প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭
চাঁদপুরে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণসেবা কতোটা প্রবাসীবান্ধব?

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী চাঁদপুর জেলার মোট জনসংখ্যা ২৬ লাখেরও বেশি । এর মধ্যে ১২ লাখের অধিক রয়েছে পুরুষ। নারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ এবং হিজড়া ৮০ জন। সরকারি এই সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থিত চাঁদপুর জেলার বৈধ প্রবাসীর সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজারেরও অধিক। তবে বিভিন্ন ব্যাংক ও জেলা কর্মসংস্থান কার্যালয় এবং জনশক্তি অফিস সূত্র মতে, এই সংখ্যা আড়াই থেকে সাড়ে ৩ লাখের কাছাকাছি বলে ধারণা করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (জুলাই ২০২৪–জুন ২০২৫) প্রবাসীরা রেকর্ড মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো একক অর্থবছরে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। আগের ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের (২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় এবার রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৬.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে দেশে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৬.৪২ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মার্চ ২০২৫ মাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জেলাভিত্তিক হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই ২০২৪–মে ২০২৫) চাঁদপুর জেলার প্রবাসীরা মোট ৫৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠিয়েছেন। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয়ের ওপর ভিত্তি করে রেমিট্যান্স আহরণে সারা দেশের মধ্যে চাঁদপুর জেলা ৮ম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে । চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চাঁদপুর ৫ম শীর্ষ রেমিট্যান্স অর্জনকারী জেলা। চাঁদপুর জেলার স্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রধান ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালের প্রথম ৫ মাসেই (জানুয়ারি থেকে মে) ব্যাংকের স্থানীয় ৯০টি শাখার মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ১৫১ কোটি ৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক রেমিট্যান্স বিতরণ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসীদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গিয়ে চাঁদপুরের প্রবাসী শ্রমিকদের কঠিন শর্ত, জটিল কাগজপত্র ও দীর্ঘসূত্রিতার বেড়াজালে পড়তে হচ্ছে।
নাইম শেখ নামে এক প্রবাসী জানান, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসীরা ঋণ উত্তোলন করতে যেসব ডকুমেন্টস বাধ্যতামূলক, তা হচ্ছে : বিএমইটি (BMET) কর্তৃক প্রদত্ত ম্যানপাওয়ার স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি; লেবার কন্ট্রাক্ট পেপার বা চাকরির চুক্তিপত্র; ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে নেওয়া নাগরিক সনদপত্র; সরকারি চাকরিজীবী জামিনদারের কাগজপত্র (সাধারণত একজন বা দুজন জামিনদার প্রয়োজন হতে পারে, যেটা ঋণের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে); জামিনদারের পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি; জামিনদারের নাগরিক সনদপত্র; জামিনদারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ৩টি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেকের পাতা। ঋণ গ্রহণের পূর্বে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি হিসাব (অ্যাকাউন্ট) খুলতে হবে। সাধারণত নতুন বা রি-এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে অন্যান্য বিশেষ বা বৃহৎ ঋণের ক্ষেত্রে সম্পত্তির দলিল বা ট্রেড লাইসেন্সের মতো অতিরিক্ত নথিপত্র প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়াও আবেদনকারীর ব্যক্তিগত কাগজপত্র ইত্যাদি।
চাঁদপুর জেলা দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। জেলার হাজার হাজার মানুষ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। প্রতি বছর অসংখ্য নতুন কর্মী বিদেশে পাড়ি জমান। বিদেশ যাওয়ার আগে তাদের বড়ো অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। ভিসা, বিমান টিকিট, মেডিকেল, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। এছাড়াও অনেক প্রবাসী রয়েছেন, যারা দেশে বসবাসের জন্যে নতুন ঘরবাড়ি, স্থাপনা নির্মাণ করবেন বলে সহজ ঋণের পথ খোঁজেন।
এ অবস্থায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক হওয়ার কথা ছিলো তাদের সবচেয়ে বড়ো ভরসার জায়গা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ঋণ আবেদন করতে গিয়ে অনেক প্রবাসী এমন সব শর্তের মুখোমুখি হন যা পূরণ করা তাদের জন্যে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। প্রবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা, চাকরির চুক্তিপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত নানা ডকুমেন্টস চাওয়া হয়। বিশেষ করে জামিনদারের জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির কাগজপত্র, বিভিন্ন সনদ ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা অনেক সময় আবেদনকারীদের জন্যে কঠিন হয়ে পড়ে।
সৌদি আরব প্রবাসী এমরান গাজি বলেন, একজন ব্যক্তি যখন বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার অনুমোদন পেয়েছেন এবং তার সব কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে, তখনও কেন অতিরিক্ত এতো শর্ত পূরণ করতে হবে—সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তারা পান না। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হিসেবে উঠে আসে জামিনদার সংগ্রহের বিষয়টি। সাধারণত একজন জামিনদারকে তার ব্যক্তিগত ও সম্পদ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদান করতে হয়।
অনেক মানুষ নিজের ব্যক্তিগত নথিপত্র অন্যের ঋণের জন্যে দিতে অনাগ্রহী থাকেন। ফলে আবেদনকারী প্রবাসীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের দ্বারস্থ হয়েও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন। এতে ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা মাঝপথেই ঋণ নেওয়ার চেষ্টা বাদ দেন।
চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকার প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাংকের শর্ত পূরণ করতে না পেরে অনেকেই বিকল্প অর্থায়নের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ স্থানীয় সমিতি থেকে উচ্চ সুদে টাকা নিয়েছেন, কেউ আবার ব্যক্তিগতভাবে ঋণ গ্রহণ করেছেন। এমনকি অনেক পরিবার বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে নিজেদের বসতভিটার জমি, কৃষিজমি কিংবা অন্যান্য সম্পত্তির দলিল বন্ধক রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এসব সিদ্ধান্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী শ্রমিকদের জন্যে গঠিত একটি বিশেষায়িত ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ঝুঁকি বিবেচনায় সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ করা। কারণ বিদেশগামী কর্মীদের একটি বড়ো অংশ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। তারা ব্যাংকিং ব্যবস্থার জটিলতা সম্পর্কে খুব বেশি অভিজ্ঞ নন। ফলে অতিরিক্ত কাগজপত্র ও প্রশাসনিক জটিলতা তাদের নিরুৎসাহিত করে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক সম্ভাবনাময় কর্মী বিদেশে যাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন অথবা অনানুষ্ঠানিক ও ব্যয়বহুল ঋণের ফাঁদে পড়তে পারেন।
প্রবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন পর্যবেক্ষকের মতে, জামিনদারভিত্তিক প্রচলিত ঋণ ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক ঝুঁকি মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। বর্তমানে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার, বিদেশগামী কর্মীর চাকরির চুক্তি, রিক্রুটিং এজেন্সির তথ্য এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ডাটাবেজ ব্যবহার করে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব। এতে জামিনদার নির্ভরতা কমবে এবং প্রকৃত প্রবাসীরা সহজে সেবা পাবেন। একই সঙ্গে ঋণ আদায়ের ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কিছু নিয়ম ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। ঋণ খেলাপি রোধ এবং অর্থের নিরাপত্তার স্বার্থে জামিনদার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ব্যবস্থা রাখা হয়ে থাকে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রক্রিয়া এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, যাতে প্রকৃত প্রবাসীরা হয়রানির শিকার না হন। নিয়মের প্রয়োজনীয়তা এবং সেবার সহজলভ্যতার মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ।
চাঁদপুরের অনেক প্রবাসীর প্রত্যাশা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক তাদের জন্যে আরও বাস্তবমুখী ও মানবিক নীতিমালা গ্রহণ করবে। বৈধ ভিসা, পাসপোর্ট ও কর্মচুক্তিপত্র থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ঋণ প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে জামিনদার সংক্রান্ত জটিলতা কমানো, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা সরল করা এবং ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা চালুর আহ্বানও জানিয়েছেন। কারণ প্রবাসীদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যাংক যদি প্রকৃত প্রবাসীদের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে না পারে, তাহলে তার মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এই প্রবাসীদের স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে প্রবাসীদের অস্তিত্ব । দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ১০টি জেলার মানুষ বেশি প্রবাস জীবন কাটায়। প্রবাসে সবচেয়ে বেশি রয়েছে কুমিল্লা জেলার লোক। জেলাটি থেকে মোট ৬ লাখের অধিক শ্রমিক বিভিন্ন পেশা এবং ব্যবসায় জড়িত আছেন বলে সূত্রে জানায় । দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলার প্রবাসীরা। এই জেলার ৫ লাখ ৪১ হাজার ৭০৯ জন শ্রমিক বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে । এই জেলা থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ জন লোক বিদেশে পাড়ি জমান। প্রবাসে অবস্থানের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে টাঙ্গাইল জেলা। এই জেলার ২ লাখ ৯০ হাজার ৭১৭ জন বিদেশে অবস্থান করছেন। তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে ঢাকা জেলা । এই জেলার ২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩৪ জন জীবিকার তাগিদে দেশের বাইরে বসবাস করছেন।
চাঁদপুর জেলা প্রবাসে অবস্থানের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৪ জন বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান খুঁজে নিয়েছেন। তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছে নোয়াখালী। এই জেলার ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৪৩ জন বিভিন্ন দেশে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অষ্টম স্থানে রয়েছে মুন্সীগঞ্জ। এই জেলার ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪৭৭ জন বিদেশে অবস্থান করছেন। নবম স্থানে রয়েছে নরসিংদী। এই জেলার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩৮৪ জন দেশের বাইরে তাদের কাজের মাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়ছেন। প্রবাসে অবস্থানের তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে ফেনী জেলা। এই জেলার ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৯৯ জন বিদেশে থাকেন।
প্রবাসী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় জানান, চাঁদপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা এবং রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ জেলাগুলোর একটি। অথচ যে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে, তাদেরই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গিয়ে নানা জটিল শর্ত, অতিরিক্ত কাগজপত্র ও জামিনদার সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে—এটি অবশ্যই উদ্বেগজনক। ঋণ বিতরণে সতর্কতা প্রয়োজন, তবে সেই প্রক্রিয়া যেন প্রকৃত প্রবাসীদের জন্যে হয়রানির কারণ না হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও সরকারি তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে ঋণপ্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রবাসীবান্ধব করা এখন সময়ের দাবি। কারণ প্রবাসীদের জন্যে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত তাদের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো, নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা নয়।







