সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১০:২২

সাহিত্য একাডেমিসহ চাঁদপুর শহরে চুরি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে

অনলাইন ডেস্ক
সাহিত্য একাডেমিসহ চাঁদপুর শহরে চুরি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে

চাঁদপুর শহরে ইদানীং একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। সামনে ঈদের ছুটিতে আরো যে কতো চুরির ঘটনা ঘটবে, সেটা কে জানে? ঈদের আগেই চোর জানান দিয়ে চলছে তার শক্তিমত্তা সম্পর্কে। এমন একটি চুরি সম্পর্কে গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটির বিবরণ হচ্ছে : চাঁদপুর শহরের জোড় পুকুরপাড় এলাকায় অবস্থিত চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমিতে দুর্র্ধষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। চোরচক্র একাডেমির অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্পিকার, চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে। শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) ভোরে এ চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় সংঘবদ্ধ চোরচক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে। জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সাহিত্য একাডেমিতে লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের বই পাঠ ও গল্প-আড্ডা হয়। রাত ১০টার দিকে অফিস কক্ষসহ একাডেমির মূল ফটকে তালা লাগিয়ে সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান। পরদিন সকালে অফিস সহকারী একাডেমিতে এসে অফিস কক্ষের দরজার তালা খোলা দেখতে পান। তখন ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, অফিসে থাকা কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্পিকার ও চার্জার ফ্যানসহ বেশ কিছু মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে একাডেমির মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের অবগত করেন। খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়েজ আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সাহিত্য একাডেমির সহ-সভাপতি আবদুল্লাহিল কাফী, মহাপরিচালক কাদের পলাশ, পরিচালক মাইনুল ইসলাম মানিক, আশিক বিন রহিমসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। একাডেমির পরিচালক মাইনুল ইসলাম মানিক জানান, অফিস রুম এবং মূল গেটে তালা দেয়া ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে, চোর চক্র ছাদ বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে। চুরি যাওয়া অফিস কক্ষের কম্পিউটারে আমাদের একাডেমির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি, চিঠি ও লেখা ছিলো। এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্যে প্রয়োজনীয় আলামত ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম কেন্দ্র চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমিতে এ ধরনের চুরির ঘটনায় লেখক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

চাঁদপুর শহরে বৈদ্যুতিক তার চুরি তো গত এক বছরের বেশি সময় ধরে মহামারী আকার ধারণ করেছে। চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাক রোড (শহীদ কালাম-খালেক-সুশীল-শঙ্কর সড়কে)-এর অদূরে চাঁদপুর জমিন হাসপাতালে উপর্যুপরি তার চুরির পর পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে পড়ে কিছু চোর ধরেছিলো প্রায় এক বছর আগে। তারপর এ চোরেরা জামিনে এসে ‘আজান দিয়ে’ তার চুরি করে চলছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের নিচতলায় এসির আউটডোরের মূল্যবান তার চুরির পর থানায় মৌখিক অভিযোগের আলোকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, তবে চোর ধরতে পারে নি, মালামালও উদ্ধার করতে পারে নি। তারপর রোটারী ভবনে দ্বিতীয় বার চুরি করতে আসলে মালামালসহ এক চোর ধরা পড়ে। পুলিশ সহযোগী চোরদের ধরতে পারে নি। গত ঈদুল ফিতরের ছুটিতে চাঁদপুর শহরের চিত্রলেখার মোড়ে অ্যাপোলো-মজিদ টাওয়ারের তৃতীয় তলায় দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ কার্যালয়ের সাইনবোর্ডের তার চুরি করে নিয়ে যায়। ক’দিনের ব্যবধানে জেনারেটরের তারও চুরি করে নিয়ে যায়। থানায় অভিযোগ করা হয়, পুলিশ তদন্তে আসে। মালামাল উদ্ধার ও চোর শনাক্ত কিছুই করতে পারে নি পুলিশ। এতে চোর সাহসী হয়ে আটতলা বিশিষ্ট অ্যাপোলো-মজিদ টাওয়ারের বৈদ্যুতিক সংযোগের পুরো তারই কেটে নিয়ে যায়। টাওয়ার কর্তৃপক্ষ বাড়তি ঝামেলা ভেবে থানার দ্বারস্থ হয় নি। মিশন রোডে রেইন বো হাসপাতালে এসির আউটডোরের তার চুরি হয়েছে। এভাবে শহরের বহু স্থানে তার চুরির অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে ও ঘটে চলেছে, চাঁদপুর মডেল থানার অদক্ষ পুলিশ অফিসাররা তার কোনো বিহিত করতে পারে নি। তাদেরকে অভিযোগকারীরা তাগিদ দিলে তারা বড়ো বড়ো অভিযোগ/মামলা নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত বলে টালবাহানা করে চলছে। এতে চোর চক্র উৎসাহী হয়ে তাদের হাত লম্বা করে ফেলেছে। তারা চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র কালীবাড়ি মোড়ের সন্নিকটস্থ জোড় পুকুর পাড়ে অবস্থিত সাহিত্য একাডেমিতে মূল গেটের তালা না ভেঙ্গে ছাদ বেয়ে এসে অফিস কক্ষের কড়া কেটে ঢুকে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) দিবাগত রাতে মূল্যবান মালামাল নিয়ে নির্বিঘ্নে চম্পট দেয়। পুলিশ তদন্তে এসেছে, আলামত সংগ্রহ করেছে। এ সম্পাদকীয় নিবন্ধ লেখা পর্যন্ত মালামাল উদ্ধার ও চোর শনাক্ত হয় নি। আল্লাহ না করুক, সামনে ঈদুল আজহার ছুটিতে হয়তো এর চেয়ে দুর্ধর্ষ চুরি হলে পুলিশের বড়ো কর্তাদের টনক নড়বে।

