প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০২:১৮
অর্হৎ মার্গলাভী আরিয়া ওয়েংসা ভান্তের ধ্যানের শিক্ষায় গৌতম বুদ্ধের নৈর্বাণিক ধর্ম সন্দিট্ঠিকো-স্বয়ং দর্শনীয়

"আচরিত ধর্ম অন্যকে শেখাও—নিজে না করে শিখিয়ো না, আগে নিজে পালন করে তারপর অন্যকে শেখাও" (ভদন্ত আরিয়া ওয়েংসা থের)।
|আরো খবর
ধর্ম কেবল পুঁথিগত পাণ্ডিত্যের চর্বিতচর্বণ নয়, কিংবা কোনো তত্ত্বের গোলকধাঁধাও নয়। ধর্ম হলো আত্মোপলব্ধির সেই পরম সত্য, যা নিজের জীবনে কঠোর সাধনার মাধ্যমে প্রয়োগ করে অর্জন করতে হয়। মহাকারুণিক সম্যক সম্বুদ্ধের এই শাশ্বত ও কালজয়ী দর্শনকে বুকে ধারণ করে বর্তমান বৌদ্ধ সমাজে এক যুগান্তকারী আধ্যাত্মিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন পরম পূজনীয় আধ্যাত্মিক সাধক, আর্যশ্রাবক, ভদন্ত আরিয়া ওয়েংসা থের। তাঁর প্রতিটি বাণী যেন এক একটি তিমিরবিনাশী আলোকশিখা, যা আজ ঘুমন্ত মানবতাকে জাগিয়ে তুলছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানস্থ আবুরখীল নন্দনকানন বিদর্শন বিহারে ‘সম্যক দৃষ্টি পরিষদ’-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৭ দিনব্যাপী এক দুর্লভ ‘ফ্রি বিদর্শন ভাবনা অনুশীলন কোর্স-২০২৬’। গত ২৫ মে শুরু হওয়া এই আধ্যাত্মিক মহাযজ্ঞের সফল সমাপনী ঘটে ৩১ মে রোববার। সপ্তাহব্যাপী এই কোর্সে শতাধিক সত্যান্বেষী ভাবনাকারী অংশ নিয়ে বুদ্ধের নির্দেশিত খাঁটি বিদর্শন ভাবনার রস আস্বাদন করেছেন। এই আয়োজন যেন বর্তমান বৌদ্ধ সমাজে এক অভূতপূর্ব জাগরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো।
কপটতার বিরুদ্ধে সিংহের মতো গর্জনকারী, হাটহাজারীর গুমানমর্দন আরিয়া চতুরার্যসত্য আন্তর্জাতিক বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ভদন্ত আরিয়া ওয়েংসা থেরো বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর এক ক্ষণজন্মা পুরুষোত্তম। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ফারোয়া ধুপপানির গহীন অরণ্যচারী এই অর্হৎ মার্গলাভী সাধক প্রথাগত ধ্যান-ধারণার মূলে এক প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট ও আপসহীন ঘোষণা, "এক বনে সিংহ একটাই থাকে।" কে আসল আর কে নকল, সময়ের আবর্তনে তা উন্মোচিত হবেই। মহামতি ধর্মরাজ বুদ্ধের শাসনে কোনো মহাচোরের স্থান নেই।
আজকের দিনে যখন ধর্মের নামে মেকি আধ্যাত্মিকতার বাজার জমে উঠেছে, তখন আরিয়া ভান্তে ছুড়ে দিয়েছেন এক ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ। কোনো ভিক্ষু যদি প্রতিসম্ভিদাসহ ষড়াভিজ্ঞ অর্হৎ অনুবুদ্ধ দাবি করেন, তবে তাঁর প্রতি সম্যক দৃষ্টি পরিষদের আহ্বান— তিনি যেন প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ‘স্রোতাপন্ন হলে কীভাবে বুঝবেন’ এবং ‘চতুরার্যসত্যের দ্বাদশ প্রকার জ্ঞানের লোকোত্তর সদ্ধর্ম দেশনা’ প্রদান করেন। একজন সত্যকার অরহতের মুখ থেকে এই পরম সত্য শ্রবণ করা দেব-মানব প্রত্যেকের জন্মগত অধিকার। আরিয়া ভান্তে বাংলাদেশের সমস্ত ভিক্ষুসংঘ ও দায়ক সমাজকে গুমানমর্দনের ভাবনা কেন্দ্রে এসে প্রশ্ন ও পরীক্ষার মাধ্যমে সত্যতা যাচাইয়ের উন্মুক্ত আমন্ত্রণ ও নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তা ও সম্যক দৃষ্টি পরিষদের সঞ্জয় বড়ুয়া এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "কমঝুড়ি জ্ঞান নিয়ে পূজনীয় আরিয়া ভান্তে ধর্মপ্রচারে নামেননি। আর্যনিন্দা মহাপাপ, তাই বিভ্রান্তি ছড়ানোর আগে সবাইকে কথাবার্তায় সাবধান হতে হবে, অন্যথায় এর খেসারত দিতে হবে জন্ম-জন্মান্তরে।"
একজন বিদর্শন সাধিকা বলেন, "আমরা এতদিন বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘকে পূজা করেছি। কিন্তু এখন আমরা ধ্যানের মাধ্যমে বুদ্ধের ধর্মের অচিন্তনীয় শক্তি প্রত্যক্ষ করছি।"
আগামী ৮ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ৫ দিনব্যাপী সম্পূর্ণ ফ্রি বিদর্শন ভাবনা কোর্স আয়োজন করা হয়েছে গুমানমর্দন কেন্দ্রে। এখানে অংশগ্রহণকারীদের অষ্টপরিষ্কারসহ সবকিছু সম্পূর্ণ ফ্রি দান করা হবে।
সমাপনী দিবসে সভাপতিত্ব করেন সংঘানন্দ মহাথেরো। অন্যান্য বক্তারা ছিলেন প্রফেসর ড. রূপেন বড়ুয়া বাবলা, প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বড়ুয়া ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এই আধ্যাত্মিক আন্দোলনকে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
যোগাযোগ: ০১৭৯৮৭৬২৪৬৫ (সম্যক দৃষ্টি পরিষদ)।
ডিসিকে /এমজেডএইচ







