শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ১০:০৬

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এমন উদ্বুদ্ধকরণ সভা সর্বত্র হওয়া দরকার

অনলাইন ডেস্ক
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এমন উদ্বুদ্ধকরণ সভা সর্বত্র হওয়া দরকার

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মতলব দক্ষিণের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সদস্যদের নিয়ে ১৫% বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) মতলব দক্ষিণ জোনাল অফিসের ডিজিএম জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে গ্রাহক সদস্যগণকে নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবহারে এ উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মতলব দক্ষিণ জোনাল অফিসের আওতায় বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়্যারিং পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার। সভায় শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার গ্রাহক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা পল্লী বিদ্যুতের এ ধরনের সচেতনতামূলক সভার আয়োজনকে ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতে যেনো এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকে সেই প্রত্যাশা করেন। অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিলো প্রশ্নোত্তর পর্ব। লোডশেডিং, বিদ্যুৎ বিল, নতুন সংযোগ, মিটার স্থানান্তরসহ নানা প্রশ্নের উত্তর দেন ডিজিএম জসিম উদ্দিন।

লোডশেডিং সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা নিজেরাই চাইলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়ে লোডশেডিং মুক্ত করতে পারি। কমপক্ষে ১৫% বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্যে তিনি নিম্নের পরামর্শ দেনÑফিলামেন্ট যুক্ত লাইট লোড ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি লাইট ব্যবহার করতে হবে; অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকতে হবে; খালি ঘরে অথবা জনশূন্য ঘরে লাইট, ফ্যান এবং অন্যান্য লোড বন্ধ রাখতে হবে; আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প এবং অন্যান্য সকল ওয়্যারিং করার সময় যথাযথ মানের গ্রাউন্ডিং করতে হবে; সকল ধরনের ওয়্যারিং কাজে অনুমোদিত এবং মানসম্মত ক্যাবল বা তার ব্যবহার করতে হবে; প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান দ্বারা যে কোনো ধরনের বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং কাজ করতে হবে; দিনের বেলায় বেশিরভাগ সময় সূর্যের আলো ব্যবহার করতে হবে; প্রয়োজনে সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে; প্রয়োজনের অতিরিক্ত এসি ব্যবহার না করা ও এসির তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড রাখা এবং এসি’র ফিল্টার মাসে অন্তত একবার পরিষ্কার করতে হবে; বৈদ্যুতিক বাল্বের উপরিভাগে ধুলাবালি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে; জ্বালানি দক্ষ ওহাবৎঃবৎ ঞবপযহড়ষড়মু সম্বলিত রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করতে হবে; বাজারে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং উচ্চতর সার্ভিস ভ্যালুর ফ্যান ব্যবহার করতে হবে; ডেস্ক ভিত্তিক প্রিন্টার, ফটোকপিয়ার এবং ফ্যাক্স ব্যবহারের পরিবর্তে কেন্দ্রীয়ভাবে নেটওয়ার্ক সংযোগের মাধ্যমে অল্প সংখ্যক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে; ব্যক্তি পর্যায়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহারের পরিবর্তে গ্রুপভিত্তিক ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

যখন কোনো কিছুর সঙ্কট ঘনীভূত হয়, তখন সে সঙ্কট থেকে উত্তরণের বিষয়ে অনেক আলোচনা শুরু হয়। অথচ সঙ্কট শুরুর আগে এমন আলোচনা করলে সঙ্কট মোকাবেলা খুব সহজ হয়। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের প্রবণতা এমন, পূর্ব সতর্কতা অবলম্বনের কোনো কথা কেউ আগেভাগে বললে অধিকাংশ জন বিরক্ত হয়। যেমন ধরুন, প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে আমাদের দেশে মারাত্মক বিদ্যুৎ সঙ্কট হয়। এ সঙ্কট মোকাবেলায় সাশ্রয়ী হওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকে না। এই সাশ্রয়ের সঠিক উপায় প্রায় সকলেরই জানা থাকে না। এজন্যে যদি শীত বিদায় নেওয়ার প্রাক্কাল থেকে আসন্ন গ্রীষ্মে কীভাবে বিদ্যুৎ সঙ্কটকালে সাশ্রয়ের মাধ্যমে সঙ্কট মোকাবেলার উপায় অবলম্বন করতে হবে, সেটা সম্পর্কে বলে দেয়া হয়, তাহলে সেটা হয় সময়োচিত কাজ। কিন্তু মানুষ বিরক্ত হবার আশঙ্কায় সেটা করা হয় না। এমন আশঙ্কাকে মাথা থেকে সরিয়ে দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে দেশের সর্বত্র বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উপায় সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণার পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত উদ্বুদ্ধকরণ সভা করতে হবে। যেমনটি মতলব দক্ষিণে পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। আসলে এমন সভা করলে সাধারণ গ্রাহকের মুখোমুখি হতে হয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রকাশের সদিচ্ছা প্রকাশ পায়। কথা হলো, এমন সদিচ্ছা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের মধ্যে খুব কমজনের মধ্যেই আছে। এটা বিদ্যুৎ সঙ্কটের চেয়ে যেন অনেক বড়ো সঙ্কটই বটে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়