শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০

চাঁদপুরের অসহায় পরিবারগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি চাই

অনলাইন ডেস্ক
চাঁদপুরের অসহায় পরিবারগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি চাই

কোটা আন্দোলনকেন্দ্রিক সহিংসতায় সরকারি হিসেবে দেড়শ’ এবং বেসরকারি হিসেবে দুশতাধিক মৃত্যুর খবর জানা গেছে। এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ জনের পরিবারকে গণভবনে ডেকে নিয়ে নগদ অর্থ ও সঞ্চয়পত্র প্রদান করেছেন। রাজধানীতে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে অন্তত ১০জন চাঁদপুরের বাসিন্দা রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের কারো পরিবার প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানা যায়নি। এদের মধ্যে কেউ কেউ এমন ছিলেন, যারা পরিবারের একমাত্র উপার্জনাম ব্যক্তি ছিলেন। এমন একজনেরই নাম সিয়াম (২১)।

সিয়ামকে নিয়ে মঙ্গলবার দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রথম পৃষ্ঠায় একটি মর্মস্পর্শী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনে মির্জা জাকির লিখেছেন, পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বার বার কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন মা জেসমিন আক্তার (৩৫)। ক্লাস ফোর পর্যন্ত পড়ালেখা করার পর সংসারের ঘানি টানতে জীবনযুদ্ধে নেমে পড়েন চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন মৈশাদী ইউনিয়নের হামানকর্দি গ্রামের সোহাগ সর্দারের ছেলে সিয়াম। তিনি ছিলেন তার বাবার একমাত্র পুত্র সন্তান। বাকি দু কন্যা সন্তানের বিয়ে হয়ে গেছে। বাবার অসুস্থতাহেতু তিনি কর্মক্ষম না থাকায় সিয়ামকে টাইলস্ মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে সংসারের হাল ধরতে হয়। এই কাজ ছেড়ে আরো অধিক রোজগারের আশায় তিনি জুলাই ২০২৪ মাসের প্রথম দিকে এলাকার এক বড়োভাইয়ের সাথে ঢাকা চলে যান এবং তার সহযোগিতায় ঢাকার মীরপুর ১০ নম্বরে বেনারসি পল্লীতে একটি খাবারের হোটেলে চাকুরি নেন। মাস শেষে বেতন পেয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে বাবা-মা’র কাছে ভালো পরিমাণ টাকা পাঠাবার সুখ-ভাবনায় ভুগছিলেন। কিন্তু না সেটা আর হলো না। ১৮ জুলাই রাত ১০টায় হোটেলের কাজ শেষ করে বাসার ফেরার সময় গুলিবিদ্ধ হন। গুলি তার চোখ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বের হয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সদাশয় হোটেল মালিকের সহযোগিতায় পরদিন তার লাশ অ্যাম্বুলেন্সযোগে গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করা হয়েছে।

সংসারে উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কেবলই অন্ধকার দেখছেন সিয়ামের বাবা-মা। সামনের দিনগুলো কভীবে কাটাবেন এই চিন্তা ভর করেছে তাদের মাঝে। সিয়ামের পরিবারের ন্যায় কোটা আন্দোলনে নিহত চাঁদপুরের আরো কিছু পরিবারের আহাজারি ও অসহায়ত্বের কথা চাঁদপুর কণ্ঠসহ আরো কিছু গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন অসহায় পরিবারসহ চাঁদপুরের অসহায় পরিবারগুলোর পাশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সম্ভাব্য সকল ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দাঁড়াবার সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত বিলম্ব ঘটলে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ কিংবা সহৃদয়বান ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ছোট-বড়ো সহযোগিতা নিয়ে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াবার জোর আহ্বান জানাচ্ছি। স্মর্তব্য, সকল কিছুর ঊর্ধ্বে মানবিকতা। এই মানবিকতাকে গুরুত্ব দেয়ার জন্যে সংবেদনশীল প্রতিটি মহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়