বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে আগুনে পুড়ে ছাই ১০ পরিবারের ঈদ আনন্দ

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০০:০০

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স

ড. মোঃ আলমগীর কবির পাটওয়ারী
হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স

ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর। চাঁদপুর জেলা সদর থেকে প্রায় বাইশ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জনপদ হাজীগঞ্জ। এখানে রয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স। এক সময়ে বড় মসজিদ তথা বাজার এলাকাসহ পুরো এলাকাই ছিল হাজা-মজা ডোবা-নালা, খাল- বিল নিয়ে পরিবেষ্টিত নিম্নভূমি। সেকালে বর্তমান বড় মসজিদের মেহরাব সংলগ্ন একটু উঁচু ভূমিতে, পবিত্র আরব ভূমি থেকে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে আগত হযরত মকিম উদ্দিন (রহঃ) পরিবার-পরিজন নিয়ে আস্তানা বা বসতি স্থাপন করেন। পর্যায়ক্রমে দু/চার জন নব্য মুসলমান নিয়ে ‘চৌধুরী ঘাটে’ নামাজ আদায় করতেন। তিনি অত্র অঞ্চলে ইসলামের আবাদ করায় তাঁর স্মৃতির সম্মানে এই গ্রামের নামকরণ হয় মকিমাবাদ। হযরত মকিম উদ্দিন (রহঃ)’র নাতি, হযরত মনিরুদ্দিন মনাই হাজী (রহঃ) সুন্নাতে বাসূল (সাঃ) হিসেবে ব্যবসায়ী গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান গড়ে তোলেন। মুরিদান ভক্তদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চৌধুরী ঘাটের পরিবর্তে ‘হোগলা হাটে’ নামাজ আদায় করতেন। ‘মনাই হাজী’ সাহেবের হাজী দোকানের সুখ্যাতিতে পর্যায়ক্রমিকভাবে হাজীর হাট, হাজীর বাজার থেকে আজকের হাজীগঞ্জ। হাজীগঞ্জ বাজার।

আল্লাহর অলিগণের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী হযরত মনিরুদ্দিন মনাই হাজী (রহঃ)-এর দৌহিত্র আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহঃ) হযরত মকিমউদ্দিন (রহঃ)-এর আস্তানা তথা নিজ মালিকানাধীন বাগান বাড়িতে প্রথমে একচালা খড়, অতঃপর ছন ও গোলপাতা দিয়ে দোচালা মসজিদ নির্মাণ করেন। এক পর্যায়ে আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহঃ) তাঁর দেখা স্বপ্ন বাস্তবায়নে বড় আকারে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মকবুলিয়াত লাভের আশায় হজ্বব্রত পালন করতে গিয়ে আল্লাহর মেহেরবানিতে অকবরী হজ্ব লাভ করেন। হুজুর পাক (সাঃ)-এর পবিত্র রওজা শরীফ জিয়ারতসহ মদিনা, কুফা, বাগদাদ ইত্যাদি স্থানে বুজুর্গানে দ্বীনের মাজার জিয়ারত করেন। আল্লাহর মেহেরবানিতে দৃঢ় মনোবল এবং স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। মসজিদ নির্মাণের জন্যে তিনি নিজ উদ্যোগে ইট ভাটা তৈরি করেন। উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহঃ) হযরত মাওলানা আবুল ফারাহ জৈনপুরী (রহঃ)-এর পবিত্র হাতে ১৩৩৭ বাংলায় মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। হযরত মাওঃ আবুল ফারাহ জৈনপুরী (রহঃ)-এর পবিত্র হাতে মসজিদের উত্তর-দক্ষিণ এবং পশ্চিমের ওয়ালে ‘সূরা ইয়াসিন’ ও ‘সূরা জুময়া’ সন্নিবেশিত করে সকলের হৃদয় মন কেড়েছেন। আলো-বাতির জন্য দৃষ্টিনন্দন ঝাড় বাতির গুচ্ছ ঝুলিয়ে দেন। কারুককার্য খচিত দৃষ্টি নন্দন বড় মসজিদটি জনমনে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

মসজিদের ১ম অংশের কাজ শেষে ১৩৪৪ বাংলায় উক্ত মসজিদের প্রথম জুমার আজান এবং জুময়ার জামাতের উদ্বোধনী দিবসে প্রখ্যাত ৪ জন মন্ত্রী শুভাগমন করেন। তাঁরা হলেন সর্বজনাব- ১। তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. এম. ফজলুল হক, ২। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ৩। নওয়াব মোশারফ হোসেন, ৪। নওয়াবজাদা খাজা নসরুল্লাহ প্রমুখ। তাদের আগমনে প্রত্যন্ত এ অঞ্চল ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।

