প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৭
মুমিনের প্রকৃত সাফল্য নাজাত

একজন মু’মিনের প্রকৃত ও সর্বশেষ সাফল্য হচ্ছে নাজাত। অর্থাৎ মানুষের যে অনন্তকালের ঠিকানা পরকাল, সে পরকালে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়াই হচ্ছে একজন মুমিনের প্রকৃত সাফল্য। মহান আল্লাহ কোরআন মাজীদে ইরশাদ করেছেন, ‘যাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে সে-ই সফলতা লাভ করেছে।’ (সূরা আল-ইমরান)। এ আয়াতে কারীমায় বান্দার প্রকৃত সফলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নাজাতকে। আর এই নাজাত লাভের মাধ্যমই হচ্ছে রমজান মাস। বিশুদ্ধ হাদিসগ্রন্থ সহীহ মুসলিম শরীফের একটি হাদিস হচ্ছে : রমজান মাসের প্রতিদিন আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দেয়া হয়।
আজ ২৬ রমজান। রোজা যদি ৩০টি হয় তাহলে আসছে শুক্রবার ত্রিশ রোজা পূর্ণ হবে এবং এদিনই হবে জুমাতুল বিদা। আর যদি রোজা ২৯টি হয় তাহলে গেলো জুমাই হয়ে যাবে জুমাতুল বিদা। এ হিসাব মাথায় রেখেই গেলো জুমায় অনেক মসজিদে খতিব সাহেবগণ খুতবার আলোচনায় জুমাতুল বিদার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নাজাত পাওয়ার উপযুক্ত আমরা কজন হতে পেরেছি? হাদিস শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী রমজান পেয়েও যে ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়ার উপযুক্ত হতে পারলো না, সে চরম হতভাগা। প্রিয় নবী (দঃ) বলেছেন, সে ধ্বংস হোক। আর ক্ষমা না পেলে নাজাত পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। এজন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও নাজাত পাওয়ার সৌভাগ্য হাসিলের চেষ্টা প্রত্যেকের করা উচিত। নাজাতের এই মৌসুমে যথাযথ সংযম, অনুতাপ ও অন্তরকে বিগলিত করে গাফুরুর রাহীম মহান স্রষ্টার দরবারে আমাদের কান্নাকাটি ও দোয়া মোনাজাত করা দরকার। এ কথা স্মরণ রাখতে হবে, আমরা যদি ক্ষমা ও নাজাত না পাই তাহলে ইহকালীন সব সাফল্য ও প্রয়াসই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য।




