প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০২
মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের ঐক্যবদ্ধ বার্তা

চাঁদপুরে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে যে সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এ ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর জরুরি সাধারণ সভায় জেলা আইনজীবী সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আগামী তিন মাস কোনো আইনজীবী মাদক মামলায় জামিনের আবেদন করবেন না। একই সভায় আদালতকেন্দ্রিক কিছু অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মামলার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তকে শুধু আইনজীবীদের একটি পেশাগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে এর তাৎপর্য পুরোপুরি অনুধাবন করা হবে না। এটি মূলত সমাজের একটি ভয়াবহ বাস্তবতার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা। কারণ মাদক এখন কেবল একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়; এটি পরিবার, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর বহুমাত্রিক আঘাত হানছে।
মাদক : একটি পরিবার থেকে পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়া সংকট
মাদকাসক্তি একটি পরিবারকে কীভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, তা আমাদের চারপাশের অসংখ্য ঘটনা থেকে বোঝা যায়। একজন তরুণ মাদকাসক্ত হলে তার শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়, কর্মক্ষমতা কমে যায়, পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি কিংবা সহিংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে মাদকবিরোধী লড়াইকে শুধু মাদক উদ্ধার ও মামলা দায়েরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এর সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচারব্যবস্থার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
জাতীয় পর্যায়ের পরিসংখ্যানও পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ বছরের কিছু বেশি সময়ে দেশে ১ লাখ ২২ হাজার ৪২২টি মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলা দায়ের হয়েছিল। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ১ লাখ ৩০হাজার ৮৮২ জনকে। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছিল মাত্র ১৩,৩৭৬টি মামলা, অর্থাৎ প্রায় ১১ শতাংশ। নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর ৫৬ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে আসামিরা খালাস পেয়েছেন।
এই পরিসংখ্যান আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়: শুধু গ্রেপ্তার ও মামলা করলেই কি মাদক নির্মূল সম্ভব? উত্তর অবশ্যই না। তদন্তের মান, আলামত সংরক্ষণ, সাক্ষ্যপ্রমাণ, প্রসিকিউশন, দ্রুত বিচার এবং অপরাধীর যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার পুরো প্রক্রিয়াটিকেই কার্যকর করতে হবে।
চাঁদপুর বার সমিতির সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ
চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি দেশের একটি প্রাচীন বার। সমিতিটি ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা ৪০০-এর বেশি। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবী সংগঠন যখন মাদক মামলায় আগামী তিন মাস জামিনের আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন এর সামাজিক প্রতিক্রিয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। কোনো আসামির জামিন হবে কি না, সেটি শেষ পর্যন্ত আদালতের আইনগত বিবেচনার বিষয়। আইনজীবীরা কোনো মামলায় জামিনের আবেদন করবেন না, এটি তাদের সম্মিলিত পেশাগত অবস্থান; এটি কোনো মামলায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে জামিন নিষিদ্ধ করে না। এই পার্থক্যটি মনে রাখা জরুরি, কারণ মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি আমাদের বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতিগুলোও সমুন্নত রাখতে হবে।
বরং এ সিদ্ধান্তের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, আইনজীবী সমাজ নিজের পেশাগত অবস্থান থেকে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে সমিতির সভায় আদালত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দ্রুত থানায় পৌঁছানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংসদে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের আহ্বান
মাদকবিরোধী এই লড়াইকে আরও কার্যকর করার জন্য আইন ও নীতিগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক সংসদে মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের বিষয়ে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো, মাদককে নিছক একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে না দেখে জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের গুরুতর সংকট হিসেবে বিবেচনা করা।
এখানে অবশ্য আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য জরুরি। মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি মাদকাসক্ত ব্যক্তির চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণের সুযোগও রাখতে হবে। কারণ একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং একজন মাদকনির্ভর ব্যক্তিকে একই দৃষ্টিতে দেখলে সমস্যার মূল সমাধান হবে না।
ফরিদ আহমেদ মানিকের ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকও বিভিন্ন বক্তব্যে মাদক, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। ১৪ জুন ২০২৬-এর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সমন্বয় সভা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য হিসেবে মাদক নির্মূল ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২৬ জুন আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরে আয়োজিত মাদকবিরোধী র্যালিতেও তিনি অংশ নেন। আবার ১ সেপ্টেম্বর তিনি চাঁদপুরে মাদক, ইভটিজিং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এসব অপরাধীর কোনো স্থান হবে না এবং কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরাধ দমন কেবল পুলিশের দায়িত্ব নয়। জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং সামাজিক নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই ফল পাওয়া কঠিন।
