মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্লা সেলিম!

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩২

কৃতী সাঁতারু মো. আল-আমিন এখন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সাঁতার প্রশিক্ষক

ক্রীড়াকণ্ঠ প্রতিবেদন
কৃতী সাঁতারু মো. আল-আমিন এখন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সাঁতার প্রশিক্ষক

হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর সাবেক শিক্ষার্থী মো. আল-আমিন সাঁতারে নৈপুণ্য ও বিপুল কৃতিত্বের ফলস্বরূপ রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সাঁতার প্রশিক্ষক হিসেবে তাঁর পেশাগত দায়িত্বপালন করছেন। সম্প্রতি তিনি চাঁদপুর কণ্ঠের পাক্ষিক আয়োজন ‘ক্রীড়াকণ্ঠে’র মুখোমুখি হন এবং সাঁতারকেন্দ্রিক কৃতিত্ব ও পেশাসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তাঁর কথাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো :

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি বর্তমানে কী করছেন? পেশাগত জীবন কেমন উপভোগ করছেন?

মো. আল-আমিন : আমি বর্তমানে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সাঁতার প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। পাশাপাশি ভাইদের সাথে ব্যবসায় সময় দেই। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি আমার পরিবার নিয়ে ভালো আছি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : সাঁতারে আপনার সব কৃতিত্ব কি উল্লেখ করতে পারবেন?পারলে বর্ণনা দিন। ভালো দু থেকে তিনটি ছবিও দিতে পারেন।

মো. আল-আমিন : আমার সাঁতার জীবন শুরু হয় ২০০২ সালে হাজীগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজ থেকে, তখন আমি ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি। আমি তিনবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। ফ্রি স্টাইল এবং ব্যাক স্ট্রোকে অংশগ্রহণ করে আমি তিন বছরে পাঁচটি সিলভার এবং একটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করি। ২০০৬ সাল থেকে জুনিয়ার ন্যাশনাল সাঁতারে অংশগ্রহণ করি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে। ১৩-১৪ বছরের বালক গ্রুপে ১৩ টি ইভেন্টের মধ্যে আমি নয়টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করি। তাতে আমার অর্জন সাতটি স্বর্ণপদক ও দুটি রৌপ্য পদক। ২০০৭ সালে জুনিয়র ন্যাশনাল সাঁতারে অংশগ্রহণ করি বিকেএসপি থেকে। ১৫ -১৭ বছরের বালক গ্রুপে ১৩টি ইভেন্টের মধ্যে আমি এগারোটিতে অংশগ্রহণ করি। তাতে আমি নয়টি স্বর্ণপদক এবং দুটি রৌপ্য পদক অর্জন করি। ওই বছরে আমি সেরা সাঁতারু হিসেবে নির্বাচিত হই। ২০০৮ সালে জুনিয়র ন্যাশনাল সাঁতারে অংশগ্রহণ করি বিকেএসপি থেকে। ১৫-১৭ বছরের বালক গ্রুপে ১৩ টি ইভেন্টের মধ্যে আমি আটটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করি, তাতে ছয়টি স্বর্ণপদক এবং দুটি রৌপ্য পদক অর্জন করি। ২০০৯ সালে জুনিয়র ন্যাশনাল সাঁতারে অংশগ্রহণ করি বিকেএসপি থেকে। ১৮- ২০ বছরের বালক গ্রুপে অংশগ্রহণ করে ১৩ টি ইভেন্টের মধ্যে আমি দশটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে সাতটি স্বর্ণপদক, দুটি রৌপ্য পদক এবং একটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করি। ২০০৯ সালে সিনিয়র ন্যাশনালে সাঁতারে অংশগ্রহণ করি বিকেএসপি থেকে। দুশো মিটার ব্যাক স্ট্রোক সাঁতারে একটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করি। সাউথ এশিয়ান সুইমিং ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করি। ২০১০ সালে জুনিয়র ন্যাশনাল সাঁতারে অংশগ্রহণ করি বিকেএসপি থেকে। ১৮-২০ বছর বয়সী বালক গ্রুপে অংশগ্রহণ করে ১৩ টি ইভেন্টের মধ্যে আমি সাতটি স্বর্ণপদক এবং দুটি রৌপ্য পদক অর্জন করি। ২০১০ সালে সিনিয়র ন্যাশনাল সাঁতারে অংশগ্রহণ করি পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে। ৪০০ মিটার রিলে ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করি। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ইন্টার ইউনিভার্সিটি গেমগুলোতে সাঁতারে আমার অর্জন এ পর্যন্ত ৪৫টি স্বর্ণপদক, ছয়টি রৌপ্য পদক।

ক্রীড়াকণ্ঠ : সাঁতারে আপনার ওস্তাদ কে? কখন থেকে কীভাবে আপনি সাঁতারে জড়ালেন?

মো. আল-আমিন : সাঁতারে আমার প্রথম প্রশিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্যার, যিনি হাজীগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। এরপরে আমার পরবর্তী প্রশিক্ষক জনাব মো. আবুল কাশেম সায়মন স্যার, যিনি ছিলেন চাঁদপুরের একটি স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রথম প্রশিক্ষক আব্দুল কাদের। বিদেশি কোচ হিসেবে ছিলেন ইমামরা তা কা হিরো, যিনি ছিলেন জাপানিজ; আরো ছিলেন মিস্টার ঝাং ফ্যান, যিনি ছিলেন চাইনিজ। আমার সাঁতার জীবন শুরু হয় ২০০২ সালে, যেটা ছিলো হাজিগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজে একটি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে আমি তিনবার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। ২০০৪ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হই। তারপর থেকে শুরু হয় আমার প্রফেশনাল সাঁতারের সাথে সম্পর্ক।

ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরে আপনার সমবয়সী কৃতী সাঁতারু কে কে? তাদের নাম উল্লেখ করুন, তারা কেমন আছেন, কী করছেন সেটা বলতে পারবেন?