ইতিপূর্বে নির্মিত মসজিদ সংলগ্ন পূর্ব দিকের বিশাল ডোবা-পুকুর ভরাটের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ভরাট কাজ শুরু করে তা শেষ করেন। আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহঃ) বাগদাদ শরিফে তাঁর দেখা হযরত বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) মসজিদের খুঁটির আদলে অভ্যন্তরীণভাবে ৭৭টি আকর্ষণীয় পিলারের উপর মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। পিলারের উপর ঝিনুকের মোজাইক বেষ্টিত করেন, মসজিদের ভিতর এবং বাইরের ওয়ালে নিখুঁত নক্সার কারুকার্য সম্পাদন করে মসজিদের ২য় অংশের নির্মাণ কাজ শেষ করেন। মসজিদের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশ নির্মাণের অংশ হিসেবে, মসজিদ সংলগ্ন পূর্ব দিকের সুউচ্চ মিনার গম্বুজসহ প্রবেশের প্রধান ফটকে বিশাল শাহী গেইট নির্মাণ করে আকর্ষণীয় কারুকার্য সম্পাদন করেন। ৩য় অংশের কাজ শেষ করার মধ্য দিয়ে পুরো মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ করেন। আলহামদুলিল্লাহ।

যেহেতু অত্র এলাকাটি হাজা-মজা, ডোবা নালা-খাল বেষ্টিত নিম্নভূমি ছিলো, সে কারণে ডোবা-পুকুর একটির পর একটি ভরাট করতে হয়েছে। অতঃপর মসজিদের তৃতীয় অংশ অর্থাৎ মিনারার পূর্বাংশের বিশাল পুকুরটিও ভরাটের জন্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করে ভরাটের কাজ শেষ করেন।

আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহঃ) ধর্ম-কর্ম বিষয়ক কার্যক্রমে মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষার লক্ষ্যে, শিক্ষিত দ্বীনদার মুসুল্লি গড়ে তোলার জন্যে মসজিদের দক্ষিণাংশে ‘মক্তব’ স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তা সরিয়ে মসজিদ সংলগ্ন পূর্বাংশে দাঃ উঃ সিনিয়র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর ভরাট মাঠের উত্তরে মাদ্রাসাটি পুনরায় স্থানান্তরিত হয়। উক্ত মাদ্রাসা উন্নয়নে নতুনভাবে আরো জায়গা ওয়াক্ফ করে বর্তমানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর দ্বীনি শিক্ষার বিদ্যাপীঠ হিসাবে আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। মিনারার পূর্বাংশের পুকুর, এর ভরাটকৃত অংশের পূর্বাংশে ‘হোগলা হাটের স্থানে’ বর্তমান কাওমী নেছাবের মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহঃ) ফোরকানিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করেন। যা বর্তমানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে আহমাদিয়া কাওমী মাদ্রসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। উভয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, দেশ এবং জাতির কল্যাণে অবদান রেখে যাচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ।

ধর্ম-কর্ম, শিক্ষা-দীক্ষা এবং দ্বীনি কার্যক্রমে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে অর্থ যোগানোর ক্ষেত্রে, আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহঃ) ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, নিয়ত- মানত এবং দানের উপর নির্ভরশীলতার পরিবর্তে অর্থ যোগানের বিকল্প উৎস হিসেবে বিনিয়োগের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। এতে করে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়। আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহঃ) উত্তরাধিকার হিসেবে পূর্ব পুরুষের জমি-জমা, সম্পদ-সম্পত্তি, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বত্বাধিকারী (মালিক) ছিলেন। তিনি বার্মা থেকে আমদানিকৃত তেলের এজেন্সি, বার্মা থেকে আমদানিকৃত কাঠের আড়ত, চেরাগ বাতির যুগে মোমবাতি ফ্যাক্টরী, সাবানের ফ্যাক্টরী ইত্যাদির ব্যবসায়ী হিসেবে অত্র এলাকার স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ছিলেন। তার পাশাপাশি বাজারে বেশ কিছু জায়গায় তিনি দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদের পাশাপাশি বাজারের গুরুত্ব না বাড়লে মানুষের আগমনের গতি তেমন একটা বাড়াবে না। সে লক্ষ্যে বাজারের গতি বৃদ্ধির জন্যে মানুষের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি অন্যান্য দোকান, আড়ত, গদি ঘরের সম্মানিত ব্যবসায়ীগণের পাশাপাশি তৎকালীন চিকিৎসা সেবার অংশ হিসেবে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হিসেবে ডাঃ মোঃ সুলতান আহমদ (এমবি), অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তার হিসেবে ডাঃ মোঃ ফজলুল হক সাহেবকে এবং ইউনানী চিকিৎসায় হাকীম হিসাবে হাকিম আলী আক্রাম খাঁকে নিজ উদ্যোগে চেম্বার বা দোকান দিয়ে বসার ব্যবস্থা করে তাঁদেরকে উৎসাহিত করেন। তাছাড়া পবিত্র কোরআন শরীফসহ ধর্মীয় বই-পুস্তক বিক্রয়ের জন্যে আবদুল হালিম মৌলভী সাহেবকে চাঁদপুরে তার আদর্শ লাইব্রেরী ছেড়ে হাজীগঞ্জে প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরী নামে ব্যবসার পাশাপাশি মাটির কলস, হাড়ি-পাতিল এবং ঘরের চালে টালি বা চাঁড়ার দোকান নিয়ে ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেন। স্কুলের বই পুস্তকের জন্যে মৌলভী রফি উদ্দিন আহমেদ সাহেবকে ওরিয়েন্টাল লাইব্রেরী এবং মুদ্রণ বা প্রিন্টিং কাজের জন্যে হাফিজ আর্ট প্রেস নামে ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেন।

আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহঃ) মানুষের চাহিদা বিবেচনায় বাজারে সর্বসাধারণের আগমন ঘটানোর লক্ষ্যে বিভিন্নমুখী ব্যবসায়ী বসিয়ে, তাদেরকে সহযোগিতা দিয়ে, উৎসাহিত করে হাজীগঞ্জ বাজারকে আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করেন। দিনের পর দিন হাজীগঞ্জ তথা বাজারের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। এতে করে সর্বস্তরের ব্যবসায় পূর্বাপর সকলের সহযোগিতায় বিভিন্নমুখী বিনিয়োগের কারণে উক্ত বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে কর্মসংস্থানের গতিও বাড়ে।

বিস্ময়কর বিষয় যে, আহমাদ আলী পাটওয়ারী সে সময়ে বিদেশ থেকে জেনারেটর আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে মসজিদ, দোকান সমূহ এবং নিজ বাড়ি আলোকিত করেন। এতে তিনি ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হন।

আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহঃ) ধর্ম-কর্ম, শিক্ষা-দীক্ষা, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অত্র এলাকায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগিয়েছেন। সে সময়ে অত্র এলাকায় ইট ভাটা না থাকায় তিনি পাকা মসজিদ নির্মাণের জন্য ‘জাগ দেয়া পদ্ধতিতে’ স্বনির্মিত ইট ভাটায় ইট তৈরি করেন। কারুকার্য খচিত অনন্য অসাধারণ দৃষ্টিনন্দন নিখুঁত কর্ম দিয়ে মসজিদের ‘মেহরাব’ তৈরি করেন। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত দৃষ্টিনন্দন বড় বড় ঝাড় ঝুলিয়ে অর্থাৎ এক এক ঝাড়ে বহু সংখ্যক মোমবাতি বসিয়ে, আলোর গুচ্ছ বাতির ঝাড় দিয়ে নান্দনিক আলোর ব্যবস্থা করেন। পবিত্র জুময়ার খুতবায় ব্যবহারের জন্যে কারুকার্য খচিত লাঠিটি হজ্ব থেকে ফেরার সময় নিয়ে আসেন। সে সময় অজপাড়াগাঁয়ের উক্ত মসজিদের প্রথম অংশের ফ্লোরে মার্বেল পাথর/শে^ত পাথর ব্যবহার করেন। মদিনা শরীফে মসজিদে নববীর ন্যায় খুতবার আজানের জন্যে নিখুত কর্মকুশলতায় কাঠের উঁচু মঞ্চ মসজিদের দ্বিতীয় অংশে স্থাপন করেন। অত্র অঞ্চলে প্রথম মাইকের ব্যবহার, চেরাগ বাতি এবং হারিক্যানের যুগে বিদ্যুতের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা করেন। বৈদ্যুতিক আলো, বৈদ্যুতিক পাখা, রমজান উপলক্ষে সাইরেন প্রভৃতি ওই সময়ের জন্যে ছিলো অত্যাধুনিক। তিনি সে সময়কার অত্যাধুনিক দ্রব্যসামগ্রীর সংযোজন ঘটিয়ে বড় মসজিদ তথা হাজীগঞ্জকে আধুনিকায়নের অনন্য উচ্চতায় উপনীত করেন।

