বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৭

তারেক রহমানের পরিকল্পনা তত্ত্ব’ ও রাষ্ট্র মেরামতের রোডম্যাপ

ব্যক্তিপূজা নয়, লক্ষ্য এখন বাস্তবায়ন

......................... নেতা-কর্মীদের প্রতি তারেক রহমানের কড়া বার্তা

বিশেষ প্রতিবেদক : মো. জাকির হোসেন
ব্যক্তিপূজা নয়, লক্ষ্য এখন বাস্তবায়ন
ছবি: তারেক রহমান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্বপ্ন একটি মোহনীয় শব্দ, যা দশকের পর দশক ধরে জনমানসকে আকৃষ্ট করতে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এক শক্তিশালী ভিডিও বার্তা এই প্রচলিত রাজনৈতিক বয়ানকে আমূল বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জনসভায় স্লোগান থামিয়ে দিয়ে তিনি যখন বলেন— "আমি স্বপ্নের মধ্যে নেই, আমি পরিকল্পনার মধ্যে আছি", তখন তা কেবল দলীয় শৃঙ্খলার বার্তা থাকে না, বরং একটি গভীর রাজনৈতিক দর্শনে রূপ নেয়।

আমি স্বপ্নের মধ্যে নেই, আমি পরিকল্পনার মধ্যে আছি

— তারেক রহমান

ভিডিওটির শুরুতেই দেখা যায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নেতার সামনে স্তুতিমূলক স্লোগানকে যেখানে আনুগত্যের চরম বহিঃপ্রকাশ ধরা হয়, সেখানে এই কঠোর অবস্থান একটি প্যারাডাইম শিফট-এর ইঙ্গিত। এটি স্পষ্ট করে যে, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে আবেগসর্বস্ব রাজনীতির চেয়ে ফলাফলমুখী সাংগঠনিক কাঠামো বেশি জরুরি। এটি মূলত স্তুতিবাদ পরিহার করে মেধাতান্ত্রিক ও কর্মমুখী দল গঠনের একটি সরাসরি বার্তা।

বক্তব্যে দেশের অর্থনীতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে উল্লেখ করা হয়, উন্নয়নের রঙিন স্বপ্নের আড়ালে প্রতি বছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়ে যাচ্ছে। একজন তথ্য ও গবেষণা বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে এই বিশাল অংক কেবল একটি সংখ্যা নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। এর ফলে শিক্ষাব্যবস্থা, কৃষি এবং বিচার বিভাগের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের আলোকে এই অবস্থানকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে পলিটিক্যাল আইডিয়ালিজম বা রাজনৈতিক ভাববাদ থেকে বেরিয়ে এসে পলিটিক্যাল রিয়েলিজম বা রাজনৈতিক বাস্তববাদের ওপর দাঁড়িয়ে কথা বলা হয়েছে। জনগণকে এবং নেতা-কর্মীদের এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে যে, রাষ্ট্রের বর্তমান গভীর ক্ষত সারাতে রঙিন চশমার বদলে এখন নিখুঁত রোডম্যাপ প্রয়োজন।

এই পরিকল্পনা তত্ত্ব মূলত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা। এখানে বাস্তবায়ন শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বোঝাতে চাওয়া হয়েছে যে, রাষ্ট্রের ধ্বংসস্তূপ সরাতে কেবল মুখের প্রতিশ্রুতি বা ইশতেহার যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সক্ষমতা। এই দৃষ্টিভঙ্গি যদি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়, তবে তা বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

গবেষণা তথ্য: পাচার হওয়া অর্থের বিকল্প প্রভাব

খাত বিকল্প উন্নয়ন সম্ভাবনা
অবকাঠামো বার্ষিক ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার রোধে ৫টি পদ্মা সেতু সমতুল্য প্রজেক্ট সম্ভব।
কৃষি ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষকের সারের মূল্য ও সেচ খরচ অর্ধেক মূল্যে আনা সম্ভব।
শিক্ষা প্রতিটি জেলায় বিশ্বমানের একটি টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি স্থাপন সম্ভব।

প্রতিবেদক : মো. জাকির হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা বিএনপি।

ডিসিকে / এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়