মো. আল-আমিন : সে সময় আসলেই আমার সমবয়সী কেউই ছিলেন না। কিন্তু আমার সিনিয়র অনেকেই ছিলেন, যাদের নাম ছিলো মোহাম্মদ সেলিম, মো. হোসেন, মো. রুস্তম আলী, মো. হাসান ও মোহাম্মদ ওমর ফারুক। আরো অনেকেই ছিলেন, যাদের নাম এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে না। ওনাদের মধ্যে অনেকেই এখন পুলিশে চাকরি করছেন। কেউ আবার ঢাকার বিভিন্ন সুইমিং ক্লাব পরিচালনা করছেন।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার মতে, চাঁদপুরে সাঁতার চর্চা কি আগের মতো আছে? না থাকলে কী কারণে নেই?

মো. আল-আমিন : চাঁদপুরে সাঁতারের চর্চা আগের মতো নেই। চাঁদপুরে সাঁতার চর্চার জন্যে প্রয়োজন সুন্দর পরিবেশ এবং ভালো প্রশিক্ষক। সরকারি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যেমন বলতে পারি খেলাধুলার সরঞ্জাম, খাবার, পোশাক এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হয়। এ বিষয়গুলোর আসলে অনেকটা অভাব, তাই সাঁতারের চর্চা আগের মতো পরিপূর্ণ নেই।

ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরের সাঁতারের উন্নয়নে চাঁদপুর সুইমিং ক্লাবসহ অন্যান্য সাঁতার সংগঠন কী ভূমিকা রাখতে পারে বা রাখা উচিত বলে আপনি মনে করেন? এ ক্ষেত্রে আপনি ব্যক্তিগতভাবে আপনার দক্ষতা, পরামর্শ ও সময় দিয়ে কি সহযোগিতা করতে পারেন?

মো. আল-আমিন : চাঁদপুরে সাঁতারের উন্নয়নে চাঁদপুর সুইমিং ক্লাব সহ অন্যান্য সাঁতার সংগঠনগুলো আমার মতে একসাথে হয়ে যদি কাজ করে তাহলে হয়তো বা চাঁদপুরের সাঁতারের উন্নয়ন হওয়া সম্ভব। যদি সেরকম পরিবেশ থাকে, তাহলে অবশ্যই আমি চেষ্টা করবো চাঁদপুরের সাঁতার উন্নয়নে সহযোগিতা করতে। আমার ব্যক্তিগত মতামত, যদি প্রত্যেকটা প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার সময় বাধ্যতামূলক সাঁতারের একটি পরীক্ষা থাকতো, তাহলে আমাদের চাঁদপুর জেলায় সাঁতারের উন্নয়ন অটোমেটিকলি হতো।

ক্রীড়াকণ্ঠ : সাঁতারে আপনার লেগে থাকাটাকে আপনার পরিবারের সদস্যরা, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা কীভাবে দেখেন?

মো. আল-আমিন : সাঁতারে আমার লেগে থাকার বিষয়টাকে আমার পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী বন্ধু-বান্ধব সকলেই ভালোভাবে দেখছে। তারা আমাকে নিয়ে খুবই গর্ববোধ, শ্রদ্ধা, স্নেহ করেন। তাদের সাথে দেখা হলে সব সময় আমাকে আপ্যায়ন করার চেষ্টা করেন, যাতে আমার মাঝে খুবই ভালোলাগা কাজ করে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : সবার বিশেষ করে শিশুদের সাঁতার শেখার প্রয়োজনীয়তা ও অনিবার্যতা সম্পর্কে কিছু বলুন।

মো. আল-আমিন : শিশুদের সাঁতার শেখানোটা আমার মতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় আমাদের দেশের সকল স্কুলে ভর্তির সময় সাঁতারের একটি পরীক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। সকল পিতা-মাতা তখন সাঁতারের প্রতি গুরুত্ব দেবে। তাহলে আমাদের দেশের সাঁতারের উন্নতি অবশ্যই হবে। আমাদের দেশে প্রায় প্রতিবছরই শিশুরা পানিতে ডুবে মারা যায়। সে মৃত্যুসংখ্যা কমানোর জন্যে অবশ্যই শিশুদেরকে সাঁতার শেখানোটা গুরুত্বপূর্ণ। এতে যেভাবে শিশু মৃত্যুহার কম হবে, ঠিক ওইভাবেই আমাদের দেশে সাঁতারের উন্নতি হবে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার পৈতৃক বাড়ি, পিতা ও মাতার নাম, বর্তমান অবস্থান, স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচয় তুলে ধরুন।

মো. আল-আমিন : আমার পৈতৃক বাড়ি হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার আলীগঞ্জ বেপারী বাড়ি। বাবা মরহুম দেলোয়ার হোসেন এবং মাতা শাহানারা বেগম। বর্তমানে আমি আমার পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকছি। আমার স্ত্রী আছিয়া আক্তার নিপু। সন্তান একজন, নাম মোহাম্মদ সরফরাজ ইসলাম।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়