বড় মসজিদের ঐতিহাসিক উপাদান : ১। বড় মসজিদটি যে গ্রামে অবস্থিত সেই গ্রামের নাম মকিমাবাদ। গ্রামের নামকরণের ইতিহাসের সাথে বড় মসজিদের ইতিহাস স¤পৃক্ত ২। বড় মসজিদটি যে উপজেলায় অবস্থিত সে উপজেলার নাম হাজীগঞ্জ। হাজীগঞ্জ-এর নামের ইতিহাসের সাথে বড় মসজিদের ইতিহাস সম্পৃক্ত ৩। উক্ত মসজিদে তৎকালীন পূর্ব পশ্চিম উভয় পাকিস্তানে, ইসলামী হুকুমতের দাবিতে ৭ দিনব্যাপী শীর্ষস্থানীয় ওলামা মাশায়েখগণকে নিয়ে ইসলামী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ৪। সে সময়ে পাক ভারত উপমহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘জুমাতুল বিদা’ নামাজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাজীগঞ্জ মসজিদ খ্যাতি অর্জন করে। ৫। ইতিহাস প্রসিদ্ধ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীসহ ৪জন মন্ত্রী প্রথম জুমার আজান, একামত ও নামাজ আদায়ের উদ্বোধনী দিবসে উপস্থিত থেকে দোয়া মোনাজাতে অংশগ্রহণ করে ইতিহাসে স্থান করে দিয়েছেন। ৬। বিশ্ব বরেণ্য ঐতিহাসিক ব্যক্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মসজিদে নামাজ আদায় করেন। মসজিদের ‘মুসাফেরখানা কাম হুজরাখানায়’ অবস্থান করে, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করে এলাকাকে ধন্য এবং গৌরবান্বিত করেন। ৭। ঐতিহাসিক ব্যক্তি মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীসহ বহু রাজনৈতিক ব্যক্তি উক্ত মসজিদে এসে নামাজ আদায় করেন। মসজিদের ‘মুছাফেরখানা কাম হুজরাখানায়’ বসে এলাকার মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন। ৮। ইতিহাস প্রসিদ্ধ ধর্মীয় বুজুর্গানে দ্বীনগণ বড় মসজিদে তশরিফ আনেন। সে সময়ে কারামত আলী জৈনপরী (রহঃ)-এর এবং তাঁর বংশধরগণ বড় মসজিদকে কেন্দ্র করে আসা যাওয়া করায় ইসলাম প্রচারে অত্র এলাকা ধন্য হয়েছে। তাঁরা নামাজ আদায়পূর্বক ইসলাম ধর্মের অমিয় বাণী প্রচার করেন। তাছাড়াও যাঁরা এসেছেন : মাওলানা জাফর আহমাদ ওসমানী থানভী (রহঃ), মাওলানা আব্দুল হাই কোরাইশী (রহঃ)-ছারছীনা, মাওলানা আবু জাফর ছিদ্দিকী (রহঃ) আল-কোরাইশী-ফুরফুরা শরীফ, মাওলানা হাতেম (রহঃ) সাহেব-নোয়াখালী, আল্লামা মাওলানা হাকিম মোঃ আব্দুর রউফ দানাপুরী (রহঃ), হযরত মওলানা আবু বকর ছিদ্দিকী আল-কুরাইশী, মোজাদ্দেদে জামান, মাওলানা রুহুল আমিন (রহঃ), মাওলানা হোসায়েন আহমাদ মাদানী (রহঃ), শায়খুল হিন্দ মাওলানা হামেদ (রহঃ) ইবনে মাওলানা আব্দুল লতিফ (রহঃ) সন্দ্বীপী প্রমুখ। ৯। পাক ভারত উপমহাদেশের মধ্যে মসজিদকেন্দ্রিক সুউচ্চ মিনারসহ মফস্বল পর্যায়ে এত বিশাল আকৃতির কারুকার্য খচিত মসজিদটি ঐতিহাসিক হিসেবে সমাদৃত হয়। ১০। ঐতিহাসিক ব্যক্তি কারামত আলী জৈনপুরী (রহঃ)-এর উত্তরসূরি হযরত মাওঃ আবুল ফারাহ্ জৈনপুরী (রহঃ)-এর পবিত্র হাতে উক্ত মসজিদের পাকা ভিত্তি স্থাপিত হয়। তাঁর পবিত্র হাতে সুরা ইয়াছিন এবং সুরা জুময়া উক্ত মসজিদের পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ দেয়ালে অত্যন্ত কষ্ট করে মুসল্লা কেটে কেটে মনোরম ও আকর্ষণীয়ভাবে লিখা হয়। ১১। বছরে লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষের নামাজ এবং নামাজের প্রাসঙ্গিক সেবাসহ বিভিন্নমুখী জনকল্যাণমূলক সেবা কার্যক্রমের জন্যে নিজস্ব উদ্যোগে আয়ের উৎস সৃষ্টি করে, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানমুখী কার্যক্রমে মসজিদটি অনুকরণীয় অবদান রেখে যাচ্ছে। ১২। শতাব্দীকাল ধরে সরকারি অর্থায়ন ছাড়া সেবা সংক্রান্ত বিশাল কার্যক্রম আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াক্ফ এস্টেটের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে।

সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতায় ধর্ম-কর্ম, শিক্ষা-দীক্ষা, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানসহ বিভিন্নমুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং সেবার প্রেক্ষিতে হাজীগঞ্জ আজ এক সমৃদ্ধ জনপদ। হাজীগঞ্জ ধন্য--হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের জন্য।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়