শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:০৪

মেঘনায় কোনো জনপ্রতিনিধির এমন অভিযান বিরল

অনলাইন ডেস্ক
মেঘনায় কোনো জনপ্রতিনিধির এমন অভিযান বিরল

চঁাদপুর কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন লিখেছেন, চঁাদপুরের প্রাণ মেঘনা নদীতে জাটকা নিধনরোধে সরকারি অভিযান চলমান থাকলেও মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদাসীনতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) চঁাদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক সরাসরি নদীতে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নিজ চোখে দেখতে পান, যেসব কর্মকর্তার নদীতে নিয়মিত টহল দেয়ার কথা, তারা স্পিডবোটে অবস্থান করলেও কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এ সময় নদীতে জাটকা নিধনের ঘটনাও ধরা পড়ে, যা অভিযানের সময় দায়িত্বপ্রাপ্তদের উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ না করার অভিযোগকে আরও জোরালো করে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জাটকা নিধন প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন—“সরকার কি আপনাদের ঘুমানোর জন্যে পাঠিয়েছে?”

মৎস্য অধিদপ্তরের জাটকা রক্ষা কার্যক্রমে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও মাঠ পর্যায়ে কার্যকর নজরদারির অভাবে অবৈধ জাটকা আহরণ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় জেলেরা জানান, নদীতে নিয়মিত কার্যকর টহল না থাকায় একটি চক্র অবাধে জাটকা নিধন চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাটকা নিধন ইলিশের ভবিষ্যৎ উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যে দীর্ঘমেয়াদী হুমকি। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়, নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের পরিস্থিতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

অতীতে আমরা চঁাদপুরের কোনো এমপিকে জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় মেঘনা-পদ্মায় অভয়াশ্রম চলাকালে গোপনীয়তা রক্ষা করে অভিযানে নামতে দেখিনি, তবে সদলবলে, ঢাকঢোল পিটিয়ে নামতে দেখেছি। গোপন-অভিযানে যে সত্যিকার চিত্র ফুটে উঠে, সেটা ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপির মেঘনা-অভিযানে প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ড, সর্বোপরি মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত টাস্ক ফোর্স অভয়াশ্রমে যেভাবে অভিযান চালানোর কথা, সেটা যে প্রতিটি অভয়াশ্রম চলাকালে চলে না, সেটা নিয়ে চঁাদপুর কণ্ঠ সহ অন্যান্য গণমাধ্যমে কতোবার যে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে এবং এ সম্পাদকীয় নিবন্ধে কতোবার যে লিখা হয়েছে, সেটার হিসাব দেওয়া কঠিন। কিন্তু টনক নড়ে না ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের, এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। অতীতে দেখা গেছে, অভয়াশ্রমের নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে মাছ ধরার ক্ষেত্রে জেলেরা শাসক দলের বিপথগামী নেতাকর্মীদের আশ্রয়প্রশ্রয় এবং মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডের নিষ্ক্রিয়তায় তৎপর থেকেছে। এখনও অনেকটা তা-ই। এ বাস্তবতা দেখতে গোপন অভিযানে এমপির মতো জনপ্রতিনিধিরা সাধারণত নামেন না। এর বিপরীতে মেঘনা তীরবর্তী চঁাদপুর সদর ও হাইমচর এলাকার নবনির্বাচিত এমপি নেমে জনমনে প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। যেটা পরিবর্তন ও সতর্কতার অনেক বড়ো ইঙ্গিত। এমপির এমন অভিযানেও গত ক’দিনে চঁাদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলা টাস্ক ফোর্স আহামরি অভিযান চালিয়ে তাক লাগানোর মতো কিছু করেছে বলে এ সম্পাদকীয় নিবন্ধ লেখা পর্যন্ত মনে হয় নি। এটা উদ্বেগজনক। বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই, প্রতিদিন চঁাদপুর শহরের পুরাণবাজারের নদী তীরবর্তী এলাকায় যেভাবে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি হয়, তাতে টাস্ক ফোর্সের সাথে সংশ্লিষ্টরা তৎপর আছে কি নেই সেটা উপলব্ধি করতে কষ্ট হয় না। আমরা গোপন-অভিযানের সাথে সাথে এমপি মহোদয়কে অভয়াশ্রম কার্যক্রমে প্রাত্যহিক মনিটরিং অব্যাহত রেখে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করার জন্যে জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়