কিশোর গ্যাং : আগামী প্রজন্মের জন্য আরও বড় সতর্কবার্তা
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে একটি বিপজ্জনক সম্পর্ক রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মাদক কেনাবেচা, সেবন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার সঙ্গে কিশোর অপরাধী চক্রের যোগসূত্র পাওয়া যায়। রাজধানী ঢাকার পুলিশের তথ্যভিত্তিক এক প্রতিবেদনে ৫২টি কিশোর অপরাধী চক্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৬৮২।
অন্যদিকে বিভিন্ন গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক সরবরাহ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং এমনকি গুরুতর সহিংস অপরাধেও জড়িয়ে পড়তে পারে।
তাই কিশোর গ্যাং নির্মূলের অর্থ শুধু কিশোরদের গ্রেপ্তার করা নয়। তাদের পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ‘বড় ভাই’, মাদক সরবরাহকারী, অস্ত্রদাতা, অর্থদাতা এবং রাজনৈতিক বা সামাজিক আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে উন্নয়নও নিরাপদ নয়
চাঁদাবাজি একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অপরাধ। এর ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়, বাজারব্যবস্থা অস্থির হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, চাঁদাবাজি যদি কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক ছত্রচ্ছায়া পেয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের আইনের ওপর আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।
এ কারণে চাঁদপুরে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংকে একই বৃহত্তর অপরাধচক্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা দরকার। একজন মাদক বিক্রেতার সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের যোগাযোগ, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে চাঁদাবাজির যোগসূত্র এবং এসব অপরাধের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তকে সেই দিকেও নিতে হবে।
শুধু কঠোরতা নয়, দরকার কার্যকর ব্যবস্থা
‘জিরো টলারেন্স’ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা। কিন্তু এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগের ওপর। তাই চাঁদপুরে একটি সমন্বিত মাদক ও অপরাধবিরোধী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে।
প্রথমত, জেলার মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও কিশোর অপরাধী চক্রের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মাদক মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে হবে। তৃতীয়ত, দুর্বল তদন্তের কারণে যাতে প্রকৃত অপরাধীরা খালাস না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের তথ্যই দেখাচ্ছে, মাদক মামলার বড় অংশ দীর্ঘদিন অনিষ্পন্ন থেকে যাচ্ছে এবং নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর একটি বড় অংশে খালাস হচ্ছে।
চতুর্থত, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। পঞ্চমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতা, কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। ষষ্ঠত, অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে এবং সন্তানদের আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আইনের প্রয়োগে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক ক্ষমতা বা সামাজিক প্রভাব যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। অপরাধী যে দলেরই হোক, যে পরিবারেরই হোক কিংবা যত প্রভাবশালীই হোক, অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ‘জিরো টলারেন্স’ কেবল বক্তৃতার শব্দ হয়েই থাকবে।
চাঁদপুর হতে পারে একটি দৃষ্টান্ত
চাঁদপুরের বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত, সংসদ সদস্যদের মাদক ও চাঁদাবাজিবিরোধী বক্তব্য এবং প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমকে একই সূত্রে গাঁথা প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আইনজীবী সমাজ, প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ, শিক্ষকসমাজ, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ যদি একই লক্ষ্যে কাজ করেন, তাহলে চাঁদপুর মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
এ ক্ষেত্রে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে ওঠা সবচেয়ে জরুরি। মাদক কোনো দলের সমস্যা নয়, চাঁদাবাজি কোনো দলের সমস্যা নয়, কিশোর গ্যাং কোনো দলের সমস্যা নয়। এগুলো সমাজের সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমস্যা।
চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির তিন মাসের সিদ্ধান্ত তাই একটি সময়সীমাবদ্ধ কর্মসূচি হলেও এর শিক্ষা দীর্ঘমেয়াদি। সংসদে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের কঠোর আইন প্রণয়নের আহ্বান এবং শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানও যদি মাঠপর্যায়ের কার্যকর উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে এই উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।
আজ প্রয়োজন শুধু মাদকবিরোধী স্লোগান নয়, প্রয়োজন মাদকমুক্ত পরিবার, নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন, চাঁদাবাজিমুক্ত ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কিশোরদের জন্য সুস্থ ভবিষ্যৎ। আইনের কঠোরতা, ন্যায়বিচার, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক প্রতিরোধের সমন্বয়েই সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
চাঁদপুরের এই উদ্যোগ তাই নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এটিকে তিন মাসের একটি প্রতীকী সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ না রেখে যদি একটি দীর্ঘমেয়াদি, দলনিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক মাদকবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়া যায়, তাহলে চাঁদপুর শুধু নিজের সংকট মোকাবিলা করবে না, সারা দেশের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
মোহাম্মদ আরিফ ইমাম : সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, বেলচোঁ কারিমাবাদ ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।







