প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ২২:৫০
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে নজর দিন

দীর্ঘ বছর ধরে জনবল সংকট নিয়েই চলছে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ৫০ শয্যার শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই হাসপাতালে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং ইনডোরে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ১৯৮৪ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে এটি। শাহরাস্তি উপজেলার জনগণের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল এটি। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জনগণ এ হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করে থাকেন। ১৯৯৪ সালের ২৪ এপ্রিল তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউছুফ শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। চঁাদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এমএ মতিন এমপি সে সময় উপস্থিত ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমও হাসপাতালের জনবল সঙ্কট নিরসনের জন্যে চেষ্টা করেছেন। ২০০৭ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে এর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০০৯ সালের ২ এপ্রিল ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রশাসনিক অনুমোদন লাভ করে। প্রশাসনিক অনুমোদনের দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হলেও আজও জনবল সমস্যার শতভাগ সমাধান হয়নি। জনবল সঙ্কটের কারণে দীর্ঘ লাইন ধরে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করতে হয় রোগীদের। এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকলিমা জাহানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, জনবল সঙ্কটের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এমপি মহোদয়কে জানানো হয়েছে। তিনিও এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানের জন্যে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জনবল সঙ্কট সমাধান হবে এবং পাশাপাশি শাহরাস্তি উপজেলার সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকি থেকে বঁাচবেন সেটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে। বর্তমানে হাসপাতালটির ৫০ শয্যার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে। এ জন্যে ডাক্তার-কর্মচারীকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন বেড়েই চলছে রোগীর সংখ্যা। ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্যে যেখানে ডাক্তার সহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে জনবল থাকার কথা ২১৩ জন, বর্তমানে সেখানে কাজ করছেন ১০১ জন। এখনো ১১২জনের পদ খালি রয়েছে। এই পদগুলোতে জরুরি নিয়োগ প্রয়োজন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জনবল সঙ্কটের কারণে শুধু কর্তৃপক্ষই নয়, ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদেরও। বহিঃবিভাগে রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত সময়ে শূন্য পদগুলো পূরণ করা না হলে স্বাস্থ্যসেবার মান ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী ।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১৯৮৪ সালে ৩১শয্যাবিশিষ্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এছাড়া দেশব্যাপী সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বর্তমানে এটি ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। এমন প্রক্রিয়া আশানুরূপ অবশ্যই। কিন্তু জনবল সঙ্কট নিরসন না করে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে কি সব হয়? আমরা মনে করি, এতে কেবল দৃষ্টিসুখ হয়। এ সুখ কি প্রকৃত সুখ? বিদ্যমান বা সৃষ্ট পদের বিপরীতে অর্ধেকের কম জনবল দিয়ে চালু রাখা একটি সরকারি হাসপাতালে সেবার মান কোন্ পর্যায়ে গিয়ে পেঁৗছে সেটা ধারণা করা যায় সহজেই। এ ব্যাপারে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে সিভিল সার্জনের কম-বেশি করণীয় আছে। নিজ ক্ষমতায় সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি কিছু জনবল সঙ্কট কমাতে পারেন। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি চালাচালি করে জনবল সঙ্কট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। হয়তো তিনি চিঠি চালাচালি করেছেন বা করবেন, কিন্তু তদবির করতে হবে স্থানীয় এমপিকে। কারণ, তদবির ছাড়া যে তকদির ফিরে না কারোরই।







