প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৩২
ফরিদগঞ্জে ভোটের লাগাম তরুণদের হাতে!

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বইছে ভিন্নরকম এক ভোটের হাওয়া। গ্রামগঞ্জের কাঁচা-পাকা রাস্তা, হাট-বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে খেলার মাঠ—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটাই : কার হাতে যাচ্ছে আগামী দিনের ফরিদগঞ্জ? আর সেই প্রশ্নের উত্তরের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে তরুণ ভোটাররা।
|আরো খবর
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩১ জন। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার তরুণ ভোটার, যা মোট ভোটারের প্রায় ৩৭ শতাংশ। সংখ্যার এই শক্তিই বদলে দিচ্ছে পুরো নির্বাচনী সমীকরণ। অনেকটা বলা চলে চাঁদপুর-৪ আসনে এবার জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি তরুণদের হাতেই।
নির্বাচন যতোই ঘনিয়ে আসছে, ফরিদগঞ্জের গ্রামগুলোতে ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। সন্ধ্যা নামলেই চায়ের দোকানে জমে উঠছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। কে কেমন মানুষ, কে এলাকায় কাজ করেছে, কে শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ--এসব নিয়েই চলছে প্রাণবন্ত আলোচনা। মাঠে খেলতে নেমেও তরুণদের কথার ফাঁকে ঢুকে পড়ছে নির্বাচন, উন্নয়ন আর নেতৃত্বের প্রশ্ন।
ক'জন তরুণ ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এবার আর মুখরোচক প্রতিশ্রুতিতে ভরসা রাখতে চান না। তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চান, যিনি দুর্নীতিমুক্ত থাকবেন, এলাকার বাস্তব সমস্যা বুঝবেন এবং ফরিদগঞ্জকে পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেবেন। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন--এমন নেতৃত্বই তাদের প্রত্যাশা।
প্রত্যাশার পাশাপাশি অভিযোগও আছে। তরুণ ভোটার গোলাম রাব্বানী অভিযোগ করে বলেন, ফরিদগঞ্জে এখনো নেই একটি মানসম্মত খেলার মাঠ বা মিনি স্টেডিয়াম। বিনোদনের জন্যে নেই শিল্পকলা একাডেমি এবং কোনো পার্ক কিংবা উন্মুক্ত স্থান। শিল্পকারখানার অভাবে বাড়ছে বেকারত্ব, আর সেই বেকারত্ব থেকেই আমাদের তরুণদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে মাদকাসক্তির মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে। এসব সমস্যা বছরের পর বছর ধরে জমে থাকলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। অপর তরুণ ভোটার রমজান হোসেন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে আমরা শুধু একটি ভোট দিতে নয়, ইতিহাসের অংশ হতে চাই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চাই আমরা।
এদিকে এ বছর যারা জীবনের প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে রয়েছে আলাদা এক প্রকার আবেগ ও উচ্ছ্বাস। গ্রামগঞ্জের নির্বাচনী পরিবেশ ঘুরে দেখা যায়, ব্যানার ও মাইকিংয়ে মুখর বাজার আর পাড়া-মহল্লা। তবে এসবের ভিড়েও চোখে পড়ছে সচেতন তরুণদের নীরব পর্যবেক্ষণ। তারা হিসাব কষছে—কে সত্যিকার অর্থে তাদের ভবিষ্যতের কথা ভাববে।
এই আসনটিতে এ বছর ভোটের লড়াইয়ে ৮ প্রার্থীর ভেতর তিন প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনী ক্যাম্পেইনগুলোতে তরুণদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রচার-প্রচারণা
সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করা যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে যে, এবারের নির্বাচনের ফলাফলেও বড়ো একটা প্রভাব ফেলবে তরুণ ভোটাররা।
এই আসনটিতে এ বছর ভোটের লড়াইয়ে ৮ প্রার্থীর মধ্যে তিন প্রতীকের প্রার্থী অবতীর্ণ হবেন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনী ক্যাম্পেইনগুলোতে তরুণদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। প্রচার-প্রচারণা সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে যে, এবারের নির্বাচনের ফলাফলেও বড়ো একটা প্রভাব ফেলবে তরুণ ভোটাররা।
সব মিলিয়ে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে এবারের নির্বাচন শুধুই প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা নয়, এটি তরুণ প্রজন্মের আশা, ক্ষোভ ও স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ। তরুণ ভোটারদের রায় যে এবার পুরো নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে—সে ইঙ্গিত এখন স্পষ্ট গ্রামগঞ্জের প্রতিটি আড্ডায়।
ডিসিকে/এমজেডএইচ








