেন।

হাজী আবুল কালাম জমাদার : শিক্ষিত, সৎ এবং যোগ্য, এলাকার জনগণের মাঝে যার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যার মাধ্যমে উপকৃত হবে সাধারণ মানুষ এমন প্রার্থী চাই। উপজেলা বলেন, পৌরসভা বলেন, ইউনিয়ন বলেন--এমন প্রার্থী চাই। প্রার্থী হবার বিষয়টি নির্ভর করবে দলের নীতি নির্ধারকদের ওপর।

চাঁদপুর কণ্ঠ : স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই বললেই চলে। সেবা কি পূর্বের মতোই আছে, না ব্যাহত হচ্ছে? তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরতে পারেন।

হাজী আবুল কালাম জমাদার : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশ পরিচালনা করছে। এরপর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নজর সবার। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেয়ার বিষয়ে সরকারের আগ্রহ রয়েছে। যত দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি আসবে, তখন বর্তমান স্থবিরতা তা কেটে যাবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে।

আবুল কালাম জমাদারের ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদান :

ঢাকা মনসুর স্পোর্টিং ক্লাবের দীর্ঘদিনের সহ-সভাপতি, ঢাকা গুলিস্তান ক্লাবের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফারুক স্পোর্টস্-এর নামে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, হ্যান্ডবলসহ

অনেক টুর্নামেন্ট চালিয়েছেন তিনি। চাঁদপুরে ১৯৯৩ সালে ফারুক স্পোর্টসের নামে সাড়া জাগানো গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট মধুসূদন স্কুল মাঠে চালানো হয়। ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চালানো হয়। মেয়েদের হ্যান্ডবল ও ভলিবল টুর্নামেন্টও করেছেন। নিজ ইউনিয়ন লক্ষ্মীপুরের প্রতিটি স্কুলে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেছেন। কালাম জমাদার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়, বহরিয়া বাজার থেকে বিভিন্ন সময় এলাকার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ফুটবল, ক্রিকেট বল, ব্যাট, ব্যাডমিন্টন সামগ্রী, জার্সি, ট্রাউজারসহ ক্রীড়া সামগ্রী নিজে গিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন।

হাজী মো. আবুল কালাম জমাদার বলেন, যে ক'দিন আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখেন, যাতে সামাজিক কর্মকাণ্ডে থাকতে পারি। আল্লাহ পাক যেন আমাকে শক্তি দান করেন, সবার কাছে সে দোয়া চাই।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়