শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫০

ওমরাহ পালনে যাওয়ার পথে সৌদিতে পিষে দিল ঘাতক যান: মা ও দুই সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু, সংকটাপন্ন বাবা-ছেলে

মো. জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
ওমরাহ পালনে যাওয়ার পথে সৌদিতে পিষে দিল ঘাতক যান: মা ও দুই সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু, সংকটাপন্ন বাবা-ছেলে

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ব্যাকুল হৃদয়ে রিয়াদ থেকে মক্কার পানে রওনা হয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি শফিকুল ইসলাম খোকন ও তাঁর পরিবার। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে পথেই থমকে গেল সব স্বপ্ন। সৌদি আরবের মরু রাজপথে পেছন থেকে আসা এক দ্রুতগামী ঘাতক যানের নির্মম ধাক্কায় এক নিমিষেই পিষে গেল একটি পুরো পরিবার। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন মা ও তাঁর দুই সন্তান। অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউতে জীবনের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন গৃহকর্তা ও তাঁদের বড় ছেলে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সৌদি স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টা) রিয়াদ থেকে মক্কাগামী মহাসড়কের প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর।

নিহত ও আহতদের পরিচয়

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—

তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫): তিনি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার সেজো মেয়ে।

তাসবিক (২০): তিনি ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষারত ছিলেন এবং ছুটিতে পরিবারের কাছে এসেছিলেন।

জারা (১৫): তানিয়ার ছোট মেয়ে।

গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন:

শফিকুল ইসলাম খোকন: তানিয়ার স্বামী, যাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়।

নাবিল: তাঁদের বড় ছেলে।

যেভাবে ঘটেছিল সেই বিভীষিকাময় দুর্ঘটনা

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে রিয়াদে বসবাস করছিলেন ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম খোকন। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের প্রাইভেটকার চালিয়ে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।

নিহত তানিয়ার ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ ও মামাতো ভাই নাসিম আহমেদ কবীর জানান, রিয়াদ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির ভারী যানবাহন তাঁদের প্রাইভেটকারটিকে সজোরে সপটে ধাক্কা দেয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়েতীব্র আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তানিয়া তাহমিনা ও তাঁর দুই সন্তান তাসবিক ও জারা।

মরদেহ রাখা হয়েছে হাসপাতালে, দেশে স্বজনদের আহাজারি

খবর পেয়ে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাপ্লুত অবস্থায় শফিকুল ইসলাম ও বড় ছেলে নাবিলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় খাসরা মেডিকেল হাসপাতাল-এর মর্গে রাখা হয়েছে।

একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন আকস্মিক প্রাণহানির খবরে দেশে থাকা স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে মাতম ও শোকের মাতম। ফরিদপুরের সালথা ও কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিজ গ্রামে এখন শুধুই স্বজনদের আর্তনাদ। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনা এবং আহতদের চিকিৎসায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শোকাহত স্বজনেরা।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়