সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ১১:৩৫

অসাবধানতাতেই হয় শিশুর এমন মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
অসাবধানতাতেই হয় শিশুর এমন মৃত্যু

শাহরাস্তিতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৭ বছরের শিশু শেখ জায়েদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) রাতে মারা গেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৬ মে দুপুরে বাড়ির উঠানে আগুনের গর্তে পড়ে যায় জায়েদ। তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় প্রেরণ করেন। ৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শিশু জায়েদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। জায়েদ শাহরাস্তি বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী। তার বাবা জহিরুল ইসলাম একজন প্রবাসী, মা নাঈমা আক্তার গৃহিণী। শনিবার দুপুরে উপজেলার দেবকরা এলাকায় নামাজে জানাজাশেষে জায়েদ কে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

কচুয়ার তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর শিক্ষার্থী সামিয়া ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি স্কুল মাঠে খেলাধুলা করার সময় ময়লার স্তূপে লাগানো আগুনে পুড়ে যায়। তাকেও যেতে হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউটে। চিকিৎসা নিলেও ২৬ জানুয়ারি সামিয়া মারা যায়। এজন্যে প্রধান শিক্ষকসহ আরো ৮জন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত হয়। এ ঘটনার ১ বছর ৩ মাস ২৫দিনের মাথায় চলতি ২০২৬ সালের ১৬ মে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ২২ মে জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে শাহরাস্তির বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলের নার্সারি শ্রেণীর শিক্ষার্থী জায়েদ। তবে স্কুল মাঠের পাশে ময়লার স্তূপের আগুনে পড়ে নয়, নিজ বাড়িতে আগুনের গর্তে পড়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। কথা হলো, একটি বাড়িতে আগুনের গর্ত থাকবে কেন? এ গর্ত কি দুনিয়াবি দোজখের কোনো নমুনা? যদি আগুনের গর্ত অনিবার্য কারণে কোনো বাড়িতে রাখতেই হয়, তাহলে তার চারপাশে শিশুদের রক্ষায় প্রতিবন্ধক জাতীয় কিছু রাখা হলো না কেন? নিশ্চয়ই অসাবধানতা, উদাসীনতা ও অবহেলার কারণে। ‘আরে আল্লাহ ভরসা কিছু হবে না’ এমন কথায় আমাদের সমাজের অধিকাংশ লোক বিপদের ঝুঁকি হতে পারে এমন অনেক কিছুই এড়িয়ে যায়। এতেই হয় বিপদ। শিশুরা আগুন ও পানির ঝুঁকি বুঝতে পারে না বলেই অবলীলায় আগুন ও পানির সংস্পর্শে যায় এবং হতাহত হয়। এটা শিশুদের পিতামাতা/অভিভাবক ও শিক্ষকসহ শিশুদের বেড়ে ওঠার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে বুঝতে হবে। অন্যথায় ফুটফুটে সামিয়া ও জায়েদদের বিপদ থেকে বঁাচানো যাবে না, তাদের আগুন-পানিজনিত ঘটনায় আহত ও নিহত হবার হাত থেকে বঁাচানো যাবে না বলে আমরা মনে করি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়