প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৩
প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান
আধুনিক উন্নত চাঁদপুর গড়তে সকলের সহযোগিতা চাই
আশা করি জেলার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সাংবাদিকগণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনায় জেলার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন চাঁদপুরে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীর সঞ্চালনায় জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন, আধুনিক উন্নত চাঁদপুর গড়তে সকলের সহযোগিতা চাই। আর সে সহযোগিতা পেলে আশা করি কাঙ্ক্ষিত চাঁদপুর গড়তে সক্ষম হবো।
|আরো খবর
তিনি বলেন, গত দুদিন ঘুরে দেখলাম এই চাঁদপুর শহর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। বিদ্যালয়গুলোর সামনে খেলাধুলার মাঠ নেই। এটি খুবই দুঃখজনক। আলাপ করে দেখলাম, স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্যে হাঁটার জায়গাও নেই। যদিও আমার মন খারাপ হয়েছে, তবে সবাই মিলে একসাথে কাজ করলে যে ক’দিন থাকি এই অবস্থাকে উন্নত করতে পারবো।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের দায়িত্ব সম্পর্কে আপনারা ভালোভাবে জানেন। তারপরেও বলছি, আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা আপনার কাছে তখনই প্রধান হতে পারে, যদি আপনি প্রথম দুটি ঠিক রাখতে পারেন। তাহলে আমাদের কাছে প্রশ্ন করার পুরো নিশ্চয়তা ও সহযোগিতা পাবেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর জন্যে আপনারা আমাকে পরামর্শ দিতে এবং সমস্যা তুলে ধরতে পারেন। অন্য কিছু নয়। আমি দেখবো কাকে কোথায় দায়িত্ব দেয়া যায়। তবে আপনাদের পরামর্শগুলো আমি গ্রহণ করার চেষ্টা করবো। আমার বিশ্বাস, সকলের সহযোগিতায় একটি আধুনিক উন্নত চাঁদপুর গড়তে পারবো।
আমেরিকা-ইসরাইয়েল ও ইরান যুদ্ধে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত বছর এ সময়ে এতো জ্বালানী প্রয়োজন হয়নি। আমার ধারণা, অনেকে সামনে সংকট হবে এমন ভেবে জ্বালানি জমিয়ে রাখছেন। যে কারণে এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কারণ এই মন্ত্রণালয়ে আমার কাজ করা এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে। তবে জ্বালানি তেল মজুদদারির বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই অভিযানে যাবো।
জেলা প্রশাসক বলেন, জাটকা সংরক্ষণের বিষয়ে অনেকেই তথ্য তুলে ধরেছেন। অভিযানের দ্বিতীয় মাস চলছে। এটি নিয়ে কাজ করবো। এছাড়াও সামনে এসএসসি পরীক্ষা, সেখানে পূর্বের সফলতার কথা জেনেছি। সেটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। শিক্ষামন্ত্রী আমাদের চাঁদপুরের। তিনি নকল প্রতিরোধে সফল হয়েছিলেন। আমরা চেষ্টা করবো শতভাগ নকলমুক্ত রেখে এবং জিরো টলারেন্স নীতিতে চাঁদপুরে সেই সফলতা ধরে রাখতে।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমার কার্যালয়ে যেসব সভা হয়, সব ক'টিতে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগ নেই। মূলত যারা সদস্য তারাই থাকবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে আমাদের সভা শেষে সভার আলোচনা ও সিদ্ধন্তগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরা যেতে পারে। যাতে আপনারা সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। জেলা পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা আপনাদের মেহমান। সে হিসেবে আমাদের কাজ করার এবং সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলে টেলিভিশন স্ক্রলে (টিকারে) দেয়ার আগে আমাদের জানাবেন--এটা আপনাদের কাছে অনুরোধ। আপনারা নিউজে দিবেন, তবে আমাদেরকে জানাবেন যাতে ব্যবস্থা নিতে পারি।
তিনি দৃঢ়চিত্তে বলেন, সারাজীবন সততার সাথে কাজ করেছি। সারাজীবন কাজ করে এ সময় এসে সততা লুন্ঠিত হবে তা আমি অবশ্যই চাইবো না।
চাঁদপুরে কাজ করার আগ্রহের বিষয়ে জেলা প্রশাসক এখানকার পানি, বায়ু, ইটভাটার কথা বলেন। তিনি বলেন, যদি ইটভাটার ক্ষতিকর দিক থাকে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। নোংরা পরিবেশের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে আমার কাজ করার আগ্রহ আছে। এছাড়াও শিল্প-সাহিত্য, ধর্মীয় চর্চা ও ক্রীড়াকে এগিয়ে নিতে কাজ করবো। আশা করি সুন্দর একটি চাঁদপুর গড়ে তুলতে আমরা অব্যশই মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করবো।
মতবিনিময় শুরু করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন। সাংবাদিকদের পরিচিতি পর্ব শেষে নবাগত জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত পরিচিতি স্লাইডের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন সহকারী কমিশনার তানভীর রাব্বী।
এরপর সভার সঞ্চালনায় ছিলেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। সূচনা বক্তব্যে জনাব সোহেল রুশদী বলেন, ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর প্রেস ক্লাব ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বর্তমানে প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র খুবই শক্তিশালী। চাঁদপুর প্রেসক্লাব সারাদেশের জন্যে মডেল। চাঁদপুর প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের কল্যাণে, মানবতার কল্যাণে সৃজনশীলভাবে কাজ করছে। চাঁদপুরের সাংবাদিকরা জনপ্রশাসন বান্ধব। সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ সহ সকলের সাথে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করেন। চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ফরিদ আহমেদ মানিক মহোদয় চাঁদপুরের উন্নয়নে অনেক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষত্রে আশা করছি প্রশাসনও সহযোগিতা করবে। চাঁদপুর প্রেসক্লাব পাশে রয়েছে। তিনি বলেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকতা পেশাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের গুরুত্ব দেন। এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরে সাংবাদিকদের ফোন করেছেন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে,সম্মান দিতে হবে। আমরা পেশাদারিত্বের সাথে সাংবাদিকতা করি। চাঁদপুরের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করছে।
উন্মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার, ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, শরীফ চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন মিলন, শাহাদাত হোসেন শান্ত ও রহিম বাদশা, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, সাবেক সাধারণ