একসময় চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডের উত্তরে পুরাতন আদালত পাড়ায় অবস্থিত চাঁদপুর শহর পুলিশ ফাঁড়ির জনবল মূল শহরে নৈশকালীন টহল, অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ অনেক কাজই করতো। ১৯৮৪ সালে চাঁদপুর মহকুমা জেলায় উন্নীত হলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় এই পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় চালু করা হয়। এতে এই ফাঁড়িটি শহরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আশাব্যঞ্জক তৎপরতা ও সাফল্য প্রদর্শন করে। শহরবাসীর নিকট চাঁদপুর মডেল থানার ওসির চেয়ে এই ফাঁড়ির ইনচার্জের পরিচিতি ছিলো ব্যাপক। এই ফাঁড়ির জন্যে আলাদা ভবন হয়, পুলিশ সুপার কার্যালয় এখান থেকে ষোলঘরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বদিক লাগোয়া স্থানে বিরাট পরিসরে চলে যায়। বস্তুত তারপর নূতনবাজার এলাকার এই শহর বা টাউন পুলিশ ফাঁড়ি ক্রমশ নিষ্প্রভ হতে থাকে। আর পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ি বিদ্যমান সক্রিয়তা বজায় রাখে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর চাঁদপুর শহরে ১৯৯৯ সাল থেকে সুনামের সাথে চলমান কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের প্রতিও থানা পুলিশ অজ্ঞাত কারণে ঔদাসীন্য প্রদর্শন করে চলছে। এতে দু-তিন জায়গায় কমিউনিটি পুলিশিং ভালো চললেও অন্যান্য স্থানে ঢিমেতালে চলছে। ফলে চুরি বেড়েছে, অন্যান্য অপরাধ পূর্বের চেয়ে বেড়েছে। ইতোমধ্যে নূতন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এমতাবস্থায় চুরি বেড়ে যাওয়াটা উদ্বেগজনক ও প্রশ্নবোধক। আমরা জেলা পুলিশকে চাঁদপুর শহরে চুরিরোধে পুরাণবাজার ও নূতনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তত্ত্বাবধানে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নৈশকালীন টহল বাহিনীকে সাথে নিয়ে পুলিশকে যৌথভাবে কাজ করানো যায় কিনা সেটা ভেবে দেখার সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়